০৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বিএসইসি’র কড়া হুঁশিয়ারি: তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা!

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে মারাত্মক কারসাজির দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিস্তারিত তদন্ত ও শুনানির পর কমিশন এই বিপুল অঙ্কের জরিমানা আরোপ করেছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

বিএসইসি দেখতে পেয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বা ভুয়া চাহিদা তৈরি করে কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল, যা শেয়ারবাজারের নিয়ম-কানুনের সরাসরি লঙ্ঘন।

কারসাজির তদন্ত চলে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে। এই সময়ে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দাম ৭৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩৬ টাকা ১০ পয়সা পৌঁছে গিয়েছিল। অস্বাভাবিক এই মূল্যবৃদ্ধি বিএসইসির নজরে আসে এবং কমিশন আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। উল্লেখ্য, বর্তমানে শেয়ারটির দাম ৪৬ টাকায় নেমে এসেছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিএসইসির তদন্তে উঠে আসে, ফারুক এন্টারপ্রাইজ, রাইয়ান ট্রেডিং এবং ইসলাম এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে ‘সার্কুলার ট্রেডিং’-এর মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে উচ্চ মূল্যে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করে বাজারে ভুয়া সংকেত দেয়। তাদের এই কার্যক্রম শেয়ারের স্বাভাবিক চাহিদা-যোগানের গতিশীলতাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং বিনিয়োগকারীদের মনে প্রভাব ফেলেছিল।

  • ফারুক এন্টারপ্রাইজ: কারসাজিমূলক কার্যক্রমে ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা মুনাফা; জরিমানা ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা। শুনানিতে ফারুক এন্টারপ্রাইজের পক্ষে কাজী মেহেদী আরাফাত লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারা জানায়, তাদের সমস্ত লেনদেন বৈধ বিনিয়োগ কৌশল এবং প্রচলিত বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল এবং কোনো লেনদেনই কৃত্রিম চাহিদা তৈরি বা অন্য বিনিয়োগকারীকে বিভ্রান্ত করেনি।
  • রাইয়ান ট্রেডিং: ৩ কোটি টাকা মুনাফা; জরিমানা ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কোম্পানি ব্যাখ্যা দেয় যে, তারা ফারুক এন্টারপ্রাইজ, ইসলাম এন্টারপ্রাইজ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজস করেনি এবং ১০ শতাংশ শেয়ারধারণের সীমা অনিচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন হয়েছে।
  • ইসলাম এন্টারপ্রাইজ: এই কারসাজিতে সবচেয়ে বেশি জড়িত; ৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা মুনাফা; সর্বোচ্চ ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে রুবেল ভূঁইয়া শুনানিতে কৃত্রিম লেনদেন বা ইচ্ছাকৃত মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সমস্ত লেনদেন বৈধ কৌশল ও বাজার পরিস্থিতিতে পরিচালিত হয়েছে এবং তারা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করেনি। তারা জোর দিয়ে বলে যে, সমস্ত বিও অ্যাকাউন্ট বৈধ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোনো স্ব-লেনদেন বা বাজার কারসাজি ঘটেনি।

সর্বশেষ শেয়ারধারণের তথ্য অনুযায়ী, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০.২৪ শতাংশ শেয়ার স্পন্সর ও পরিচালকদের কাছে, ১০.১৪ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং ৫৯.৬২ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কারসাজিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএসইসি’র কড়া হুঁশিয়ারি: তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা!

প্রকাশিত : ০৬:২২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে মারাত্মক কারসাজির দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিস্তারিত তদন্ত ও শুনানির পর কমিশন এই বিপুল অঙ্কের জরিমানা আরোপ করেছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

বিএসইসি দেখতে পেয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বা ভুয়া চাহিদা তৈরি করে কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল, যা শেয়ারবাজারের নিয়ম-কানুনের সরাসরি লঙ্ঘন।

কারসাজির তদন্ত চলে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে। এই সময়ে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দাম ৭৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩৬ টাকা ১০ পয়সা পৌঁছে গিয়েছিল। অস্বাভাবিক এই মূল্যবৃদ্ধি বিএসইসির নজরে আসে এবং কমিশন আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। উল্লেখ্য, বর্তমানে শেয়ারটির দাম ৪৬ টাকায় নেমে এসেছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিএসইসির তদন্তে উঠে আসে, ফারুক এন্টারপ্রাইজ, রাইয়ান ট্রেডিং এবং ইসলাম এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে ‘সার্কুলার ট্রেডিং’-এর মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে উচ্চ মূল্যে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করে বাজারে ভুয়া সংকেত দেয়। তাদের এই কার্যক্রম শেয়ারের স্বাভাবিক চাহিদা-যোগানের গতিশীলতাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং বিনিয়োগকারীদের মনে প্রভাব ফেলেছিল।

  • ফারুক এন্টারপ্রাইজ: কারসাজিমূলক কার্যক্রমে ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা মুনাফা; জরিমানা ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা। শুনানিতে ফারুক এন্টারপ্রাইজের পক্ষে কাজী মেহেদী আরাফাত লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারা জানায়, তাদের সমস্ত লেনদেন বৈধ বিনিয়োগ কৌশল এবং প্রচলিত বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল এবং কোনো লেনদেনই কৃত্রিম চাহিদা তৈরি বা অন্য বিনিয়োগকারীকে বিভ্রান্ত করেনি।
  • রাইয়ান ট্রেডিং: ৩ কোটি টাকা মুনাফা; জরিমানা ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কোম্পানি ব্যাখ্যা দেয় যে, তারা ফারুক এন্টারপ্রাইজ, ইসলাম এন্টারপ্রাইজ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজস করেনি এবং ১০ শতাংশ শেয়ারধারণের সীমা অনিচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন হয়েছে।
  • ইসলাম এন্টারপ্রাইজ: এই কারসাজিতে সবচেয়ে বেশি জড়িত; ৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা মুনাফা; সর্বোচ্চ ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে রুবেল ভূঁইয়া শুনানিতে কৃত্রিম লেনদেন বা ইচ্ছাকৃত মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সমস্ত লেনদেন বৈধ কৌশল ও বাজার পরিস্থিতিতে পরিচালিত হয়েছে এবং তারা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করেনি। তারা জোর দিয়ে বলে যে, সমস্ত বিও অ্যাকাউন্ট বৈধ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোনো স্ব-লেনদেন বা বাজার কারসাজি ঘটেনি।

সর্বশেষ শেয়ারধারণের তথ্য অনুযায়ী, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০.২৪ শতাংশ শেয়ার স্পন্সর ও পরিচালকদের কাছে, ১০.১৪ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং ৫৯.৬২ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কারসাজিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।