০৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের বিজয় দিবসঃ মোদি ও ভারতের দৈন্যতা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৭:২৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 182

“On Vijay Diwas, we remember the brave soldiers whose courage and sacrifice ensured India had a historic victory in 1971. Their steadfast resolve and selfless service protected our nation and etched a moment of pride in our history. This day stands as a salute to their valour and a reminder of their unmatched spirit. Their heroism continues to inspire generations of Indians.”

এই পোস্টটি করেছেন মিস্টার মোদি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

আজ ১৬ ডিসেম্বর। এক রক্ত ক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ অর্জন করে মহান “স্বাধীনতা”। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিস্টার মোদী বাংলাদেশের লাখো শহীদের পুরো অর্জনকে ছিনতাই করতে চাচ্ছেন। এতেই যেন আত্মতুষ্টি, পরম তৃপ্তি। আমার মনে হয়, তার এই তৃপ্তিকে মহা গুনে বাড়িয়ে দিবে পৃথিবীর সকল স্বাধীন রাষ্ট্র- বিশেষ করে যারা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে তাদের সকলের অর্জনের একটি অংশ মোদী মহাশয় এবং ভারতকে দিয়ে দেয়ার মাধ্যমে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এতে বীর জাতিদের অর্জন বিন্দুমাত্র কমবে না অন্যদিকে কাপুরুষ ভীরু ধর্ম ব্যবসায়ী মোদিরা মিছেমিছি অগাধ আত্মতৃপ্তি পাবে। মোদির দল আত্মার কাঙ্গালীপনা আর দৈনতার সকল সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। এমন ভিক্ষুক নেতা বোধকরি  পৃথিবীময় দ্বিতীয়টি আর জন্ম হবে না।

ভারত রাজ্য এবং মোদি মহাশয় ভুলে যাবেন না আপনি ভারতের মতো একটি বড় রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হলেও আপনি কিন্তু গন্ডমূর্খ অশিক্ষিত। হামলা, কামলা, প্রতিপক্ষকে হত্যা, ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে নিম্নমানের রাজনীতি করা ছাড়া উন্নত বুদ্ধির ছিটেফোঁটাও নেই আপনার মাথা মগজে, গুণগত মানের রাজনৈতিক বুদ্ধি সে তো আপনার কল্পনারও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পৃথিবীর ভদ্র রাষ্ট্র গুলোর রাষ্ট্রপ্রধানগণ কোন মতেই আপনাকে সম্মান প্রদর্শন করে না, তারা সম্মান করে নিজ সম্মানের খাতিরে আরেকটি (বড় আয়তনের) দেশের প্রধানমন্ত্রীকে।

মিঃ মোদির গুজরাট ম্যাসাকারের খবর পুরো পৃথিবীবাসী জানে, গুজরাটের সিনিয়র ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তা সঞ্জিব ভাট আদালতের জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন গুজরাট ম্যাসাকারে মোদির নৃশংসতার তথ্য।

২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাটের ‘গোধরা রেলস্টেশনের’ নিকটে ‘সাবারমাতি এক্সপ্রেস’ ট্রেনে নিতান্তই দুর্ঘটনা বসত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সে ঘটনায় পুড়ে মারা যায় অযোধ্যার বাবরি মসজিদ এলাকা থেকে পূজা শেষে ফিরতিদের ৫৯ জন তীর্থযাত্রী। মোদী মশাই গুজব ছড়িয়ে দেন যে  স্থানীয় মুসলিমরাই নাকি সেই ট্রেনে আগুন দিয়েছে। সেই গুজবের উপর ভিত্তি করে গুজরাটে রচনা করা হয় ভারতবর্ষের ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় ‘গুজরাট দাঙ্গা’ (The Gujrat Riot)। তখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিল নরেন্দ্র মোদি। স্থানীয় হিন্দুদেরকে সরকারি পুলিশ বাহিনী দিয়ে দাঙ্গায় সাহায্য করতে নির্দেশনা দিয়েছিল এই মোদি। নির্বাচনে মোদির অন্যতম প্রতিপক্ষ এহসান জাফরির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল কিছু মুসলিম।

