০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

দেশের মানুষ নির্বাচন চায় : শওকত আজিজ

বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ‘দৈনিক যুগান্তর’ এর ৩০ মার্চ ২০২৫ এ প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয় “ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য দেশে ৫২ টি রাজনৈতিক দল একমত”। অথচ আজ ড. ইউনুস সাহেব একটি জলজ্যান্ত প্রকাশিত সত্যকে যেভাবে মিথ্যা দিয়ে আড়াল করলেন তা আমাকে মোটেও অবাক করেনি। আমার মনে হয় সময়ের সাথে সাথে তার ভাবনা ও তার বিপরিতে আসল সত্য বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের কাছে দিবালোকের মত উন্মোচিত হবে।

নির্বাচন নিয়ে যে ভ্রান্ত যুক্তি সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা যাচ্ছে তার পরিপ্রেক্ষিতে, বিএনপির একজন দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিকের দৃষ্টিকোন থেকে আমি কয়েকটি বিষয় কিছুটা আলোকপাত করতে চাই।

প্রথমত – পৃথিবীর যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দলের নির্বাচন চাওয়া নিশ্চয়ই অমূলক কিছু নয়! নির্বাচন হলো জনগনের সরকার গঠনের একমাত্র সাংবিধানিক ক্ষমতা। নির্বাচন কে চাইলো বা না চাইলো এটা তো মুখ্য বিষয় নয়, জনগনকে ভোটাধিকারের সুযোগ দেয়াটাই প্রধান মুখ্য বিষয়। বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজপথে এই নির্বাচনের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে গুম খুন আর হামলা মামলার শিকার হয়েছে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। আর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন ও নতুন সরকারের ক্ষমতায় বসা কোন আশ্চর্য বিষয় নয়। আশ্চর্যের বিষয় সেটাই যেটা এখন আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ব্যাপারটা হচ্ছে পরীক্ষায় ফেল করার সম্ভাবনা বা প্রস্তুতি ভালো না থাকলে ঐসব ছাত্ররা পরীক্ষা চাইবে না, পিছানো হোক এটাই চায়! এটা কি কখনো কাম্য!? তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় একবার বলেছেন ডিসেম্বরে মধ্যেই নির্বাচন হবে আর এখন বলছেন জুনে!

দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কোন ছেলের হাতের মোয়া নয়। নির্বাচনের রোড ম্যাপ না দিলে রাজনৈতিক দল গুলো কিভাবে শুধু আপনার কথার উপরে আস্থা রাখবে? আগেও একজন ফ্যাসিস্ট শিরোমণি আমাদেরকে কথা দিয়েছিল এবং সাংবিধানিক সংকটের দোহায় দিয়ে নিয়ম রক্ষার নির্বাচন করেছিলো এবং দেশের মানুষ কে আশ্বস্ত করেছিল যে অতি দ্রুতই সবার অংশগ্রহণে আরেকটা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, কিন্তু উনি উনার কথা রাখেনি, ক্ষমতার মোহ উনাকে এতটাই বেপরোয়া করেছিলো শেষ পর্যন্ত নেতা কর্মীদের অসহায় রেখে পালাতে বাধ্য হয়েছিল। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! অথচ বর্তমান সরকার প্রধান ড. ইউনুস মুখে সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন, ভোটাধিকার, ইনসাফ, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার—কোনো বিষয়েই কার্যকর অবস্থান নেননি। এখন যখন সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তখন তিনি সংস্কারের বু’লি আওড়াচ্ছেন। সত্যি বলতে, এটা একধরনের দ্বি’চারিতা—যেখানে ন্যায়ের পাশে না থেকে তিনি দীর্ঘ সময় নিরব ছিলেন, এখন আবার নেতৃত্বের ভাষায় কথা বলছেন। এটা কি ল’জ্জাহীনতা নয়?

সর্বোপরি, দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিবেশের জন্য সরকার প্রধান হিসেবে আপনি দায়ী, কারণ বাংলাদেশের গনতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে বিএনপি দীর্ঘ দিন রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে গুম খুন ও অগণিত মামলা হামলার শিকার হয়েছে শুধু মাত্র নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের দাবিতে এবং তারই ধারাবাহিকতায় চূড়ান্তপর্বে আসে ৫ই আগষ্ট। এরপর ও যদি আপনি নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করেন তবে আপনাকে ক্ষমতা লোভী ছাড়া জনগণ অন্য চোখে দেখার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

লেখা: মো: শওকত আজিজ, ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস। জুলাই আগস্ট সংগঠক ও সমাজকর্মী

