০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ইনকিলাব জিন্দাবাদ

“ইনকিলাব জিন্দাবাদ”- ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি স্লোগান। এই ফার্সি শব্দ জোট বা বাগ্বিধি (Phrase)’র পূর্ণ বাংলা অর্থ- “বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক”।

১৯২১ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মৌলানা সৈয়দ ফজল-উল-হাসান হযরত মোহানি (হাসরত মোহানি) এই চিত্তাকর্ষক স্লোগান প্রবর্তন করেন। ১৯২০ দশকের শেষের দিকে ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা ভগৎ সিং এর বক্তৃতা এবং লেখার মাধ্যমে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ অধিকতর জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের এক চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯২৯ সালের ৮ই এপ্রিল ভগৎ সিং এবং তার সহযোগী বটুকেশ্বর (বি কে) দত্ত দ্বারা নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় সংসদ ভবনে (বিধান সভা) দুটি বোমা ফাটানোর ঘটনার পর পর উচ্চারিত এই স্লোগানের সর্বব্যাপী ব্যাপক প্রচার ঘটে। একই বছর জুন মাসে দিল্লির হাইকোর্টে ‘বিধানসভা বোমা মামলা’য় তাদের যৌথ বিবৃতির সর্বশেষ লাইন হিসেবে লিখিত এবং উচ্চারিত চৌম্বক অংশ হিসেবে উন্মুক্ত আদালতে প্রথমবারের মতো “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” বাক্য উত্থাপিত হবার পর হতে সমগ্র ভারতের মানুষের মুখে মুখে এই স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকে এই স্লোগান ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সকল সমাবেশে বিপ্লবের প্রাণ সঞ্চারী স্লোগান হিসেবে এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের রাজনৈতিক উপন্যাসগুলোতে একমাত্র আধ্যাত্মিক সঞ্জীবনী ও কালজয়ী স্লোগান হিসেবে স্থান করে নেয়।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ভৌগলিক সীমারেখা অতিক্রম করে বিভিন্ন সময়ে এই মহান স্লোগান যেসব আলোচিত ও বিখ্যাত সংগঠনে বিশেষভাবে বিজয়ের ঢাল নিশান হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায় তার মধ্যে অন্যতম হলোঃ ‘হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন’ (HSRA), ‘কমিউনিস্ট কনসোলিডেশন’, ‘অল ইন্ডিয়া আজাদ মুসলিম কনফারেন্স’ ইত্যাদি।

এই অমিয় স্লোগানের অংশ যেমন “জিন্দাবাদ” শব্দটিও একা অথবা অন্য কোন শব্দের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে অনেক দেশের প্রভাবশালী সংগঠন সমূহের দেশাত্মবোধক বা অফিসিয়াল স্লোগান হিসেবে দীর্ঘ জীবন কামনায়, বিজয়, দেশপ্রেম বা প্রার্থনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ আজাদী জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ( মুক্তিযুদ্ধের সময় হতে ব্যবহৃত হচ্ছে), ফিলিস্তিন জিন্দাবাদ, হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ (উত্তর -ঔপনিবেশিক ভারতের কৃষক আন্দোলনে ব্যবহৃত), পাকিস্তান জিন্দাবাদ, খালিস্তান জিন্দাবাদ।

সর্বশেষ বাংলাদেশের ‘জুলাই বিপ্লব’-এ এই স্লোগান বিশেষ প্রভাব রাখে। জুলাই আন্দোলনের গোরা পত্তন হতে বাংলাদেশের ফ্রান্স প্রবাসী চিকিৎসক ও বিশিষ্ট অনলাইন একটিভিষ্ট এবং ইনফ্লুয়েন্সার মিঃ পিনাকী কৌশলগত বহুল ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই কালজয়ী স্লোগানকে পুনরুজ্জীবিত করেন।

পুনশ্চঃ ইনকিলাব শব্দটি সর্ব প্রথম ব্যবহার করেন বিশিষ্ট দার্শনিক ও উর্দু কবি, পাকিস্তান রাষ্ট্রের আধ্যাত্মিক জনক ব্যারিস্টার গাজী আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল (আল্লামা ইকবাল)।

