০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাংকের ফি বকেয়ার কারণে ঋণখেলাপি হবেন না প্রার্থী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘নন-ট্রানজেকশনাল’ ফি বা চার্জ অপরিশোধিত থাকার কারণে কোনো প্রার্থীকে ঋণখেলাপি দেখানো যাবে না। এ রকম কারণে কেউ ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) খেলাপি চিহ্নিত হয়ে থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করতে হবে। বিগত কয়েকটি নির্বাচনের মতো উদ্দেশ্যমূলক প্রার্থিতা বাতিল ঠেকাতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত খেলাপিদের কেউ যেন প্রার্থী হতে না পারে সে জন্য সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রস্তুত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নন-ট্রানজেকশনাল ফি বলতে এমন চার্জকে বোঝানো হয় যা সরাসরি ব্যাংকের ঋণ বা লেনদেনের কারণে সৃষ্টি নয়। বরং ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক ফি, অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ, ঋণ নেওয়ার আগে সিআইবির তথ্য নিতে নির্দিষ্ট চার্জ কিংবা এসএমএস ফি পরিশোধ না করাকে বোঝানো হয়। এর আগে জাতীয় নির্বাচনে প্রকৃতপক্ষে ঋণখেলাপি না হলেও এ ধরনের চার্জ পরিশোধ না করার কারণে খেলাপি দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। হয়রানিমূলকভাবে প্রার্থিতা বাতিলের জন্য এটি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গত রোববার ব্যাংকগুলোর এমডিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এ সম্পর্কিত নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, চূড়ান্ত প্রার্থী হওয়ার সাত দিন আগে কারও ঋণ নিয়মিত থাকলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হন। এ সময়ে কেউ খেলাপি চিহ্নিত হলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা। তবে সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, নির্বাচিত হওয়ার পরও যদিও কারও ঋণখেলাপি বা অন্য কোনো মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কয়েকটি নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীদের নানা অজুহাতে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ঋণখেলাপি নন, কিন্তু ক্রেডিট কার্ড বা অন্য কোনো ফি পরিশোধ না করার কারণে অনেকের প্রার্থিতা বাতিলের নজির রয়েছে। অন্যদিকে, ঋণখেলাপি হয়েও অনেকে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কৌশলে এই সুযোগ করে দেয়। একতরফা ওই নির্বাচনের ঠিক আগে আকস্মিকভাবে সিআইবির তথ্য আপডেট করার ক্ষমতা ব্যাংকের শাখা কর্মকর্তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাধারণভাবে তথ্য আপডেট করতে হলে শাখা থেকে কয়েকস্তর পেরিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসতে হতো। যে কারণে এর আগে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ, ঋণ পুনঃতপশিল, ব্যাংকের টাকা পরিশোধসহ নানা উপায়ে নিয়মিত করা হতো। তবে বিগত নির্বাচনে সরাসরি ব্যাংক শাখা থেকে তথ্য আপডেটের সুযোগের কারণে কোনো প্রক্রিয়া ছাড়াই খেলাপি হয়েও অনেকেই নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চার নির্দেশনা-
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীদের ঋণখেলাপি সংক্রান্ত সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দ্রুত প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী ঋণগ্রহীতার জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএনসহ পরিচিতিমূলক তথ্য এখনই হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। নির্বাচনকালীন ঋণতথ্য ভান্ডার যেন আরও যথার্থ, নির্ভরযোগ্য এবং মানসম্মত হয় সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে এখন থেকেই নজর দিতে বলা হয়েছে।
চার নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে– প্রথমত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণশ্রেণীকরণ নীতিমালা ও পরিদর্শনের ভিত্তিতে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক শ্রেণিমানে রিপোর্ট করতে হবে। এ ছাড়া সিআইবি ডেটাবেজে ব্যাংকগুলোর সব ঋণের তথ্য রিপোর্টিং নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কারও ‘আনরিপোর্টেড’ বা গোপন ঋণ থাকলে তা সিআইবি ডেটাবেজে থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, ক্রেডিট কার্ডের নন-ট্রানজেকশনাল ফি অপরিশোধিত থাকলে গ্রাহককে খেলাপি করা যাবে না। ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন-সংক্রান্ত দায় না থাকা সত্ত্বেও শুধু অপরিশোধিত নন-ট্রানজেকশনাল ফির কারণে সিআইবিতে কেউ খেলাপি থাকলে শ্রেণিমান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

তৃতীয়ত, সিআইবি ডেটাবেজে ঋণগ্রহীতাসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ করার বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া সব স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য যথাযথভাবে সিআইবি ডেটাবেজে রিপোর্ট করতে হবে। চতুর্থত, খেলাপি ঋণের কারণে মহামান্য হাইকোর্টে ঋণগ্রহীতার দায়ের করা সিআইবি-সংশ্লিষ্ট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইনজীবী নিয়োগসহ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যে সব মামলা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে খারিজ হয়েছে, সে বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে সিআইবিকে অবহিত করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাংকের ফি বকেয়ার কারণে ঋণখেলাপি হবেন না প্রার্থী