প্রায় বিশ হাজার উন্মত্ত হিন্দু নিয়ে মোদি তার বাড়ি ঘেরাও করে। মোদির দল এহসান জাফরির হাত ও পা দু’টো কেটে মৃতদেহ টেনে হিঁচড়ে নিয়ে বেড়ায়, শেষে মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এহসান জাফরির বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া মুসলিম পুরুষদের নির্মমভাবে কুপিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়, শিশুদেরকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়, নারীদের ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়। প্রায় সপ্তাহব্যাপী স্থায়ী হয় এই রক্তপাত। এসময় প্রায় ২০০০ এর মতো মুসলিমকে মাত্র কয়েকদিনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, আহত হয় অগণিত।রাতের ব্যবধানেই বাস্তুহারা হয়ে পড়ে প্রায় দেড় লক্ষেরও অধিক মানুষ।

এই হলো মোদির প্রকৃত রূপের সামান্য অংশ, এই হলো মোদির রাজনীতির শক্তি ও প্রজ্ঞা। এই ঘটনায় বিশ্ববাসী মোদীর নাম করণ করেছিল “গুজরাটের কসাই” হিসেবে। মোদীজি এই হলো আপনার সারা জীবনের ক্যারিয়ারে হীন রাজনৈতিক যুদ্ধের ইতিহাসকথা। স্রেফ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৈকি। আপনি কি করে বুঝবেন স্বাধীনতার বীরদের ত্যাগের মহিমা? আপনি কি করে বুঝবেন আরেকটা দেশের স্বাধীনতাকে কিভাবে সম্মান জানাতে হয়! তাইতো উপায়ন্ত না দেখে আরেকটি দেশের স্বাধীনতার গৌরব গাঁথাকে চুরি করতে চাচ্ছেন। এই পৃথিবীর কোটি কোটি বিবেকবান মানুষ এবং সভ্য রাষ্ট্রগুলো আপনাকে এবং আপনার কারণে ভারতবাসীকে কিভাবে ধিক্কার জানাচ্ছে সেই উপলব্ধি কি আপনার আছে?

মোদিজীর খামখেয়ালিপনার একটু ছোট্ট বিশ্লেষণে যাওয়া যাক। দেখা যাক অর্জন বিসর্জন গুলোঃ তার কূটনৈতিক সফলতা হলো প্রতিবেশী কোন দেশের সাথেই ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একেবারেই নেই। পাকিস্তান, চীন, ভুটান, নেপাল ও শ্রীলংকা হতে ভারতের পতাকা বিতাড়িত। এটাই হয়তো তার অর্জন। আর বাংলাদেশের কথা! সেটাতো এখন বিশ্বময় প্রচারিত। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পুর্ন ধ্বংস করে, রাষ্ট্রযন্র বিলীন করে বিতাড়িত করেছেন প্রহসনের নির্বাচনে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে, তাকে ন্যাক্কারজনক আশ্রিতা করেছেন।

মোদিজি বাংলাদেশে হাসিনা নামক তার এক এজেন্ট রেখেছিলেন। সেই স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট এজেন্টের সাথে সমন্বয় করে তারা যৌথভাবে ১৫ বছরের উপরে সময় ধরে ধ্বংস করেছে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, অর্থনীতি, বিচার ও শাসন ব্যবস্থা, ব্যাংক ব্যবস্থা, নির্বাচন প্রক্রিয়া, সংস্কৃতি এবং শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্য। বাংলাদেশ থেকে পাচার করেছে হাজার হাজার কোটি টাকা। স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ আর ভারত তোষণের মাধ্যমে বিপর্যস্ত অবস্থা তৈরি করেছিল প্রশাসনের সকল স্তরে। সবিস্তারে ঢাকা সহ দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোদি সরকার ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা “র”য়ের প্রতিনিধি এবং এদেশের এজেন্টদেরকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছিল।  রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবি, শহীদ আবরার সহ শত শত দেশপ্রেমিক মানুষকে গুম-খুন-হত্যা  করে  বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুপরিকল্পিতভাবে ফেলে দিয়েছিল রাহুর কবলে।