লেখাঃ এম.আই.টি এ.জে

জনপ্রিয় সংবাদ

ইনকিলাব জিন্দাবাদ

প্রকাশিত : ০৮:১০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫

“ইনকিলাব জিন্দাবাদ”- ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি স্লোগান। এই ফার্সি শব্দ জোট বা বাগ্বিধি (Phrase)’র পূর্ণ বাংলা অর্থ- “বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক”।

১৯২১ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মৌলানা সৈয়দ ফজল-উল-হাসান হযরত মোহানি (হাসরত মোহানি) এই চিত্তাকর্ষক স্লোগান প্রবর্তন করেন। ১৯২০ দশকের শেষের দিকে ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা ভগৎ সিং এর বক্তৃতা এবং লেখার মাধ্যমে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ অধিকতর জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের এক চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯২৯ সালের ৮ই এপ্রিল ভগৎ সিং এবং তার সহযোগী বটুকেশ্বর (বি কে) দত্ত দ্বারা নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় সংসদ ভবনে (বিধান সভা) দুটি বোমা ফাটানোর ঘটনার পর পর উচ্চারিত এই স্লোগানের সর্বব্যাপী ব্যাপক প্রচার ঘটে। একই বছর জুন মাসে দিল্লির হাইকোর্টে ‘বিধানসভা বোমা মামলা’য় তাদের যৌথ বিবৃতির সর্বশেষ লাইন হিসেবে লিখিত এবং উচ্চারিত চৌম্বক অংশ হিসেবে উন্মুক্ত আদালতে প্রথমবারের মতো “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” বাক্য উত্থাপিত হবার পর হতে সমগ্র ভারতের মানুষের মুখে মুখে এই স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকে এই স্লোগান ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সকল সমাবেশে বিপ্লবের প্রাণ সঞ্চারী স্লোগান হিসেবে এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের রাজনৈতিক উপন্যাসগুলোতে একমাত্র আধ্যাত্মিক সঞ্জীবনী ও কালজয়ী স্লোগান হিসেবে স্থান করে নেয়।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ভৌগলিক সীমারেখা অতিক্রম করে বিভিন্ন সময়ে এই মহান স্লোগান যেসব আলোচিত ও বিখ্যাত সংগঠনে বিশেষভাবে বিজয়ের ঢাল নিশান হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায় তার মধ্যে অন্যতম হলোঃ ‘হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন’ (HSRA), ‘কমিউনিস্ট কনসোলিডেশন’, ‘অল ইন্ডিয়া আজাদ মুসলিম কনফারেন্স’ ইত্যাদি।

এই অমিয় স্লোগানের অংশ যেমন “জিন্দাবাদ” শব্দটিও একা অথবা অন্য কোন শব্দের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে অনেক দেশের প্রভাবশালী সংগঠন সমূহের দেশাত্মবোধক বা অফিসিয়াল স্লোগান হিসেবে দীর্ঘ জীবন কামনায়, বিজয়, দেশপ্রেম বা প্রার্থনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ আজাদী জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ( মুক্তিযুদ্ধের সময় হতে ব্যবহৃত হচ্ছে), ফিলিস্তিন জিন্দাবাদ, হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ (উত্তর -ঔপনিবেশিক ভারতের কৃষক আন্দোলনে ব্যবহৃত), পাকিস্তান জিন্দাবাদ, খালিস্তান জিন্দাবাদ।

সর্বশেষ বাংলাদেশের ‘জুলাই বিপ্লব’-এ এই স্লোগান বিশেষ প্রভাব রাখে। জুলাই আন্দোলনের গোরা পত্তন হতে বাংলাদেশের ফ্রান্স প্রবাসী চিকিৎসক ও বিশিষ্ট অনলাইন একটিভিষ্ট এবং ইনফ্লুয়েন্সার মিঃ পিনাকী কৌশলগত বহুল ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই কালজয়ী স্লোগানকে পুনরুজ্জীবিত করেন।

পুনশ্চঃ ইনকিলাব শব্দটি সর্ব প্রথম ব্যবহার করেন বিশিষ্ট দার্শনিক ও উর্দু কবি, পাকিস্তান রাষ্ট্রের আধ্যাত্মিক জনক ব্যারিস্টার গাজী আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল (আল্লামা ইকবাল)।

লেখাঃ এম.আই.টি এ.জে