০৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সুদিনের ইঙ্গিত শেয়ারবাজারে, উত্থানের পর এলো স্বাভাবিক সমন্বয়

টানা ১০ কর্মদিবস ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর দেশের শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক উত্থানে বাজারের দৈনিক লেনদেন দেড় হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেছিল এবং প্রধান সূচকও ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টের মাইলফলক পেরিয়েছিল। তবে সোমবার (৮ জুন) লেনদেন ও সূচকে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়, যা বাজারের জন্য ইতিবাচক ও স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। টানা দরবৃদ্ধির পর কিছুটা সংশোধন হওয়া বাজারের সুস্থ বিকাশেরই অংশ। তাদের ভাষ্য, বর্তমানে বাজারে ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কমিশনের কার্যকর ও আন্তরিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা আরও বাড়বে এবং সূচক ও লেনদেন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এ কারণে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগকে এখনও নিরাপদ মনে করছেন তারা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৩ দশমিক ১৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৮২ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ৭ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৮ দশমিক ১১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ব্লু-চিপ সূচক ডিএসই-৩০ কমেছে ১৮ দশমিক ০৪ পয়েন্ট এবং দিন শেষে সূচকটি ২ হাজার ৬৯ দশমিক ১৫ পয়েন্টে অবস্থান করে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০২টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, ২৪৭টির দর কমেছে এবং ৪৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

লেনদেনের দিক থেকে ডিএসইতে দিনভর মোট ১ হাজার ৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫২৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৪৫৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সোমবার ৪৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যেখানে লেনদেন হয়েছিল ৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকার।

সিএসইতে এদিন মোট ২৩৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৭৮টির দর বেড়েছে, ১৩৪টির দর কমেছে এবং ২৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

সূচকের ক্ষেত্রেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৮৪ দশমিক ৭০ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩১৪ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, আগের কার্যদিবসে এই সূচকটি ১২৯ দশমিক ২০ পয়েন্ট বেড়েছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের উত্থানের পর এমন সংশোধন বাজারকে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুদিনের ইঙ্গিত শেয়ারবাজারে, উত্থানের পর এলো স্বাভাবিক সমন্বয়

প্রকাশিত : ০৪:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

টানা ১০ কর্মদিবস ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর দেশের শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক উত্থানে বাজারের দৈনিক লেনদেন দেড় হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেছিল এবং প্রধান সূচকও ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টের মাইলফলক পেরিয়েছিল। তবে সোমবার (৮ জুন) লেনদেন ও সূচকে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়, যা বাজারের জন্য ইতিবাচক ও স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। টানা দরবৃদ্ধির পর কিছুটা সংশোধন হওয়া বাজারের সুস্থ বিকাশেরই অংশ। তাদের ভাষ্য, বর্তমানে বাজারে ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কমিশনের কার্যকর ও আন্তরিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা আরও বাড়বে এবং সূচক ও লেনদেন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এ কারণে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগকে এখনও নিরাপদ মনে করছেন তারা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৩ দশমিক ১৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৮২ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ৭ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৮ দশমিক ১১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ব্লু-চিপ সূচক ডিএসই-৩০ কমেছে ১৮ দশমিক ০৪ পয়েন্ট এবং দিন শেষে সূচকটি ২ হাজার ৬৯ দশমিক ১৫ পয়েন্টে অবস্থান করে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০২টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, ২৪৭টির দর কমেছে এবং ৪৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

লেনদেনের দিক থেকে ডিএসইতে দিনভর মোট ১ হাজার ৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫২৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৪৫৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সোমবার ৪৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যেখানে লেনদেন হয়েছিল ৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকার।

সিএসইতে এদিন মোট ২৩৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৭৮টির দর বেড়েছে, ১৩৪টির দর কমেছে এবং ২৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

সূচকের ক্ষেত্রেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৮৪ দশমিক ৭০ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩১৪ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, আগের কার্যদিবসে এই সূচকটি ১২৯ দশমিক ২০ পয়েন্ট বেড়েছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের উত্থানের পর এমন সংশোধন বাজারকে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।