০৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শেষ ঘণ্টার দানবীয় সেল প্রেসার: উত্থানকে গিলে খেল ভয়াবহ ধস

টানা দুই কর্মদিবসের দুর্দান্ত উত্থানে যখন বাজারজুড়ে ফিরছিল আশার আলো, তখনই আজ হঠাৎ বাজারে নেমে এল তীব্র ঝড়। দুপুর পর্যন্ত ডিএসই ছিল সবুজের স্রোতে ভাসমান—সোমবার থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত প্রধান সূচক লাফিয়ে বেড়েছিল প্রায় ১২০ পয়েন্ট। বাজারে তখন আশাবাদের ঢেউ, বিনিয়োগকারীদের চোখে ছিল নতুন উত্থানের স্বপ্ন। কিন্তু বিকেলের শেষ ঘণ্টাগুলোতে যেন হঠাৎ বাঁক নিল গল্প। আগ্রাসী মুনাফা বিক্রির ঢেউ এমন ঝড় তুলল যে পুরো বাজার মুহূর্তেই সবুজ থেকে রক্ত লাল রঙে রঙিন হয়ে যায়।

দিনশেষে ডিএসইএক্স সূচক ২১.০৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৯৪১.৮৪ পয়েন্টে। বাজারের অন্য দুই সূচকের অবস্থাও গল্প বলছে আরেক পতনের: ডিএসইএস সূচক ৭.৫০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩১.৭২ পয়েন্টে, আর ডিএসই-৩০ সূচক ৮.৬৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১,৮৯৯.১০ পয়েন্টে। টানা উত্থানে গতি পাওয়া বাজারকে আজ শেষ ঘণ্টায় এমনভাবে আঘাত করল মুনাফা বিক্রি যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক আর হতাশার মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বাজারে লেনদেনেও দেখা গেল বিস্ফোরক এক চিত্র। আজকের লেনদেন যেন আগুন ধরানো উত্তাপ—ডিএসইতে ৫৩৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের ৪৫৮ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৭৬ কোটি টাকা বেশি। সূচক পড়লেও লেনদেনের এই উত্থান দেখাচ্ছে, বাজারে এখনো দৌড়ঝাঁপ চলছে তীব্র গতিতে; ভয়, হিসাব-নিকাশ এবং মুনাফা তোলার খেলা—সব মিলিয়ে বাজারে তৈরি হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ এক পরিবেশ।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

৩৯৪টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের মধ্যে ২২৭টি কোম্পানির শেয়ারদর আজ নেমে গেছে ভয়াবহভাবে, যেন একসাথে পতনের দৌড়ে নেমেছে সবাই। বেড়েছে মাত্র ১১৪টির দাম, আর ৫৩টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

তবে একই দিনে চট্টগ্রামের বাজার তৈরি করেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। যখন ডিএসই লাল রঙে রক্তাক্ত, তখন সিএসই উল্টো ছুটেছে উর্ধ্বমুখী স্রোতে। আজ সিএসইতে ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় বেশ শক্তিশালী। ১৭৮টি কোম্পানির লেনদেনে ৮৪টির দাম বেড়েছে, ৬৮টি কমেছে এবং ২৬টি স্থিতিশীল থেকেছে। সিএএসপিআই সূচকও আজ উড়ে বেড়ে ৫৩.৪৩ পয়েন্ট যোগ করে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩,৮৫১.০৬ পয়েন্টে—যা বাজারে শক্তিশালী উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

সারাদিনের পুরো ঘটনাপ্রবাহ যেন বলছে—বাজার এখন রোলার কোস্টারের সবচেয়ে খাড়া বাঁকে। কখন উত্থান, কখন পতন—কেউ আন্দাজ করতে পারছে না। দুপুরে যে বাজার আশার আলো দেখাচ্ছিল, দিনের শেষে তা পরিণত হয়েছে অস্থিরতা, আতঙ্ক আর লেনদেনের আগুনে জ্বলা এক বাজারে। মুনাফা বিক্রি আজ দেখিয়ে দিয়েছে, বাজারে উত্থানের পর যে কোনো মুহূর্তে নেমে আসতে পারে তীব্র ঝড়।

বাজার বিশ্লেষকরা আরও সতর্ক করে বলেন, “বাজারের এই উত্থান–পতন রোলার কোস্টার বাজারের ইঙ্গিত। বিশেষ করে বড় বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে দ্রুত বিক্রি শুরু করে। আজকের শেষ ঘণ্টার লাল ঝড় তারই প্রতিফলন।”

