০৭:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে বড় ঘোষণা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৩:৩৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • 73

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে কোনোভাবেই সংস্কারের লক্ষ্য ব্যাহত হবে না। বরং নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোটের আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন উপযুক্ত সময়ে প্রণয়ন করা হবে।”

তিনি আরও জানান, গত নয় মাস ধরে রাষ্ট্র গঠনের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি বিষয়ে দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছে। “এটি ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক,” বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ড. ইউনূস জানান, জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি প্রশ্নটি পাঠ করে শোনান—

“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”

গণভোটের মূল বিষয়গুলো হবে—

ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় গঠন।

খ) দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, যেখানে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ থাকবে এবং সংবিধান সংশোধনে তাদের অনুমোদন লাগবে।

গ) নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ জুলাই সনদের ৩০টি সংস্কার বাস্তবায়নে বিজয়ী দলগুলোর বাধ্যবাধকতা।

ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কারও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।

গণভোটের দিনে এই চারটি বিষয়ের ওপর একটি মাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে পারবেন নাগরিকরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ স্বাক্ষর করেন। প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে তেজগাঁওয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভোটের পদ্ধতি ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত ২৮ অক্টোবর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দুটি বিকল্প প্রস্তাব জমা দেয়। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত আদেশের ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে বড় ঘোষণা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশিত : ০৩:৩৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে কোনোভাবেই সংস্কারের লক্ষ্য ব্যাহত হবে না। বরং নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোটের আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন উপযুক্ত সময়ে প্রণয়ন করা হবে।”

তিনি আরও জানান, গত নয় মাস ধরে রাষ্ট্র গঠনের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি বিষয়ে দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছে। “এটি ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক,” বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ড. ইউনূস জানান, জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি প্রশ্নটি পাঠ করে শোনান—

“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”

গণভোটের মূল বিষয়গুলো হবে—

ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় গঠন।

খ) দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, যেখানে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ থাকবে এবং সংবিধান সংশোধনে তাদের অনুমোদন লাগবে।

গ) নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ জুলাই সনদের ৩০টি সংস্কার বাস্তবায়নে বিজয়ী দলগুলোর বাধ্যবাধকতা।

ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কারও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।

গণভোটের দিনে এই চারটি বিষয়ের ওপর একটি মাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে পারবেন নাগরিকরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ স্বাক্ষর করেন। প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে তেজগাঁওয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভোটের পদ্ধতি ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত ২৮ অক্টোবর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দুটি বিকল্প প্রস্তাব জমা দেয়। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত আদেশের ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন তিনি।