০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বিএসসিকে আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ১০:২৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • 69

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকে (বিএসসি) লাভজনকতা ও সক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর নির্দেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানকে এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে নিজস্ব আয়ের ওপর ভর করেই এর সম্প্রসারণ সম্ভব হয়।

বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বিএসসি কর্তৃক বাস্তবায়িত জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের ঋণের কিস্তি ও ২০২৪–২৫ অর্থবছরের লভ্যাংশ বাবদ মোট ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার চেক গ্রহণকালে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক তার হাতে চেক তুলে দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিএসসির আয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে নতুন নতুন জাহাজ যুক্ত করে বহরকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করা যায়। বহরে জাহাজের সংখ্যা বাড়লে নাবিকদের কাজের সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি আরও বলেন, বিশ্বমানের নাবিক গড়ে তুলতে হলে মেরিন একাডেমির প্রশিক্ষকদের ধরে রাখা জরুরি। সে জন্য তাদের উপযুক্ত সম্মানী নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চীন সরকারের অর্থায়নে কেনা ছয়টি জাহাজের ঋণ কিস্তি পরিশোধের অংশ হিসেবে সাবসিডিয়ারি লোন অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী এবং চলতি অর্থবছরের ঘোষিত লভ্যাংশ মিলিয়ে এই ২০৩.৪৭ কোটি টাকা সরকারকে প্রদান করেছে বিএসসি। সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৩ বছরে প্রতিষ্ঠানটি মোট ২ হাজার ৪২৫ কোটি ২ লাখ টাকা পরিশোধ করবে।

বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বশেষ অর্থবছরটি ছিল প্রতিষ্ঠানটির জন্য সবচেয়ে সফল। এ সময়ে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করে ৩০৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে বিএসসি, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২০১৮–১৯ অর্থবছরে বহরে যুক্ত হওয়া পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজ এই মুনাফা অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার আলোকে বিএসসি ইতোমধ্যে বহর সম্প্রসারণে কাজ শুরু করেছে। নিজস্ব অর্থায়নে কেনা দুটি বাল্ক ক্যারিয়ারের মধ্যে প্রথমটি ‘বাংলার প্রগতি’ গত ২৮ অক্টোবর বহরে যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় জাহাজ ‘বাংলার নবযাত্রা’ আগামী ৩০ জানুয়ারি ডেলিভারি পাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে আরও চারটি বড় আকারের মাদার ভেসেল সংগ্রহের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএসসিকে আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

প্রকাশিত : ১০:২৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকে (বিএসসি) লাভজনকতা ও সক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর নির্দেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানকে এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে নিজস্ব আয়ের ওপর ভর করেই এর সম্প্রসারণ সম্ভব হয়।

বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বিএসসি কর্তৃক বাস্তবায়িত জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের ঋণের কিস্তি ও ২০২৪–২৫ অর্থবছরের লভ্যাংশ বাবদ মোট ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার চেক গ্রহণকালে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক তার হাতে চেক তুলে দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিএসসির আয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে নতুন নতুন জাহাজ যুক্ত করে বহরকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করা যায়। বহরে জাহাজের সংখ্যা বাড়লে নাবিকদের কাজের সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি আরও বলেন, বিশ্বমানের নাবিক গড়ে তুলতে হলে মেরিন একাডেমির প্রশিক্ষকদের ধরে রাখা জরুরি। সে জন্য তাদের উপযুক্ত সম্মানী নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চীন সরকারের অর্থায়নে কেনা ছয়টি জাহাজের ঋণ কিস্তি পরিশোধের অংশ হিসেবে সাবসিডিয়ারি লোন অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী এবং চলতি অর্থবছরের ঘোষিত লভ্যাংশ মিলিয়ে এই ২০৩.৪৭ কোটি টাকা সরকারকে প্রদান করেছে বিএসসি। সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৩ বছরে প্রতিষ্ঠানটি মোট ২ হাজার ৪২৫ কোটি ২ লাখ টাকা পরিশোধ করবে।

বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বশেষ অর্থবছরটি ছিল প্রতিষ্ঠানটির জন্য সবচেয়ে সফল। এ সময়ে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করে ৩০৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে বিএসসি, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২০১৮–১৯ অর্থবছরে বহরে যুক্ত হওয়া পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজ এই মুনাফা অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার আলোকে বিএসসি ইতোমধ্যে বহর সম্প্রসারণে কাজ শুরু করেছে। নিজস্ব অর্থায়নে কেনা দুটি বাল্ক ক্যারিয়ারের মধ্যে প্রথমটি ‘বাংলার প্রগতি’ গত ২৮ অক্টোবর বহরে যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় জাহাজ ‘বাংলার নবযাত্রা’ আগামী ৩০ জানুয়ারি ডেলিভারি পাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে আরও চারটি বড় আকারের মাদার ভেসেল সংগ্রহের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।