০৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

কৃষকের কাছে পৌঁছায়নি সরকারের দেয়া ভর্তুকির সার

জাহাজ আসতে দেরি হওয়ার অজুহাত  দাঁড় করালেও অভিযোগ উঠেছে একধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির। তাই দেরিতে জেলা ও উপজেলায় পাঠানো হচ্ছে সার, সেই সার উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত ডিলারদের কাছে হস্তান্তরও হচ্ছে না সময় মত। ফলে কৃষকেরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অন্যদিকে বেসরকারি পর্যায়েও সার আমদানিতে ভর্তুকি দেয় সরকার, সব সারের একই মূল্য নির্ধারিত। সেই সারই বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। আবার অনেক ডিলার সরাসরি কৃষককে সার না দিয়ে অনৈতিকভাবে একধরনের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। এক জেলার বরাদ্দ সার অন্য জেলায় নিয়ে গিয়েও বিক্রি হচ্ছে। মুখে বলা হলেও আদতে কোনো ধরনের মনিটরিং নেই। এ অনিয়মের ফলেই ভোগান্তির স্বীকার বাংলার কৃষক সমাজ।

টিএসপি সার ব্যবহারে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করছে সরকার। আবার সেই সার আমদানিও করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডিএপি সার ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সব সারই ভর্তুকির। টিএসপির সংকটে ডিএপি সারও বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। দিন শেষে শস্য ফলিয়ে খরচ তুলতেই হিমশিম পরিস্থিতিতে পড়ছেন কৃষক। মূলত সার নিয়ে সরকারের একেক সময় এক নীতি কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছে।

একসময় কৃষকদের কাছে সার পৌঁছানোর পর আমদানিকারকেরা ভর্তুকি বুঝে পেতেন, ২০১০ সাল থেকে সেটি তাঁরা শুরুতেই পেয়ে যান। একদিকে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে, সেই সার আবার বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফাও করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা, আমদানিকারক ও ডিলাররা এ চক্রের সঙ্গে যুক্ত। এর মাধ্যমে শত শতকোটি টাকা লোপাট করে দিচ্ছেন তারা।

কৃষক সার পাওয়ার পর আমদানিকারককে ভর্তুকির টাকা পরিশোধ করা, মাঠপর্যায়ে জোরালো মনিটরিং, অনিয়মকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়া কোনোভাবেই এ চক্র ভাঙা সম্ভব নয়। সংসদীয় কমিটিসহ সরকারের শীর্ষ মহলের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। না হয় ধীরে ধীরে এ চক্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে বেশি সময় লাগবে না। যার প্রভাব পড়বে সরাসরি কৃষক সমাজের উপর। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অনিবার্য তাছাড়া স্বস্তি আসবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষকের কাছে পৌঁছায়নি সরকারের দেয়া ভর্তুকির সার

প্রকাশিত : ১০:৪১:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২১

জাহাজ আসতে দেরি হওয়ার অজুহাত  দাঁড় করালেও অভিযোগ উঠেছে একধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির। তাই দেরিতে জেলা ও উপজেলায় পাঠানো হচ্ছে সার, সেই সার উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত ডিলারদের কাছে হস্তান্তরও হচ্ছে না সময় মত। ফলে কৃষকেরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অন্যদিকে বেসরকারি পর্যায়েও সার আমদানিতে ভর্তুকি দেয় সরকার, সব সারের একই মূল্য নির্ধারিত। সেই সারই বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। আবার অনেক ডিলার সরাসরি কৃষককে সার না দিয়ে অনৈতিকভাবে একধরনের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। এক জেলার বরাদ্দ সার অন্য জেলায় নিয়ে গিয়েও বিক্রি হচ্ছে। মুখে বলা হলেও আদতে কোনো ধরনের মনিটরিং নেই। এ অনিয়মের ফলেই ভোগান্তির স্বীকার বাংলার কৃষক সমাজ।

টিএসপি সার ব্যবহারে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করছে সরকার। আবার সেই সার আমদানিও করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডিএপি সার ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সব সারই ভর্তুকির। টিএসপির সংকটে ডিএপি সারও বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। দিন শেষে শস্য ফলিয়ে খরচ তুলতেই হিমশিম পরিস্থিতিতে পড়ছেন কৃষক। মূলত সার নিয়ে সরকারের একেক সময় এক নীতি কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছে।

একসময় কৃষকদের কাছে সার পৌঁছানোর পর আমদানিকারকেরা ভর্তুকি বুঝে পেতেন, ২০১০ সাল থেকে সেটি তাঁরা শুরুতেই পেয়ে যান। একদিকে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে, সেই সার আবার বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফাও করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা, আমদানিকারক ও ডিলাররা এ চক্রের সঙ্গে যুক্ত। এর মাধ্যমে শত শতকোটি টাকা লোপাট করে দিচ্ছেন তারা।

কৃষক সার পাওয়ার পর আমদানিকারককে ভর্তুকির টাকা পরিশোধ করা, মাঠপর্যায়ে জোরালো মনিটরিং, অনিয়মকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়া কোনোভাবেই এ চক্র ভাঙা সম্ভব নয়। সংসদীয় কমিটিসহ সরকারের শীর্ষ মহলের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। না হয় ধীরে ধীরে এ চক্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে বেশি সময় লাগবে না। যার প্রভাব পড়বে সরাসরি কৃষক সমাজের উপর। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অনিবার্য তাছাড়া স্বস্তি আসবে না।