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ ঘণ্টার দানবীয় সেল প্রেসার: উত্থানকে গিলে খেল ভয়াবহ ধস

প্রকাশিত : ০৩:৪১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

টানা দুই কর্মদিবসের দুর্দান্ত উত্থানে যখন বাজারজুড়ে ফিরছিল আশার আলো, তখনই আজ হঠাৎ বাজারে নেমে এল তীব্র ঝড়। দুপুর পর্যন্ত ডিএসই ছিল সবুজের স্রোতে ভাসমান—সোমবার থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত প্রধান সূচক লাফিয়ে বেড়েছিল প্রায় ১২০ পয়েন্ট। বাজারে তখন আশাবাদের ঢেউ, বিনিয়োগকারীদের চোখে ছিল নতুন উত্থানের স্বপ্ন। কিন্তু বিকেলের শেষ ঘণ্টাগুলোতে যেন হঠাৎ বাঁক নিল গল্প। আগ্রাসী মুনাফা বিক্রির ঢেউ এমন ঝড় তুলল যে পুরো বাজার মুহূর্তেই সবুজ থেকে রক্ত লাল রঙে রঙিন হয়ে যায়।

দিনশেষে ডিএসইএক্স সূচক ২১.০৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৯৪১.৮৪ পয়েন্টে। বাজারের অন্য দুই সূচকের অবস্থাও গল্প বলছে আরেক পতনের: ডিএসইএস সূচক ৭.৫০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩১.৭২ পয়েন্টে, আর ডিএসই-৩০ সূচক ৮.৬৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১,৮৯৯.১০ পয়েন্টে। টানা উত্থানে গতি পাওয়া বাজারকে আজ শেষ ঘণ্টায় এমনভাবে আঘাত করল মুনাফা বিক্রি যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক আর হতাশার মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বাজারে লেনদেনেও দেখা গেল বিস্ফোরক এক চিত্র। আজকের লেনদেন যেন আগুন ধরানো উত্তাপ—ডিএসইতে ৫৩৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের ৪৫৮ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৭৬ কোটি টাকা বেশি। সূচক পড়লেও লেনদেনের এই উত্থান দেখাচ্ছে, বাজারে এখনো দৌড়ঝাঁপ চলছে তীব্র গতিতে; ভয়, হিসাব-নিকাশ এবং মুনাফা তোলার খেলা—সব মিলিয়ে বাজারে তৈরি হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ এক পরিবেশ।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

৩৯৪টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের মধ্যে ২২৭টি কোম্পানির শেয়ারদর আজ নেমে গেছে ভয়াবহভাবে, যেন একসাথে পতনের দৌড়ে নেমেছে সবাই। বেড়েছে মাত্র ১১৪টির দাম, আর ৫৩টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

তবে একই দিনে চট্টগ্রামের বাজার তৈরি করেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। যখন ডিএসই লাল রঙে রক্তাক্ত, তখন সিএসই উল্টো ছুটেছে উর্ধ্বমুখী স্রোতে। আজ সিএসইতে ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় বেশ শক্তিশালী। ১৭৮টি কোম্পানির লেনদেনে ৮৪টির দাম বেড়েছে, ৬৮টি কমেছে এবং ২৬টি স্থিতিশীল থেকেছে। সিএএসপিআই সূচকও আজ উড়ে বেড়ে ৫৩.৪৩ পয়েন্ট যোগ করে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩,৮৫১.০৬ পয়েন্টে—যা বাজারে শক্তিশালী উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

সারাদিনের পুরো ঘটনাপ্রবাহ যেন বলছে—বাজার এখন রোলার কোস্টারের সবচেয়ে খাড়া বাঁকে। কখন উত্থান, কখন পতন—কেউ আন্দাজ করতে পারছে না। দুপুরে যে বাজার আশার আলো দেখাচ্ছিল, দিনের শেষে তা পরিণত হয়েছে অস্থিরতা, আতঙ্ক আর লেনদেনের আগুনে জ্বলা এক বাজারে। মুনাফা বিক্রি আজ দেখিয়ে দিয়েছে, বাজারে উত্থানের পর যে কোনো মুহূর্তে নেমে আসতে পারে তীব্র ঝড়।

বাজার বিশ্লেষকরা আরও সতর্ক করে বলেন, “বাজারের এই উত্থান–পতন রোলার কোস্টার বাজারের ইঙ্গিত। বিশেষ করে বড় বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে দ্রুত বিক্রি শুরু করে। আজকের শেষ ঘণ্টার লাল ঝড় তারই প্রতিফলন।”