০৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা: অ্যাপেক্স ওয়েভিংয়ের নথিপত্র গায়েবের নেপথ্যে কারা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ১১:৫০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 335

শেয়ারবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত অ্যাপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস লিমিটেডের আর্থিক স্বচ্ছতা এখন চরম প্রশ্নের মুখে। ২০২৪ এবং ২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে যে ভয়াবহ অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, তাতে স্পষ্ট যে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার জাল বুনেছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই লুটপাটের গন্ধ পেয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) তদন্তের চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে।

নিরীক্ষকদের দেওয়া ‘কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন’ এবং ‘ডিসক্লেইমার অব ওপিনিয়ন’ প্রমাণ করে যে কোম্পানিটি ইচ্ছাকৃতভাবে নথিপত্র গোপন করেছে যাতে তাদের আর্থিক কারচুপি ধরা না পড়ে। ২০২৪ সালে নথিপত্রের অভাবে নিরীক্ষক কোনো মতামতেই পৌঁছাতে পারেননি, যা মূলত বড় ধরনের কোনো চুরির আলামত। ২০২৫ সালের হিসাবেও তিনটি গুরুতর আপত্তির পাশাপাশি ‘এমফাসিস অব ম্যাটার’ দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এই তথাকথিত আর্থিক প্রতিবেদন যে নিছক কাগজের স্তূপ এবং মিথ্যা তথ্যে ঠাসা, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।

কারখানাটির বর্তমান অবস্থা আরও শোচনীয়। গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারায় গত বছরের এপ্রিল থেকে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ। অথচ তারা নির্লজ্জের মতো কারখানা বন্ধ রাখার মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েই চলেছে। ১৯৯৫ সালে আইপিও’র মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ২৭ কোটি টাকা পকেটে ভরে কোম্পানিটি আজ দেউলিয়া হওয়ার নাটক সাজাচ্ছে। ওটিসি মার্কেট থেকে এসএমই প্ল্যাটফর্মে এসেও তাদের চিরাচরিত জালিয়াতির স্বভাব বদলায়নি।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিএসইসি এখন ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে এই জালিয়াতির হোতাদের পরিচয় জানতে চেয়েছে। পরিচালনা পর্ষদ থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিএফও এবং কোম্পানি সচিব—যারাই এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। দায়সারা অডিট রিপোর্টের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার এই সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ হওয়া জরুরি। অ্যাপেক্স ওয়েভিংয়ের এই তদন্ত কেবল একটি কোম্পানির বিচার নয়, বরং পুরো বাজারের লুটেরা চক্রের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হতে হবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক ‘কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন’ থাকার অর্থ হলো সেই হিসাবের ওপর আর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। বিএসইসির এই কঠোর পদক্ষেপ কেবল অ্যাপেক্স উইভিং নয়, বরং পুরো শেয়ারবাজারের আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এতে একদিকে যেমন অপরাধীরা চিহ্নিত হবে, অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা: অ্যাপেক্স ওয়েভিংয়ের নথিপত্র গায়েবের নেপথ্যে কারা

প্রকাশিত : ১১:৫০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শেয়ারবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত অ্যাপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস লিমিটেডের আর্থিক স্বচ্ছতা এখন চরম প্রশ্নের মুখে। ২০২৪ এবং ২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে যে ভয়াবহ অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, তাতে স্পষ্ট যে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার জাল বুনেছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই লুটপাটের গন্ধ পেয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) তদন্তের চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে।

নিরীক্ষকদের দেওয়া ‘কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন’ এবং ‘ডিসক্লেইমার অব ওপিনিয়ন’ প্রমাণ করে যে কোম্পানিটি ইচ্ছাকৃতভাবে নথিপত্র গোপন করেছে যাতে তাদের আর্থিক কারচুপি ধরা না পড়ে। ২০২৪ সালে নথিপত্রের অভাবে নিরীক্ষক কোনো মতামতেই পৌঁছাতে পারেননি, যা মূলত বড় ধরনের কোনো চুরির আলামত। ২০২৫ সালের হিসাবেও তিনটি গুরুতর আপত্তির পাশাপাশি ‘এমফাসিস অব ম্যাটার’ দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এই তথাকথিত আর্থিক প্রতিবেদন যে নিছক কাগজের স্তূপ এবং মিথ্যা তথ্যে ঠাসা, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।

কারখানাটির বর্তমান অবস্থা আরও শোচনীয়। গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারায় গত বছরের এপ্রিল থেকে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ। অথচ তারা নির্লজ্জের মতো কারখানা বন্ধ রাখার মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েই চলেছে। ১৯৯৫ সালে আইপিও’র মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ২৭ কোটি টাকা পকেটে ভরে কোম্পানিটি আজ দেউলিয়া হওয়ার নাটক সাজাচ্ছে। ওটিসি মার্কেট থেকে এসএমই প্ল্যাটফর্মে এসেও তাদের চিরাচরিত জালিয়াতির স্বভাব বদলায়নি।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিএসইসি এখন ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে এই জালিয়াতির হোতাদের পরিচয় জানতে চেয়েছে। পরিচালনা পর্ষদ থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিএফও এবং কোম্পানি সচিব—যারাই এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। দায়সারা অডিট রিপোর্টের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার এই সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ হওয়া জরুরি। অ্যাপেক্স ওয়েভিংয়ের এই তদন্ত কেবল একটি কোম্পানির বিচার নয়, বরং পুরো বাজারের লুটেরা চক্রের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হতে হবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক ‘কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন’ থাকার অর্থ হলো সেই হিসাবের ওপর আর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। বিএসইসির এই কঠোর পদক্ষেপ কেবল অ্যাপেক্স উইভিং নয়, বরং পুরো শেয়ারবাজারের আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এতে একদিকে যেমন অপরাধীরা চিহ্নিত হবে, অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।