সূচকের ভয়াবহ রক্তক্ষরণে বিনিয়োগকারীদের পকেট কাটছে ডিএসই। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে ফের রক্তগঙ্গা বয়ে গেল। আজ রোববার লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের যে ভয়াবহ পতন হয়েছে তা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। একদিকে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন অন্যদিকে সূচকের এই নিম্নমুখী মহোৎসব প্রমাণ করছে বাজার এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে।
আজকের বাজারে সূচক ধরে রাখার কোনো চেষ্টাই সফল হয়নি। ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে শূন্য দশমিক পাঁচ তিন শতাংশ বা ২৭ পয়েন্ট হারিয়ে এখন ৫ হাজার ৭২ পয়েন্টের গর্তে গিয়ে পড়েছে। একইসাথে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট হারিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট ধসে গিয়ে থামল ১ হাজার ৯৪৭ পয়েন্টে। আজ ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯২টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১০৭টি মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে যেখানে ২২৫টি কোম্পানি দর হারিয়ে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা ভারী করেছে। ৫২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার এই লেনদেন কি কেবল বড় খেলোয়াড়দের পকেট ভরার উপায় কি না সেই প্রশ্ন এখন মুখে মুখে।
ডিএসইর সাথে তাল মিলিয়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জও দেখিয়েছে চরম ব্যর্থতা। সিএসই সাধারণ মূল্য সূচক সিএএসপিআই শূন্য দশমিক শূন্য নয় শতাংশ বা ১৩ পয়েন্ট হারিয়ে অবস্থান করছে ১৪ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে। ১৫৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর হারিয়েছে ৭১টি আর দিনশেষে সিএসইতে নামমাত্র লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। বাজারের এই ক্রমাগত অস্থিরতা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সূচকের এই রক্তক্ষরণ দ্রুত বন্ধ না হলে বিনিয়োগকারীদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
পুঁজিবাজারের এই জঘন্য পতনে তথাকথিত বাজার বিশ্লেষকদের মতামত কেবল কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে আজকের বাজারে সূচকের এই ধস কেবল একটি সাধারণ সংশোধন নয় বরং এটি বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের চরম অনাস্থার প্রতিফলন। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ দাবি করছেন যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ অবস্থানে থেকে কেবল তামাশা দেখছে যার ফলে সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিন তাদের মূলধন হারাচ্ছেন।
বাজার বিশ্লেষকরা স্পষ্টভাবে আঙুল তুলছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতার দিকে। তাদের মতে যখন বাজারের লেনদেন পাঁচশ কোটি টাকার ঘরে ঘুরপাক খাচ্ছে তখন সূচকের ২৭ পয়েন্টের পতন সাধারণ কোনো ঘটনা হতে পারে না। এটি বড় বড় সিন্ডিকেটের কারসাজি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন যে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স যেভাবে পাঁচ হাজার পয়েন্টের দিকে ধাবিত হচ্ছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র দেখা গেছে যেখানে বিশ্লেষকদের মতে লেনদেনের খরা এবং সূচকের পতন একই সূত্রে গাঁথা। সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের অভিমত হলো যদি অতি দ্রুত নীতিমালার পরিবর্তন বা বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রবাহ না ঘটে তবে এই বাজার কেবল সাধারণ মানুষের টাকা গিলে খাওয়ার একটি ফাঁদে পরিণত হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঘুমিয়ে থাকলে বিনিয়োগকারীদের হাহাকার আরও দীর্ঘ হবে বলেই আজ বিশ্লেষকদের কণ্ঠে সতর্কবার্তা শোনা গেছে।
হৃদয় 