বাংলাদেশকে ভারতের  এক প্রকার করদ রাজ্যে রূপান্তরিত করেছিল। বাংলাদেশের আপামর জনতা ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনা-ভারতের সেই হীন ষড়যন্ত্রকে রুখে দেয়। হাসিনা পালিয়ে ভারতের আশ্রয় চলে যায়। একদিকে হাসিনা আকাশ পথে ভারতে পালিয়ে যায়, অন্যদিকে হাসিনার পুরো পার্লামেন্ট স্থলপথে ভারতে গমন করে। ভারত বিরোধী চেতনায় এক নতুন বাংলাদেশের আবির্ভাব হয়, ঐতিহাসিক তারিখ ৫ ই আগস্ট ২০২৪ সাল।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ৫ ই আগস্ট ২০২৪ সাল হলো ভারতের ইতিহাসে এক চরম বিপর্যয় ও পরাজয়। হাসিনার পলায়নে মোদির সরকার দিক্বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়ে।ভারত হাসিনার সহায়তায় বাংলাদেশে “র”য়ের এজেন্ট হিসেবে তৈরি করেছিল এদেশের ব্যবসায়ী, ছাত্র, শিক্ষক, প্রশাসন, পুলিশ এবং সেনাবাহিনী সহ সকল বাহিনীতে। যার বড় একটি অংশ হাসিনার পলায়নের সাথে সাথেই ভারতে পালিয়ে যায়। একটি অংশ থেকে গেছে বাংলাদেশে।

“র”-এর বর্তমান মূল পরিকল্পনা হলো হাসিনার পলায়নের পরে বাংলাদেশে  থেকে যাওয়া এ সকল এজেন্ট এবং বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানরত এজেন্টদের মাধ্যমে আমাদের জাতি স্বত্ত্বা নষ্ট করা। তাদের সেই চেষ্টা সম্ভব ও সফল হবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অবদানকে তুচ্ছ করার মাধ্যমে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের অর্জন হিসেবে প্রচারের মাধ্যমে, মুক্তিযুদ্ধ সমন্ধে বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার মাধ্যমে, বাংলাদেশের মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশকে মুক্তিযুদ্ধ তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অস্বীকার করানোর মাধ্যমে। সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ-কে  তাদের হাতে তুলে দেয়ার মাধ্যমে। ভারতের এই অপতৎপরতা রোধে বাংলাদেশের সকল জনগণকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-বয়স-প্রজন্ম ভেদে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশপ্রেমের অমোঘ শক্তি নিয়ে দুর্বার গতিতে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।  নতুবা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব খর্ব করার হীন প্রয়াসে হাসিনা ও ভারত আবারো সফলতার পথ খুঁজবে।

ইতোমধ্যে ভারত ও হাসিনার এই প্রচেষ্টা কিছুটা সফল হয়েছে। ৫ ই আগস্ট ২০২৪ এর পরপরই বাংলাদেশ ভারত নিয়ন্ত্রিত তথাকথিত মিডিয়াগুলো এবং বাংলাদেশে  ভারত চালিত জ্ঞান পাপী ও পরজীবী  বুদ্ধিজীবী গুলো  ছলে বলে কৌশলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ধ্যান-ধারণা প্রচার করা শুরু করেছে। এদের জ্ঞানহীনতা এতটাই গভীর যে, সারা পৃথিবী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের যে মহান মুক্তিযুদ্ধ দীর্ঘ নয় মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করেছে, প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে  সাহায্য করেছে, এ যুদ্ধের প্রচার ও জনমত গঠন করেছে যেমনঃ ফরাসি লেখক আন্দ্রে মালরো, সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস, সাইমন ড্রিং, মার্ক টালি গণহত্যার খবর বিশ্বকে জানিয়েছে সেটাও তারা ঢেকে দিতে চায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং বিপক্ষে যে দেশগুলো ছিল যেমন সোভিয়েত রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য চীন এবং জাতিসংঘ এই মহান যুদ্ধের জলজ্যান্ত সাক্ষী। এই সকল ইতিহাসে তারা মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে! জ্বলজ্বলে ইতিহাস মুছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে  ভারত নিজের পুটলিতে সংগ্রহের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হাস্যকর বৈকি

মোদীজি আপনি লেখাপড়া শূন্য, তাই বলে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হিসেবে নিজেকে আর প্রমাণ করবেন না।

বাংলাদেশের পরজীবী বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা “র” এবং বাংলাদেশে তাদের সকল এজেন্টদের নানাবিধ কুটকৌশল ও আপতৎপরতায় বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কাছে ১৯৭১ সালে লাখো প্রাণ আর রক্ত সমুদ্রের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াস কখনোই সফল হবে না। বরং ভারতের ব্যর্থতার গ্লানি ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলবে। বড় হতে থাকবে তাদের ব্যর্থতার ঝুলি। তাদেরকে ব্যর্থ করে দিয়ে সফল হবে বাংলাদেশ তার এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্ম নিয়ে। অমর হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব।

লিখেছেন : এম.আই.টি.এজে

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের বিজয় দিবসঃ মোদি ও ভারতের দৈন্যতা

প্রকাশিত : ০৭:২৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

“On Vijay Diwas, we remember the brave soldiers whose courage and sacrifice ensured India had a historic victory in 1971. Their steadfast resolve and selfless service protected our nation and etched a moment of pride in our history. This day stands as a salute to their valour and a reminder of their unmatched spirit. Their heroism continues to inspire generations of Indians.”

