সোমবার (২ জুন, ২০২৫) তারিখে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ৭,৯০,০০০ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা। একদিনের ব্যবধানে দেখা গেছে যে, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সরকার পক্ষ যথারীতি আত্মপক্ষ সমর্থন করেছে- কল্যাণমুখী, জনবান্ধব, বাস্তবায়ন সম্ভব ইত্যাদি ইত্যাদি বলে। একই সাথে গৃহপালিত কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও স্তুতি কারক সমর্থন দিয়েছে। প্রকৃত বাস্তবতা সামনে অপেক্ষা করছে। সামনে যেগুলো দাঁড়াবে তা হলোঃ বাজেট ঘাটতি এবং সেটা মোকাবেলা, মুদ্রাস্ফীতি, জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি’র মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমূহ।
বাজেটে কি আছে পুঁজিবাজারের জন্যঃ
* নতুন বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করহার কমতে পারে ২.৫ ভাগ। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের কর নামবে ২০ শতাংশে। কর পরিবর্তিত হচ্ছে না পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানের। এসব প্রতিষ্ঠানকে আগের মতোই ২৭.৫ ভাগ কর দিতে হবে।
* পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ হাউজের সিকিউরিটিজ লেনদেন কর ০.০৫ শতাংশ থেকে কমে হচ্ছে ০.০৩ শতাংশ।
* মার্চেন্ট ব্যাংকের করহার ৩৭.৫ শতাংশ থেকে কমে হচ্ছে ২৭.৫।
আপাত প্রতিক্রিয়াঃ
ব্রোকারেজ হাউস এবং মার্চেন্ট ব্যাংক সরাসরি সুবিধা প্রাপ্ত হওয়ায় তার প্রভাবে মার্কেট দু চার দিনের জন্য হলেও কিছুটা বাড়তি যাবার কথা। তাই বলে মার্কেট গতি পেয়েছে এটা বলাটা নেহায়েত শিশুতোষ ছাড়া অন্য কিছু নয়। বলতেই হয় যে, বাজেট শেয়ার মার্কেটের জন্য superficially looking beautiful. অর্থাৎ অতি স্বল্প সময়ের জন্য মার্কেট একটু মুভ করতে পারে। সূচক সামান্য কিছু বাড়তে পারে।
প্রকৃত ফলাফলঃ
প্রস্তাবিত প্রণোদনায় বিনিয়োগকারীরা বাস্তবিক পক্ষে লাভবান হবেন—এমন কোনো স্পষ্ট বিষয় আছে কি ঘোষিত বাজেটে? সুস্পষ্ট উত্তর হল- “না”, নেই। মার্কেটকে মুভ করানোর জন্য কোন টুলস্ এখানে নেই। মার্কেট মুভ করতে হলে সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী ইনফ্লুয়েন্সিয়াল টুলস্ হলো মানি ফ্লো তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক নির্দেশনা। যেটার ব্যাপারে কোন প্রস্তাবনা আসে নাই। মার্কেটের জন্য বিশেষ কোন অ্যাট্রাকশনও এখানে নেই। তবে সিকিউরিটি হাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে কিছুটা সুবিধা প্রদান করায় খুব স্বল্প সময়ের জন্য মার্কেট সুপার ফেসিয়াল রেইস করলেও লং টাইম সাসটেইন করা কঠিন হবে। যার প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠবে মার্কেটের টোটাল টার্নওভারের উপরে। বিনিয়োগকারীদেরকে দূরে রেখে প্রতিদিনের টার্নওভার বাড়ানো খুব একটা সহজ হবে না। সামনের দিনগুলোর টার্নওভার দেখলেই বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে।
স্পষ্টত এসব প্রণোদনার সুবিধাভোগী হবেন কেবলমাত্র শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সরাসরি বিনিয়োগকারীরা এর কোনো সুবিধা পাবেন না। অর্থাৎ অর্থ উপদেষ্টা প্রস্তাবিত বাজেটে সুকৌশলে শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের কে ফাঁকি দিয়ে মার্কেটে বুর্জোয়া ব্যবস্থা তৈরি করতে চেয়েছেন। এই ব্যবস্থায় মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ গুলোর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছেন।বিষয়টি পরিষ্কার হতে বোধ করি বেশি সময় লাগবে না। ফলশ্রুতিতে অর্থ উপদেষ্টা সহ তার দল বলের প্রতি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের অনাস্থা অবিভাযোজ্যই রয়ে যাবে। তবে এক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলো ‘নুন খেয়ে গুণ গাওয়া’র তত্ত্ব (নিমক হারামি না করা) অনুযায়ী ওকালতি (দালালি) চালিয়ে যাবে বাজার নিয়ন্ত্রকদের পক্ষে।
জুলাই বিপ্লবের পর হতে সুদীর্ঘ দশ(১০) মাস মন্দার কবলে বিপর্যস্ত পুঁজিবাজার। এরই ফলে চরম ক্ষতির কবলে থাকা বিনিয়োগকারীরা বাজার মেরামতের জন্য এবং চৌকস ও মেধাবী নেতৃত্বের দাবীতে বহুবার রাজপথেও নেমেছেন প্রতিবাদে। ক্ষতির চরম সীমায় পৌঁছে যাওয়া বিনিয়োগকারীরা উপায়ান্তু না দেখে নিজেদের প্রকৃত অবস্থা দেশবাসী এবং সর্বোচ্চ মহলের নিকট তুলে ধরার জন্য কফিন মিছিল এবং কাফন মিছিল করেছেন।
সব শেষে বিক্ষুব্ধ ও হতাশাগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা কিছুটা আশা নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন বাজেটের দিকে। স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারীরা আশা করেছিলেন যে, বাজেটে শেয়ারবাজারে আস্থা ও গতি ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ নেবে সরকার। বিনিয়োগকারীদের জন্য দেওয়া হবে প্রণোদনা—এই আশায় ছিলেন তাঁরা। বাজেটকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের যতটা যতটা প্রত্যাশা ছিল, প্রাপ্তি সেই ততটাই হতাশাজনক। একদম শেষ পর্যায়ে এসে স্বভাবতই বিনিয়োগকারীদের মনে প্রশ্নের উদয় হচ্ছেঃ শেয়ারবাজারকে কি তাহলে কোনভাবেই উপেক্ষিত কিংবা যত্নহীন রেখে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে আনা হয়নি? বরং সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হচ্ছে!
এর আশুসমাধান যথা শীঘ্রই অতীব জরুরী। সমাধানের পথ তাহলে কি?
(চলবে- সমাধানের উপায়)
লেখাঃ এম.আই.টি এজে
অনলাইন ডেস্ক 
























