দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে বাজার মূলধন ও সূচকের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিতে। সপ্তাহজুড়ে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় ডিএসইর বাজার মূলধন ৪ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। শতাংশের হিসেবে এই প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে থাকা বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। এর আগের সপ্তাহে বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮১ কোটি টাকা।
সপ্তাহের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৮০ দশমিক ০৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। বড় মূলধনী ও ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই-৩০ এ সময়ে ১৫ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস, যা সপ্তাহ ব্যবধানে প্রায় ৩৭ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। সূচকের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বাজারে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।
লেনদেনের চিত্রে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২২৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা কম। মোট লেনদেন কমলেও বাজার সংশ্লিষ্টরা একে ইতিবাচকভাবে দেখছেন কারণ প্রতিদিনের গড় লেনদেন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি সপ্তাহে প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন হয়েছে ৬৬৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা গত সপ্তাহের চেয়ে ৮৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। বাজারে অংশগ্রহণকারী ৩৮৯টি কোম্পানির মধ্যে ২৩১টির দাম বৃদ্ধি এবং ১৪১টির দাম হ্রাস পাওয়ার ঘটনাটি বাজার পরিস্থিতির ভারসাম্যপূর্ণ উন্নতির দিকেই ইঙ্গিত দেয়।
একই ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। সেখানে প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং সিএসসিএক্স ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সপ্তাহ শেষ করেছে। এছাড়া সিএসই-৫০, সিএসই-৩০ এবং সিএসআই সূচকগুলোও গড়ে দুই শতাংশের উপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৬৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬০টির দাম বেড়েছে এবং ৮৭টির দাম কমেছে। দুই বাজারের এই সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, বড় মূলধনী শেয়ারের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শেয়ারের প্রতিও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনলাইন ডেস্ক 























