শেয়ারবাজারে বড় ধরনের কারসাজি, প্রতারণা এবং অর্থপাচারের অভিযোগে বিস্তৃত তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত সমবায় অধিদপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. আবুল খায়ের, যিনি হিরু নামে পরিচিত। মামলার দ্বিতীয় অভিযুক্ত হিসেবে নাম এসেছে সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক তারকা সাকিব আল হাসানের।
দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, আবুল খায়ের হিরু তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯–এর ধারা ১৭ লঙ্ঘন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, হিরু নিজস্ব বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণামূলক লেনদেন, জুয়ার ধাঁচে সিরিজ ট্রেডিং এবং কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে বাজারে কারসাজি করেছেন। সুপরিকল্পিত এই কারসাজির মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিপুল ক্ষতি করা হয়েছে এবং আত্মসাৎ করা হয়েছে ২৫৭ কোটি টাকা।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হিরু শেয়ারবাজার থেকে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় বিভিন্ন পথে পাচার করেছেন। দুদক বলছে, শুধু একটি অংশ হিসেবে ২৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া হিরুর ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৪২ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে। এসব অভিযোগে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনসহ বিভিন্ন ধারায় গত ১৭ জুন মামলা দায়ের করা হয়।
চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে দুদক এজাহারভুক্ত ১৫ জনকে আগামী ২৫ ও ২৬ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে। সাকিব আল হাসানকে ২৬ নভেম্বর সকাল ১০টায় দুদক সদর দপ্তরে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য প্রদান করতে বলা হয়েছে। দুদক আরও জানিয়েছে, শেয়ারবাজার কারসাজির মামলা ছাড়াও সাকিবের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরেকটি পৃথক তদন্ত চলছে এবং একই দিন তাকে উভয় অভিযোগেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
অনলাইন ডেস্ক 