এই পোস্টটি করেছেন মিস্টার মোদি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

আজ ১৬ ডিসেম্বর। এক রক্ত ক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ অর্জন করে মহান “স্বাধীনতা”। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিস্টার মোদী বাংলাদেশের লাখো শহীদের পুরো অর্জনকে ছিনতাই করতে চাচ্ছেন। এতেই যেন আত্মতুষ্টি, পরম তৃপ্তি। আমার মনে হয়, তার এই তৃপ্তিকে মহা গুনে বাড়িয়ে দিবে পৃথিবীর সকল স্বাধীন রাষ্ট্র- বিশেষ করে যারা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে তাদের সকলের অর্জনের একটি অংশ মোদী মহাশয় এবং ভারতকে দিয়ে দেয়ার মাধ্যমে।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এতে বীর জাতিদের অর্জন বিন্দুমাত্র কমবে না অন্যদিকে কাপুরুষ ভীরু ধর্ম ব্যবসায়ী মোদিরা মিছেমিছি অগাধ আত্মতৃপ্তি পাবে। মোদির দল আত্মার কাঙ্গালীপনা আর দৈনতার সকল সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। এমন ভিক্ষুক নেতা বোধকরি  পৃথিবীময় দ্বিতীয়টি আর জন্ম হবে না।

ভারত রাজ্য এবং মোদি মহাশয় ভুলে যাবেন না আপনি ভারতের মতো একটি বড় রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হলেও আপনি কিন্তু গন্ডমূর্খ অশিক্ষিত। হামলা, কামলা, প্রতিপক্ষকে হত্যা, ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে নিম্নমানের রাজনীতি করা ছাড়া উন্নত বুদ্ধির ছিটেফোঁটাও নেই আপনার মাথা মগজে, গুণগত মানের রাজনৈতিক বুদ্ধি সে তো আপনার কল্পনারও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পৃথিবীর ভদ্র রাষ্ট্র গুলোর রাষ্ট্রপ্রধানগণ কোন মতেই আপনাকে সম্মান প্রদর্শন করে না, তারা সম্মান করে নিজ সম্মানের খাতিরে আরেকটি (বড় আয়তনের) দেশের প্রধানমন্ত্রীকে।

মিঃ মোদির গুজরাট ম্যাসাকারের খবর পুরো পৃথিবীবাসী জানে, গুজরাটের সিনিয়র ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তা সঞ্জিব ভাট আদালতের জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন গুজরাট ম্যাসাকারে মোদির নৃশংসতার তথ্য।

২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাটের ‘গোধরা রেলস্টেশনের’ নিকটে ‘সাবারমাতি এক্সপ্রেস’ ট্রেনে নিতান্তই দুর্ঘটনা বসত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সে ঘটনায় পুড়ে মারা যায় অযোধ্যার বাবরি মসজিদ এলাকা থেকে পূজা শেষে ফিরতিদের ৫৯ জন তীর্থযাত্রী। মোদী মশাই গুজব ছড়িয়ে দেন যে  স্থানীয় মুসলিমরাই নাকি সেই ট্রেনে আগুন দিয়েছে। সেই গুজবের উপর ভিত্তি করে গুজরাটে রচনা করা হয় ভারতবর্ষের ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় ‘গুজরাট দাঙ্গা’ (The Gujrat Riot)। তখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিল নরেন্দ্র মোদি। স্থানীয় হিন্দুদেরকে সরকারি পুলিশ বাহিনী দিয়ে দাঙ্গায় সাহায্য করতে নির্দেশনা দিয়েছিল এই মোদি। নির্বাচনে মোদির অন্যতম প্রতিপক্ষ এহসান জাফরির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল কিছু মুসলিম।

