মিডল্যান্ড ব্যাংকের শেয়ারদর কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে তোলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিন বিনিয়োগকারীকে একযোগে ৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা জরিমানা ঝুলিয়ে দিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাজারকে ভয়ংকরভাবে প্রভাবিত করা এই কারসাজি নিয়ন্ত্রকের চোখ এড়ায়নি—আর শেষ পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের জরিমানা।
সর্বোচ্চ শাস্তির খড়গ নেমেছে কুয়েস্ট এশিয়া ওভারসিজের ওপর—একাই দিতে হবে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আনিছুল ইসলামকে ৮০ লাখ এবং তার স্ত্রী নাহার-ই-জান্নাতকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কারসাজির পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মূল্য প্রভাব—সব হিসেবেই তিন পক্ষকে দায়ী করেছে বিএসইসি।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কুয়েস্ট এশিয়া ও তাদের সহযোগীরা প্রায় ২ কোটি ১৯ লাখ শেয়ার কিনে এবং ১ কোটি ৭৩ লাখ শেয়ার বিক্রি করেন—পাবলিক ও ব্লক মার্কেট মিলিয়ে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই প্রচণ্ড লেনদেনচাপে শুধুমাত্র তারাই মিডল্যান্ড ব্যাংকের মোট শেয়ার লেনদেনের ১৭.৯৯% দখলে রাখে; ফলে শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে লাফিয়ে ১২৩% বেড়ে ২৭ টাকা ৬০ পয়সায় উঠে যায়। আর এই উত্থান থেকেই গ্রুপটি পকেটে ভরে প্রায় ৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা মুনাফা।
শুনানিতে আনিছুল ইসলাম চেষ্টা করেছিলেন দায় এড়াতে। দাবি করেন—এক সংবাদপত্রের ইতিবাচক রিপোর্ট দেখে তারা “উৎসাহিত” হয়ে লেনদেন করেছেন। কারসাজির উদ্দেশ্য ছিল না, নিয়ম জানতেন না, বাজার “স্থিতিশীল” রাখাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু নিয়ন্ত্রকের কাছে এই ব্যাখ্যা পড়ে না। বিএসইসির ভাষায়—এটি পরিকল্পিত, ধারাবাহিক ও উদ্দেশ্যমূলক বাজার প্রভাব; আর তারা স্পষ্টভাবেই লঙ্ঘন করেছেন একক সিকিউরিটিতে অতিরিক্ত লেনদেন সীমিত রাখার নিয়ম।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী, নিজের স্বার্থে দাম বাড়ানো, কৃত্রিম লেনদেন তৈরি করা এবং বাজারকে ভূলুণ্ঠিত করা—এগুলো দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে এবারও কঠোর অবস্থান দেখাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিএসইসির এই সিদ্ধান্ত শেয়ারবাজারে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—কারসাজি করলে ছাড় নেই, অস্বাভাবিক লেনদেনে শাস্তি অনিবার্য।
অনলাইন ডেস্ক 






