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের মানুষ নির্বাচন চায় : শওকত আজিজ

প্রকাশিত : ০২:০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ‘দৈনিক যুগান্তর’ এর ৩০ মার্চ ২০২৫ এ প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয় “ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য দেশে ৫২ টি রাজনৈতিক দল একমত”। অথচ আজ ড. ইউনুস সাহেব একটি জলজ্যান্ত প্রকাশিত সত্যকে যেভাবে মিথ্যা দিয়ে আড়াল করলেন তা আমাকে মোটেও অবাক করেনি। আমার মনে হয় সময়ের সাথে সাথে তার ভাবনা ও তার বিপরিতে আসল সত্য বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের কাছে দিবালোকের মত উন্মোচিত হবে।

নির্বাচন নিয়ে যে ভ্রান্ত যুক্তি সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা যাচ্ছে তার পরিপ্রেক্ষিতে, বিএনপির একজন দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিকের দৃষ্টিকোন থেকে আমি কয়েকটি বিষয় কিছুটা আলোকপাত করতে চাই।

প্রথমত – পৃথিবীর যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দলের নির্বাচন চাওয়া নিশ্চয়ই অমূলক কিছু নয়! নির্বাচন হলো জনগনের সরকার গঠনের একমাত্র সাংবিধানিক ক্ষমতা। নির্বাচন কে চাইলো বা না চাইলো এটা তো মুখ্য বিষয় নয়, জনগনকে ভোটাধিকারের সুযোগ দেয়াটাই প্রধান মুখ্য বিষয়। বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজপথে এই নির্বাচনের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে গুম খুন আর হামলা মামলার শিকার হয়েছে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। আর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন ও নতুন সরকারের ক্ষমতায় বসা কোন আশ্চর্য বিষয় নয়। আশ্চর্যের বিষয় সেটাই যেটা এখন আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ব্যাপারটা হচ্ছে পরীক্ষায় ফেল করার সম্ভাবনা বা প্রস্তুতি ভালো না থাকলে ঐসব ছাত্ররা পরীক্ষা চাইবে না, পিছানো হোক এটাই চায়! এটা কি কখনো কাম্য!? তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় একবার বলেছেন ডিসেম্বরে মধ্যেই নির্বাচন হবে আর এখন বলছেন জুনে!

দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কোন ছেলের হাতের মোয়া নয়। নির্বাচনের রোড ম্যাপ না দিলে রাজনৈতিক দল গুলো কিভাবে শুধু আপনার কথার উপরে আস্থা রাখবে? আগেও একজন ফ্যাসিস্ট শিরোমণি আমাদেরকে কথা দিয়েছিল এবং সাংবিধানিক সংকটের দোহায় দিয়ে নিয়ম রক্ষার নির্বাচন করেছিলো এবং দেশের মানুষ কে আশ্বস্ত করেছিল যে অতি দ্রুতই সবার অংশগ্রহণে আরেকটা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, কিন্তু উনি উনার কথা রাখেনি, ক্ষমতার মোহ উনাকে এতটাই বেপরোয়া করেছিলো শেষ পর্যন্ত নেতা কর্মীদের অসহায় রেখে পালাতে বাধ্য হয়েছিল। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! অথচ বর্তমান সরকার প্রধান ড. ইউনুস মুখে সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন, ভোটাধিকার, ইনসাফ, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার—কোনো বিষয়েই কার্যকর অবস্থান নেননি। এখন যখন সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তখন তিনি সংস্কারের বু’লি আওড়াচ্ছেন। সত্যি বলতে, এটা একধরনের দ্বি’চারিতা—যেখানে ন্যায়ের পাশে না থেকে তিনি দীর্ঘ সময় নিরব ছিলেন, এখন আবার নেতৃত্বের ভাষায় কথা বলছেন। এটা কি ল’জ্জাহীনতা নয়?

সর্বোপরি, দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিবেশের জন্য সরকার প্রধান হিসেবে আপনি দায়ী, কারণ বাংলাদেশের গনতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে বিএনপি দীর্ঘ দিন রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে গুম খুন ও অগণিত মামলা হামলার শিকার হয়েছে শুধু মাত্র নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের দাবিতে এবং তারই ধারাবাহিকতায় চূড়ান্তপর্বে আসে ৫ই আগষ্ট। এরপর ও যদি আপনি নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করেন তবে আপনাকে ক্ষমতা লোভী ছাড়া জনগণ অন্য চোখে দেখার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

লেখা: মো: শওকত আজিজ, ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস। জুলাই আগস্ট সংগঠক ও সমাজকর্মী