প্রায় বিশ হাজার উন্মত্ত হিন্দু নিয়ে মোদি তার বাড়ি ঘেরাও করে। মোদির দল এহসান জাফরির হাত ও পা দু’টো কেটে মৃতদেহ টেনে হিঁচড়ে নিয়ে বেড়ায়, শেষে মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এহসান জাফরির বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া মুসলিম পুরুষদের নির্মমভাবে কুপিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়, শিশুদেরকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়, নারীদের ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়। প্রায় সপ্তাহব্যাপী স্থায়ী হয় এই রক্তপাত। এসময় প্রায় ২০০০ এর মতো মুসলিমকে মাত্র কয়েকদিনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, আহত হয় অগণিত।রাতের ব্যবধানেই বাস্তুহারা হয়ে পড়ে প্রায় দেড় লক্ষেরও অধিক মানুষ।

এই হলো মোদির প্রকৃত রূপের সামান্য অংশ, এই হলো মোদির রাজনীতির শক্তি ও প্রজ্ঞা। এই ঘটনায় বিশ্ববাসী মোদীর নাম করণ করেছিল “গুজরাটের কসাই” হিসেবে। মোদীজি এই হলো আপনার সারা জীবনের ক্যারিয়ারে হীন রাজনৈতিক যুদ্ধের ইতিহাসকথা। স্রেফ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৈকি। আপনি কি করে বুঝবেন স্বাধীনতার বীরদের ত্যাগের মহিমা? আপনি কি করে বুঝবেন আরেকটা দেশের স্বাধীনতাকে কিভাবে সম্মান জানাতে হয়! তাইতো উপায়ন্ত না দেখে আরেকটি দেশের স্বাধীনতার গৌরব গাঁথাকে চুরি করতে চাচ্ছেন। এই পৃথিবীর কোটি কোটি বিবেকবান মানুষ এবং সভ্য রাষ্ট্রগুলো আপনাকে এবং আপনার কারণে ভারতবাসীকে কিভাবে ধিক্কার জানাচ্ছে সেই উপলব্ধি কি আপনার আছে?

মোদিজীর খামখেয়ালিপনার একটু ছোট্ট বিশ্লেষণে যাওয়া যাক। দেখা যাক অর্জন বিসর্জন গুলোঃ তার কূটনৈতিক সফলতা হলো প্রতিবেশী কোন দেশের সাথেই ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একেবারেই নেই। পাকিস্তান, চীন, ভুটান, নেপাল ও শ্রীলংকা হতে ভারতের পতাকা বিতাড়িত। এটাই হয়তো তার অর্জন। আর বাংলাদেশের কথা! সেটাতো এখন বিশ্বময় প্রচারিত। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পুর্ন ধ্বংস করে, রাষ্ট্রযন্র বিলীন করে বিতাড়িত করেছেন প্রহসনের নির্বাচনে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে, তাকে ন্যাক্কারজনক আশ্রিতা করেছেন।

মোদিজি বাংলাদেশে হাসিনা নামক তার এক এজেন্ট রেখেছিলেন। সেই স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট এজেন্টের সাথে সমন্বয় করে তারা যৌথভাবে ১৫ বছরের উপরে সময় ধরে ধ্বংস করেছে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, অর্থনীতি, বিচার ও শাসন ব্যবস্থা, ব্যাংক ব্যবস্থা, নির্বাচন প্রক্রিয়া, সংস্কৃতি এবং শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্য। বাংলাদেশ থেকে পাচার করেছে হাজার হাজার কোটি টাকা। স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ আর ভারত তোষণের মাধ্যমে বিপর্যস্ত অবস্থা তৈরি করেছিল প্রশাসনের সকল স্তরে। সবিস্তারে ঢাকা সহ দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোদি সরকার ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা “র”য়ের প্রতিনিধি এবং এদেশের এজেন্টদেরকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছিল।  রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবি, শহীদ আবরার সহ শত শত দেশপ্রেমিক মানুষকে গুম-খুন-হত্যা  করে  বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুপরিকল্পিতভাবে ফেলে দিয়েছিল রাহুর কবলে।

