০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যমুনা ব্যাংক: স্টাফদের বেতনের ৬ শতাংশও আসে না মূল ব্যবসায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি যমুনা ব্যাংক পিএলসি মূল ব্যাংকিং ব্যবসায় ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে। ঋণ ও আমানতনির্ভর আয়ের জায়গায় বড় ধরনের পতন হলেও বিনিয়োগ ও অন্যান্য আয়ের জোরে মুনাফা ধরে রেখেছে ব্যাংকটি—এমন চিত্র উঠে এসেছে ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাব বিশ্লেষণে। ব্যাংকটির এমনই মন্দা অবস্থা যে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনাদিবাবদ ব্যয়ের ৬ শতাংশও আয় হয় না মূল ব্যবসায়।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে যমুনা ব্যাংকের নিট সুদ আয় ছিল ৩৩৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। তবে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৯৭ লাখ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে নিট সুদ আয় কমেছে ৩০২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বা ৯০ শতাংশ, যা মূল ব্যাংকিং কার্যক্রমে বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

এই ঘাটতি সামাল দিতে ব্যাংকটি ঋণ কার্যক্রমের বদলে বিনিয়োগ আয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। সরকারি ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড, প্রাইজ বন্ড ও বিভিন্ন সিকিউরিটিজে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে ব্যাংকটি। ২০২৪ সালে যেখানে মোট বিনিয়োগ ছিল ১২ হাজার ৭৫৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, সেখানে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ১৯৮ কোটি ৬১ লাখ টাকায়। অর্থাৎ নতুন করে বিনিয়োগ করেছে ৭ হাজার ৪৩৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বা ৫৮ শতাংশ। এর ফলে বিনিয়োগ আয়ও বেড়েছে। ২০২৪ সালে বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকটির আয় ছিল ৯২৯ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮০ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়। এক বছরে বিনিয়োগ আয় বেড়েছে ৩৫১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বা ৩৮ শতাংশ।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগ ও অন্যান্য পরিচালন আয় বাদ দিলে ব্যাংকটি কার্যত লোকসানে পড়ত। কারণ ২০২৫ সালে ব্যাংকটির নিট সুদ আয় ছিল ৩২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, অথচ একই বছরে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেছনে বেতনাদিবাবদই ব্যয় হয়েছে ৬১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এ বিবেচনায় মূল ব্যবসার আয় দিয়ে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনাদিবাবদ ব্যয়ের ৫ শতাংশের কিছু বেশি এসেছে।

অথচ ব্যাংকটির এর বাহিরেও অনেক ব্যয় রয়েছে। যাতে ২০২৫ সালে বেতনাদিসহ ব্যাংকটির মোট পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৯৯৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি ব্যয় যোগ হয়েছে আরও ২১৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, যমুনা ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৯৩৯ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যেখানে সাধারণ  বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৫৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ,  উদ্যোক্তা পরিচালকদের মালিকানা রয়েছে ৩৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে তিন দশমিক ২১ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে দশমিক ১৩ শতাংশ। আজ ব্যাংকটির সমাপনী শেয়ার দর এসে দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৫০ টাকা।

জনপ্রিয় সংবাদ

যমুনা ব্যাংক: স্টাফদের বেতনের ৬ শতাংশও আসে না মূল ব্যবসায়

প্রকাশিত : ১১:৫৫:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি যমুনা ব্যাংক পিএলসি মূল ব্যাংকিং ব্যবসায় ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে। ঋণ ও আমানতনির্ভর আয়ের জায়গায় বড় ধরনের পতন হলেও বিনিয়োগ ও অন্যান্য আয়ের জোরে মুনাফা ধরে রেখেছে ব্যাংকটি—এমন চিত্র উঠে এসেছে ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাব বিশ্লেষণে। ব্যাংকটির এমনই মন্দা অবস্থা যে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনাদিবাবদ ব্যয়ের ৬ শতাংশও আয় হয় না মূল ব্যবসায়।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে যমুনা ব্যাংকের নিট সুদ আয় ছিল ৩৩৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। তবে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৯৭ লাখ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে নিট সুদ আয় কমেছে ৩০২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বা ৯০ শতাংশ, যা মূল ব্যাংকিং কার্যক্রমে বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

এই ঘাটতি সামাল দিতে ব্যাংকটি ঋণ কার্যক্রমের বদলে বিনিয়োগ আয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। সরকারি ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড, প্রাইজ বন্ড ও বিভিন্ন সিকিউরিটিজে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে ব্যাংকটি। ২০২৪ সালে যেখানে মোট বিনিয়োগ ছিল ১২ হাজার ৭৫৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, সেখানে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ১৯৮ কোটি ৬১ লাখ টাকায়। অর্থাৎ নতুন করে বিনিয়োগ করেছে ৭ হাজার ৪৩৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বা ৫৮ শতাংশ। এর ফলে বিনিয়োগ আয়ও বেড়েছে। ২০২৪ সালে বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকটির আয় ছিল ৯২৯ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮০ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়। এক বছরে বিনিয়োগ আয় বেড়েছে ৩৫১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বা ৩৮ শতাংশ।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগ ও অন্যান্য পরিচালন আয় বাদ দিলে ব্যাংকটি কার্যত লোকসানে পড়ত। কারণ ২০২৫ সালে ব্যাংকটির নিট সুদ আয় ছিল ৩২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, অথচ একই বছরে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেছনে বেতনাদিবাবদই ব্যয় হয়েছে ৬১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এ বিবেচনায় মূল ব্যবসার আয় দিয়ে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনাদিবাবদ ব্যয়ের ৫ শতাংশের কিছু বেশি এসেছে।

অথচ ব্যাংকটির এর বাহিরেও অনেক ব্যয় রয়েছে। যাতে ২০২৫ সালে বেতনাদিসহ ব্যাংকটির মোট পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৯৯৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি ব্যয় যোগ হয়েছে আরও ২১৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, যমুনা ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৯৩৯ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যেখানে সাধারণ  বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৫৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ,  উদ্যোক্তা পরিচালকদের মালিকানা রয়েছে ৩৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে তিন দশমিক ২১ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে দশমিক ১৩ শতাংশ। আজ ব্যাংকটির সমাপনী শেয়ার দর এসে দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৫০ টাকা।