১২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছাইদার-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘আবুছাইদার রহমান স্মারক বৃত্তি’ প্রদান

রামগঞ্জ, নীলফামারী ৪ জুলাই ২০২৬: ছাইদার-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে রামগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘আবুছাইদার রহমান স্মারক বৃত্তি’ প্রদান করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মরহুম আবুছাইদার রহমানের পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ বৃত্তির আওতায় মোট ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা মেধাবৃত্তি বিতরণ করা হয়।

শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) রামগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব ইয়াসমিন সুলতানা, সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, দাতা পরিবারের সদস্য, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: রায়হান আখতার, যুগ্ম সচিব, ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও প্রশিক্ষণ অনুবিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়, জনাব এটিএম নুরল আমীন শাহ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, নীলফামারী সদর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন জনাব জুলফিকার আলী, প্রভাষক, জলঢাকা সরকারি ডিগ্রি কলেজ।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মোট ১২ জন শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি প্রদান করা হয়। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ৪০,০০০ টাকা বৃত্তি বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি সমাজের বিত্তবান ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের শিক্ষার উন্নয়নে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মরহুম আবুছাইদার রহমান ১৯৪৫ সালে রংপুর জেলার নীলফামারী মহকুমার নীলফামারী থানার টুপামারী ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে নীলফামারী হাইস্কুল (বর্তমানে নীলফামারী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়) থেকে এসএসসি, ১৯৬৬ সালে নীলফামারী কলেজ (বর্তমানে নীলফামারী সরকারি কলেজ) থেকে এইচএসসি, ১৯৭০ সালে বিএ এবং ১৯৮২–৮৩ শিক্ষাবর্ষে রংপুর শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৬৮ সালে চওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে রামগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ১৯৭৪ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করেন। ১৯৯১ সালের ১৬ জানুয়ারি কর্মরত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পারিবারিক জীবনে তিনি পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন। তাঁর সন্তানরা পিতার আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষা, সততা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পরিবারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘আবুছাইদার রহমান স্মারক বৃত্তি’ ইতোমধ্যে একটি প্রশংসনীয় শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাইদার-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘আবুছাইদার রহমান স্মারক বৃত্তি’ প্রদান

প্রকাশিত : ১০:২২:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

রামগঞ্জ, নীলফামারী ৪ জুলাই ২০২৬: ছাইদার-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে রামগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘আবুছাইদার রহমান স্মারক বৃত্তি’ প্রদান করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মরহুম আবুছাইদার রহমানের পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ বৃত্তির আওতায় মোট ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা মেধাবৃত্তি বিতরণ করা হয়।

শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) রামগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব ইয়াসমিন সুলতানা, সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, দাতা পরিবারের সদস্য, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: রায়হান আখতার, যুগ্ম সচিব, ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও প্রশিক্ষণ অনুবিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়, জনাব এটিএম নুরল আমীন শাহ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, নীলফামারী সদর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন জনাব জুলফিকার আলী, প্রভাষক, জলঢাকা সরকারি ডিগ্রি কলেজ।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মোট ১২ জন শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি প্রদান করা হয়। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ৪০,০০০ টাকা বৃত্তি বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি সমাজের বিত্তবান ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের শিক্ষার উন্নয়নে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মরহুম আবুছাইদার রহমান ১৯৪৫ সালে রংপুর জেলার নীলফামারী মহকুমার নীলফামারী থানার টুপামারী ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে নীলফামারী হাইস্কুল (বর্তমানে নীলফামারী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়) থেকে এসএসসি, ১৯৬৬ সালে নীলফামারী কলেজ (বর্তমানে নীলফামারী সরকারি কলেজ) থেকে এইচএসসি, ১৯৭০ সালে বিএ এবং ১৯৮২–৮৩ শিক্ষাবর্ষে রংপুর শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৬৮ সালে চওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে রামগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ১৯৭৪ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করেন। ১৯৯১ সালের ১৬ জানুয়ারি কর্মরত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পারিবারিক জীবনে তিনি পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন। তাঁর সন্তানরা পিতার আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষা, সততা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পরিবারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘আবুছাইদার রহমান স্মারক বৃত্তি’ ইতোমধ্যে একটি প্রশংসনীয় শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।