ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদায়ী সপ্তাহ ছিল যেন এক নির্মম রক্তক্ষয়ী ধসের সপ্তাহ। ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ কার্যদিবস জুড়ে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সামান্য ইঙ্গিতও দেখা যায়নি—বরং প্রতিটি দিনেই সূচক আর লেনদেন ঠেলে নামানো হয়েছে আরও নিচের অন্ধকারে। মাত্র এক সপ্তাহে ডিএসই থেকে উধাও হয়েছে ৭ হাজার ৩৭১ কোটি টাকার বাজারমূলধন, যা বাজারের দুর্বলতা নয়—বরং নিয়ন্ত্রণহীন অস্থিরতার নগ্ন সত্য তুলে ধরেছে।
সপ্তাহের শুরুতে যেখানে বাজারমূলধন ছিল ৬ লাখ ৯২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা, সপ্তাহ শেষে তা নেমে এসেছে ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬২ কোটি টাকায়। এই পতন শুধু সংখ্যা নয়—এটি হাজারো বিনিয়োগকারীর আস্থায় আঘাত, তাদের পোর্টফোলিওতে জমে ওঠা নতুন ক্ষতের প্রতিচ্ছবি। সূচকের অবস্থাও ছিল একই রকম হতাশাজনক। ডিএসইএক্স যেন মুহূর্তে ভেঙে পড়া টাওয়ারের মতো নিচে গড়িয়েছে ১৪১.৫৭ পয়েন্ট; ডিএসই-৩০ ও ডিএসইএস সূচকও একই সুরে নিমজ্জিত হয়ে বাজারের দম বন্ধ হওয়া পরিস্থিতি আরও প্রকট করেছে।
ধসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লেনদেনও চরমভাবে সংকুচিত হয়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় লেনদেন উধাও ৫৬৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা। প্রতিদিনের গড় লেনদেন ২১.৬৪ শতাংশ কেটে গিয়ে নেমেছে এমন এক স্তরে, যা দেখে মনে হয় বাজারে যেন ক্রেতা বলতেই কেউ নেই, শুধু আতঙ্কগ্রস্ত বিক্রেতাদের দীর্ঘ সারি। পুঁজিবাজারের চিত্রটাকে সবচেয়ে স্পষ্ট করে দেয় দাম পরিবর্তনের তালিকা—৩৮২টি লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে ৩২৫টির দাম পতনে ঢলে পড়েছে; বৃদ্ধি পেয়েছে অতি সামান্য ৪৫টি কোম্পানির শেয়ার, আর ১৩টি কোনো রকমে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। এই অনুপাতই বলে দেয় বাজারে কতটা বিক্রির সুনামি বয়ে গেছে।
পুরো সপ্তাহজুড়ে বিনিয়োগকারীদের চোখের সামনে ঘটে গেছে এক ভয়াবহ পতনের কাহিনি—যেখানে আস্থা, স্থিতিশীলতা, নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই যেন হারিয়ে গেছে এক অজানা শূন্যতার মধ্যে। বিদায়ী সপ্তাহ শুধু একটি পতনের সপ্তাহ নয়, এটি পুঁজিবাজারের গভীর অসুস্থতার জ্বলন্ত প্রমাণ।
অনলাইন ডেস্ক 