প্রকাশিত : ১২:২৪:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘নন-ট্রানজেকশনাল’ ফি বা চার্জ অপরিশোধিত থাকার কারণে কোনো প্রার্থীকে ঋণখেলাপি দেখানো যাবে না। এ রকম কারণে কেউ ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) খেলাপি চিহ্নিত হয়ে থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করতে হবে। বিগত কয়েকটি নির্বাচনের মতো উদ্দেশ্যমূলক প্রার্থিতা বাতিল ঠেকাতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত খেলাপিদের কেউ যেন প্রার্থী হতে না পারে সে জন্য সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রস্তুত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নন-ট্রানজেকশনাল ফি বলতে এমন চার্জকে বোঝানো হয় যা সরাসরি ব্যাংকের ঋণ বা লেনদেনের কারণে সৃষ্টি নয়। বরং ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক ফি, অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ, ঋণ নেওয়ার আগে সিআইবির তথ্য নিতে নির্দিষ্ট চার্জ কিংবা এসএমএস ফি পরিশোধ না করাকে বোঝানো হয়। এর আগে জাতীয় নির্বাচনে প্রকৃতপক্ষে ঋণখেলাপি না হলেও এ ধরনের চার্জ পরিশোধ না করার কারণে খেলাপি দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। হয়রানিমূলকভাবে প্রার্থিতা বাতিলের জন্য এটি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গত রোববার ব্যাংকগুলোর এমডিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এ সম্পর্কিত নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, চূড়ান্ত প্রার্থী হওয়ার সাত দিন আগে কারও ঋণ নিয়মিত থাকলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হন। এ সময়ে কেউ খেলাপি চিহ্নিত হলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা। তবে সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, নির্বাচিত হওয়ার পরও যদিও কারও ঋণখেলাপি বা অন্য কোনো মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কয়েকটি নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীদের নানা অজুহাতে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ঋণখেলাপি নন, কিন্তু ক্রেডিট কার্ড বা অন্য কোনো ফি পরিশোধ না করার কারণে অনেকের প্রার্থিতা বাতিলের নজির রয়েছে। অন্যদিকে, ঋণখেলাপি হয়েও অনেকে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কৌশলে এই সুযোগ করে দেয়। একতরফা ওই নির্বাচনের ঠিক আগে আকস্মিকভাবে সিআইবির তথ্য আপডেট করার ক্ষমতা ব্যাংকের শাখা কর্মকর্তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাধারণভাবে তথ্য আপডেট করতে হলে শাখা থেকে কয়েকস্তর পেরিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসতে হতো। যে কারণে এর আগে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ, ঋণ পুনঃতপশিল, ব্যাংকের টাকা পরিশোধসহ নানা উপায়ে নিয়মিত করা হতো। তবে বিগত নির্বাচনে সরাসরি ব্যাংক শাখা থেকে তথ্য আপডেটের সুযোগের কারণে কোনো প্রক্রিয়া ছাড়াই খেলাপি হয়েও অনেকেই নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চার নির্দেশনা-
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীদের ঋণখেলাপি সংক্রান্ত সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দ্রুত প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী ঋণগ্রহীতার জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএনসহ পরিচিতিমূলক তথ্য এখনই হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। নির্বাচনকালীন ঋণতথ্য ভান্ডার যেন আরও যথার্থ, নির্ভরযোগ্য এবং মানসম্মত হয় সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে এখন থেকেই নজর দিতে বলা হয়েছে।
চার নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে– প্রথমত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণশ্রেণীকরণ নীতিমালা ও পরিদর্শনের ভিত্তিতে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক শ্রেণিমানে রিপোর্ট করতে হবে। এ ছাড়া সিআইবি ডেটাবেজে ব্যাংকগুলোর সব ঋণের তথ্য রিপোর্টিং নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কারও ‘আনরিপোর্টেড’ বা গোপন ঋণ থাকলে তা সিআইবি ডেটাবেজে থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, ক্রেডিট কার্ডের নন-ট্রানজেকশনাল ফি অপরিশোধিত থাকলে গ্রাহককে খেলাপি করা যাবে না। ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন-সংক্রান্ত দায় না থাকা সত্ত্বেও শুধু অপরিশোধিত নন-ট্রানজেকশনাল ফির কারণে সিআইবিতে কেউ খেলাপি থাকলে শ্রেণিমান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

তৃতীয়ত, সিআইবি ডেটাবেজে ঋণগ্রহীতাসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ করার বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া সব স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য যথাযথভাবে সিআইবি ডেটাবেজে রিপোর্ট করতে হবে। চতুর্থত, খেলাপি ঋণের কারণে মহামান্য হাইকোর্টে ঋণগ্রহীতার দায়ের করা সিআইবি-সংশ্লিষ্ট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইনজীবী নিয়োগসহ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যে সব মামলা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে খারিজ হয়েছে, সে বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে সিআইবিকে অবহিত করতে হবে।