১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

ওয়েব কোটসের কিউআইওর অর্থ কোথায় গেল, খতিয়ে দেখবে বিএসইসি

শেয়ারবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত ওয়েব কোটস পিএলসির কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যয় হয়েছে কি না, লেনদেনে কারা জড়িত এবং কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। অনিয়মের প্রমাণ মিললে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়ও নির্ধারণ করা হবে।

এ জন্য দুই সদস্যের একটি পরিদর্শন দল গঠন করেছে বিএসইসি। সম্প্রতি কমিশনের মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের পরিদর্শন শাখা এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। দলের সদস্যরা হলেন কমিশনের যুগ্ম পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক ফারহানা ওয়ালেজা। আদেশ জারির ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পরিদর্শন শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ওয়েব কোটসের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করা প্রয়োজন। এ কারণে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর ১৭ বিধিতে দেওয়া ক্ষমতাবলে কোম্পানিটির কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পরিদর্শনে প্রথমেই দেখা হবে, কিউআইওর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা খাতে এবং কমিশনের সম্মতিপত্রের শর্ত অনুযায়ী ব্যয় হয়েছে কি না। শুধু কোম্পানির জমা দেওয়া কাগজপত্রের ওপর নির্ভর না করে বাস্তবে অর্থ কোথায় ও কীভাবে খরচ হয়েছে, তা-ও যাচাই করবেন কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া অর্থের লেনদেনে কোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল, অর্থ কোন পথে স্থানান্তর হয়েছে এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা কতটুকু—এসব বিষয় অনুসন্ধানের আওতায় থাকবে। সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত ব্যবহার এবং লেনদেনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা শনাক্ত করাই হবে পরিদর্শনের অন্যতম লক্ষ্য।

কোম্পানির আর্থিক বিবরণীও খতিয়ে দেখবেন পরিদর্শক দলের সদস্যরা। কিউআইওর অর্থ ব্যবহারের তথ্য যথাসময়ে ও যথাযথভাবে আর্থিক বিবরণীতে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি খুচরা নগদ ব্যয় ছাড়া অন্যান্য লেনদেন ক্রসড চেক বা ব্যাংক স্থানান্তরের মাধ্যমে হয়েছে কি না, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন এবং অব্যবহৃত অর্থের স্থিতিও যাচাই করা হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিদর্শনে সিকিউরিটিজ আইন, বিধি বা প্রবিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের শনাক্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিব, নিরীক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও দায় নির্ধারণ করা হবে। তাঁদের বক্তব্য বা ব্যাখ্যাও পর্যালোচনা করবেন কর্মকর্তারা।

অর্থাৎ, কিউআইওর অর্থ ব্যবহারে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে শুধু কোম্পানির দায় নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বিএসইসির অনুসন্ধান; অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ও লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়ও খতিয়ে দেখা হবে।

 

ওয়েব কোটসের কিউআইওর অর্থ কোথায় গেল, খতিয়ে দেখবে বিএসইসি

প্রকাশিত : ১০:৩৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

শেয়ারবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত ওয়েব কোটস পিএলসির কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যয় হয়েছে কি না, লেনদেনে কারা জড়িত এবং কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। অনিয়মের প্রমাণ মিললে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়ও নির্ধারণ করা হবে।

এ জন্য দুই সদস্যের একটি পরিদর্শন দল গঠন করেছে বিএসইসি। সম্প্রতি কমিশনের মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের পরিদর্শন শাখা এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। দলের সদস্যরা হলেন কমিশনের যুগ্ম পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক ফারহানা ওয়ালেজা। আদেশ জারির ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পরিদর্শন শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ওয়েব কোটসের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করা প্রয়োজন। এ কারণে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর ১৭ বিধিতে দেওয়া ক্ষমতাবলে কোম্পানিটির কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পরিদর্শনে প্রথমেই দেখা হবে, কিউআইওর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা খাতে এবং কমিশনের সম্মতিপত্রের শর্ত অনুযায়ী ব্যয় হয়েছে কি না। শুধু কোম্পানির জমা দেওয়া কাগজপত্রের ওপর নির্ভর না করে বাস্তবে অর্থ কোথায় ও কীভাবে খরচ হয়েছে, তা-ও যাচাই করবেন কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া অর্থের লেনদেনে কোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল, অর্থ কোন পথে স্থানান্তর হয়েছে এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা কতটুকু—এসব বিষয় অনুসন্ধানের আওতায় থাকবে। সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত ব্যবহার এবং লেনদেনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা শনাক্ত করাই হবে পরিদর্শনের অন্যতম লক্ষ্য।

কোম্পানির আর্থিক বিবরণীও খতিয়ে দেখবেন পরিদর্শক দলের সদস্যরা। কিউআইওর অর্থ ব্যবহারের তথ্য যথাসময়ে ও যথাযথভাবে আর্থিক বিবরণীতে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি খুচরা নগদ ব্যয় ছাড়া অন্যান্য লেনদেন ক্রসড চেক বা ব্যাংক স্থানান্তরের মাধ্যমে হয়েছে কি না, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন এবং অব্যবহৃত অর্থের স্থিতিও যাচাই করা হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিদর্শনে সিকিউরিটিজ আইন, বিধি বা প্রবিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের শনাক্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিব, নিরীক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও দায় নির্ধারণ করা হবে। তাঁদের বক্তব্য বা ব্যাখ্যাও পর্যালোচনা করবেন কর্মকর্তারা।

অর্থাৎ, কিউআইওর অর্থ ব্যবহারে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে শুধু কোম্পানির দায় নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বিএসইসির অনুসন্ধান; অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ও লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়ও খতিয়ে দেখা হবে।