০৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আজ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ১০:০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অগাস্ট ২০২৪
  • 52

শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আজ। ১৯৭৫ সালের এ মাসে বাঙালি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ওই বছরের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটে ঝাঁজরা হয়েছিল তাঁর বুক। ঘাতকের দল নির্মমভাবে হত্যা করেছিল বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী ও মহীয়সী নারী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। সেদিন আরও শহীদ হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, নবপরিণীতা পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী। পাষণ্ডরা সেদিন বঙ্গবন্ধু কনিষ্ঠ পুত্র নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেলকেও রেহাই দেয়নি।

সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হবার পর দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। ক্যান্টনমেন্টের ছত্রছায়ায় একের পর এক সামরিক সরকার আসে। তারা খুঁজে খুঁজে সব স্বাধীনতা বিরোধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায় আসীন করেন, সরকারে নিয়ে আসেন। ক্যান্টনমেন্টের ভেতর থেকে জন্ম নেয় একাধিক রাজনৈতিক দল। আর সেসব দলে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী, এমনকি রাজাকার, আলবদর ও আলশাসসের মতো ব্যাক্তিদের সমবেত করা হয়, তাদের পুনর্বাসিত করা হয়। আর তার মধ্য দিয়ে ভুলুন্ঠিত হতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি।

তবে আরও একটি কারণে আগস্ট মাস শোকের বিমূর্ত প্রতীক। এমন এক মাসে জাতিরজনকের সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল স্বাধীনতা বিরোধী চক্র। দুই দশক আগে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। ছুড়ে দেওয়া গ্রেনেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া বঙ্গবন্ধু তনয়া ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে যান। বর্বর এ হামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী ও আওয়ামী লীগের সেই সময়ের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। এতে আহত হন আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ৫ শতাধিক নেতাকর্মী।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া। কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার ইতিহাসের অন্যতম ঘৃণ্য ও পাশবিক হত্যাকাণ্ডের বিচার না করে উল্টো আইন করে হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দেয়। অবশ্য পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আসার পর ওই দায়মুক্তি আইন বাতিলের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার করে।

প্রতিবারের মতো শোকের মাসকে ঘিরে আগস্টের প্রথম প্রহর থেকে পুরো মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো। মাসব্যাপী শোক দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের জন্য আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সব সহযোগী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতি দলের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সব শাখার নেতাদের জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গৃহীত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে।

শোকের মাস শুরু উপলক্ষে বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে আলোর মিছিল করে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। একই সময়ে ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করে মৎস্যজীবী লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আজ

প্রকাশিত : ১০:০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অগাস্ট ২০২৪

শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আজ। ১৯৭৫ সালের এ মাসে বাঙালি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ওই বছরের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটে ঝাঁজরা হয়েছিল তাঁর বুক। ঘাতকের দল নির্মমভাবে হত্যা করেছিল বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী ও মহীয়সী নারী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। সেদিন আরও শহীদ হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, নবপরিণীতা পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী। পাষণ্ডরা সেদিন বঙ্গবন্ধু কনিষ্ঠ পুত্র নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেলকেও রেহাই দেয়নি।

সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হবার পর দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। ক্যান্টনমেন্টের ছত্রছায়ায় একের পর এক সামরিক সরকার আসে। তারা খুঁজে খুঁজে সব স্বাধীনতা বিরোধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায় আসীন করেন, সরকারে নিয়ে আসেন। ক্যান্টনমেন্টের ভেতর থেকে জন্ম নেয় একাধিক রাজনৈতিক দল। আর সেসব দলে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী, এমনকি রাজাকার, আলবদর ও আলশাসসের মতো ব্যাক্তিদের সমবেত করা হয়, তাদের পুনর্বাসিত করা হয়। আর তার মধ্য দিয়ে ভুলুন্ঠিত হতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি।

তবে আরও একটি কারণে আগস্ট মাস শোকের বিমূর্ত প্রতীক। এমন এক মাসে জাতিরজনকের সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল স্বাধীনতা বিরোধী চক্র। দুই দশক আগে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। ছুড়ে দেওয়া গ্রেনেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া বঙ্গবন্ধু তনয়া ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে যান। বর্বর এ হামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী ও আওয়ামী লীগের সেই সময়ের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। এতে আহত হন আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ৫ শতাধিক নেতাকর্মী।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া। কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার ইতিহাসের অন্যতম ঘৃণ্য ও পাশবিক হত্যাকাণ্ডের বিচার না করে উল্টো আইন করে হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দেয়। অবশ্য পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আসার পর ওই দায়মুক্তি আইন বাতিলের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার করে।

প্রতিবারের মতো শোকের মাসকে ঘিরে আগস্টের প্রথম প্রহর থেকে পুরো মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো। মাসব্যাপী শোক দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের জন্য আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সব সহযোগী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতি দলের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সব শাখার নেতাদের জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গৃহীত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে।

শোকের মাস শুরু উপলক্ষে বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে আলোর মিছিল করে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। একই সময়ে ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করে মৎস্যজীবী লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।