বাংলাদেশের পুঁজিবাজার- এ যেন নেতৃত্ব আর আস্থার সংকটের এক সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবাদ বাক্যের নামান্তর। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা হয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত। এক সময়ে মার্কেটের বিনিয়োগকারী বা পোর্টফোলিওর সংখ্যা ছিল ৩০ লক্ষের উপরে যা বর্তমানে ১৫ লক্ষতে এসে দাঁড়িয়েছে।
দেশের অর্থনীতি কিংবা শিল্পে অবদান রাখা তো দূরের কথা সাধারণ ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরাও এখন বিপর্যস্ত এবং হতাশাগ্রস্থ। উপায়ান্তু না পেয়ে বিনিয়োগকারীরা কখনো কফিন মিছিল আবার কখনো কাফন মিছিলও করেছে। কিন্তু কোন কিছুতেই সমস্যার সমাধান মেলেনি।
স্বনামধন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে চেয়ারম্যান বানিয়ে পরপর দুবার মার্কেট পরিচালনা করে কোন লাভ তো হয়নি বরং ভেঙে পড়েছে মার্কেটের ভিত্তি স্তর। তারপরে এলেন ব্যাংকার সেখানেও শোনা গেছে মার্কেট ধ্বংসের ঝংকার। তার সম্বন্ধে অর্থ উপদেষ্টা লেফাফা দুরস্ত নামকাওয়াস্তে কিছু প্রশংসা বাক্য ছড়ানোর চেষ্টা করেও লাভের লাভ তো কিছু হয়নি বরং মার্কেট চলে গেছে লাইফ সাপোর্টে।
এই কথা বলবে হিসেবের অংক, ২০২৪ সলের আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে মার্কেটের সাধারণ সূচক ছিল ৬০০০ উপরে, বর্তমানে যা ৪৭০০-৪৯০০’র ঘরে অবস্থান করছে। উন্নতি কিংবা সংস্কার কতটা হয়েছে বোঝাই যাচ্ছে। এছাড়াও জেড ক্যাটেগরিতে স্ক্রিপ্টের সংখ্যার ছড়াছড়ি যা বেড়েই চলেছে। কোন কোন শেয়ার এক টাকার নিচেও চলে গেছে। শত সহস্র বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও শূন্যে নেমে গেছে।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছেন সকল বাহিনী ও প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ সেই সাথে আছে শিক্ষকসহ সকল কর্ম পেশাজীবীর মানুষ। এতদসত্ত্বেও রাষ্ট্রযন্ত্র কিংবা দায়িত্বশীল কারো যেখানে টনক নরেনি বিন্দু মাত্র, দায়িত্বশীলতা এখানে সুদূর পরাহত।
এই অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর চেয়ারম্যান পরিবর্তনের দাবির প্রেক্ষিতে কিছুটা গুঞ্জন পাওয়া যাচ্ছে চেয়ারম্যান পরিবর্তনের। সেই সাথে শোনা যাচ্ছে নতুন সম্ভাব্য চেয়ারম্যানদের নাম। সেই সম্ভাব্য তালিকায় আবারো শোনা যাচ্ছে শিক্ষকদের নাম যদিও তালিকার মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ী এবং সেনা কর্মকর্তার নাম।
এরই প্রেক্ষিতে বেশ কিছু হাউজ এবং বিনিয়োগ কারীদের সাথে কথা বলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে তারা কোন ব্যাংকার, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী কিংবা শিক্ষককে চান না। এবার তারা একজন সেনা কর্মকর্তাকেই চান, আরও স্পষ্টভাবে তিনি হলেন পূর্বের আলোচিত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজ। তার পদবির বিষয়টি উল্লেখ করলে বিনিয়োগকারীরা স্পষ্ট করেই জানান তারা কোন বড় পদ পদবী দেখে, শিক্ষক কিংবা ব্যবসায়ী দেখে চেয়ারম্যান চাচ্ছেন না। তারা চাচ্ছেন মার্কেটের সাথে যিনি সরাসরি সম্পৃক্ত, ওতপ্রোতভাবে জড়িত, বিনিয়োগ কারীদের সাথে যার নিয়মিত সম্পর্ক রয়েছে, যিনি মার্কেটের বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞ, সাহসী এবং দেশ প্রেমিক তাকেই চাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থাৎ তারা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজ-কেই চেয়ারম্যান হিসেবে পেতে চান।
এ প্রেক্ষিতে আমরা কথা বলেছি লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজের সাথে। চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয় তার আগ্রহের কথা জানতে চাইলে তিনি জানান- আগ্রহ কিংবা অনাগ্রহ কিছু নয়, সরকার এবং সেনাবাহিনী তাকে যেখানে দায়িত্ব প্রদান করবে তিনি সেখানেই তার সবটুকু সিনসিয়ারিটি দিয়ে কাজ করবেন। চেয়ারম্যান হলে তিনি কিভাবে মার্কেটের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন – দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগকারী এবং মার্কেটের সাইকি কমপ্লিটলি ডেস্ট্রয় করা হয়েছে, সো এখানে কন্সট্রাক্টিভ রিপেয়ার প্রয়োজন, প্রয়োজন প্রজ্ঞাসহ রুলস্ অ্যাপ্লাই করে মার্কেটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ, মার্কেট বিনিয়োগ বান্ধব করে বিনিয়োগকারীদের আস্থার দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন অতীব জরুরী। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কমিটমেন্ট তথা দায়িত্বশীলতা নিয়ে কাজ করে দেশের শিল্প এবং অর্থনীতির জন্য সম্ভাবনাময় এবং বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত একটি মার্কেট গঠন করা। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উপর মন্তব্য আশা করলে তিনি বিনয়ের সাথে অপারগতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য যে, আমরা পূর্বে জেনেছি তিনি সর্বশেষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে “মাস কমিউনিকেশন এবং জার্নালিজম” এর উপরে মাস্টার্স সম্পন্ন করে সর্বমোট চারটি বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে বিউপিতে পিএইচডির ছাত্র হিসেবে অধ্যায়নরত। ১৯৯৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় তিনি সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান (স্ট্যান্ড) করে মেধার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি জাতিসংঘের অধীনে “সিভিল মিলিটারি কোঅপারেশন কোর্স” করেছেন এবং জাতিসংঘে সাহসিকতার জন্য “ফোর্স কমান্ডার’স কমেন্ডেশন” প্রাপ্ত হন। জাতির ক্রান্তিকালে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ২০১৩ সালে টেলিটকের পাঁচজন অপহৃত প্রকৌশলীকে উদ্ধার অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করেন।
লেখা: শাহাদাত হোসেন, সম্পাদক।
অনলাইন ডেস্ক 

