বাংলাদেশকে ভারতের  এক প্রকার করদ রাজ্যে রূপান্তরিত করেছিল। বাংলাদেশের আপামর জনতা ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনা-ভারতের সেই হীন ষড়যন্ত্রকে রুখে দেয়। হাসিনা পালিয়ে ভারতের আশ্রয় চলে যায়। একদিকে হাসিনা আকাশ পথে ভারতে পালিয়ে যায়, অন্যদিকে হাসিনার পুরো পার্লামেন্ট স্থলপথে ভারতে গমন করে। ভারত বিরোধী চেতনায় এক নতুন বাংলাদেশের আবির্ভাব হয়, ঐতিহাসিক তারিখ ৫ ই আগস্ট ২০২৪ সাল।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ৫ ই আগস্ট ২০২৪ সাল হলো ভারতের ইতিহাসে এক চরম বিপর্যয় ও পরাজয়। হাসিনার পলায়নে মোদির সরকার দিক্বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়ে।ভারত হাসিনার সহায়তায় বাংলাদেশে “র”য়ের এজেন্ট হিসেবে তৈরি করেছিল এদেশের ব্যবসায়ী, ছাত্র, শিক্ষক, প্রশাসন, পুলিশ এবং সেনাবাহিনী সহ সকল বাহিনীতে। যার বড় একটি অংশ হাসিনার পলায়নের সাথে সাথেই ভারতে পালিয়ে যায়। একটি অংশ থেকে গেছে বাংলাদেশে।

“র”-এর বর্তমান মূল পরিকল্পনা হলো হাসিনার পলায়নের পরে বাংলাদেশে  থেকে যাওয়া এ সকল এজেন্ট এবং বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানরত এজেন্টদের মাধ্যমে আমাদের জাতি স্বত্ত্বা নষ্ট করা। তাদের সেই চেষ্টা সম্ভব ও সফল হবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অবদানকে তুচ্ছ করার মাধ্যমে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের অর্জন হিসেবে প্রচারের মাধ্যমে, মুক্তিযুদ্ধ সমন্ধে বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার মাধ্যমে, বাংলাদেশের মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশকে মুক্তিযুদ্ধ তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অস্বীকার করানোর মাধ্যমে। সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ-কে  তাদের হাতে তুলে দেয়ার মাধ্যমে। ভারতের এই অপতৎপরতা রোধে বাংলাদেশের সকল জনগণকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-বয়স-প্রজন্ম ভেদে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশপ্রেমের অমোঘ শক্তি নিয়ে দুর্বার গতিতে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।  নতুবা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব খর্ব করার হীন প্রয়াসে হাসিনা ও ভারত আবারো সফলতার পথ খুঁজবে।

ইতোমধ্যে ভারত ও হাসিনার এই প্রচেষ্টা কিছুটা সফল হয়েছে। ৫ ই আগস্ট ২০২৪ এর পরপরই বাংলাদেশ ভারত নিয়ন্ত্রিত তথাকথিত মিডিয়াগুলো এবং বাংলাদেশে  ভারত চালিত জ্ঞান পাপী ও পরজীবী  বুদ্ধিজীবী গুলো  ছলে বলে কৌশলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ধ্যান-ধারণা প্রচার করা শুরু করেছে। এদের জ্ঞানহীনতা এতটাই গভীর যে, সারা পৃথিবী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের যে মহান মুক্তিযুদ্ধ দীর্ঘ নয় মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করেছে, প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে  সাহায্য করেছে, এ যুদ্ধের প্রচার ও জনমত গঠন করেছে যেমনঃ ফরাসি লেখক আন্দ্রে মালরো, সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস, সাইমন ড্রিং, মার্ক টালি গণহত্যার খবর বিশ্বকে জানিয়েছে সেটাও তারা ঢেকে দিতে চায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং বিপক্ষে যে দেশগুলো ছিল যেমন সোভিয়েত রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য চীন এবং জাতিসংঘ এই মহান যুদ্ধের জলজ্যান্ত সাক্ষী। এই সকল ইতিহাসে তারা মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে! জ্বলজ্বলে ইতিহাস মুছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে  ভারত নিজের পুটলিতে সংগ্রহের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হাস্যকর বৈকি

মোদীজি আপনি লেখাপড়া শূন্য, তাই বলে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হিসেবে নিজেকে আর প্রমাণ করবেন না।

বাংলাদেশের পরজীবী বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা “র” এবং বাংলাদেশে তাদের সকল এজেন্টদের নানাবিধ কুটকৌশল ও আপতৎপরতায় বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কাছে ১৯৭১ সালে লাখো প্রাণ আর রক্ত সমুদ্রের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াস কখনোই সফল হবে না। বরং ভারতের ব্যর্থতার গ্লানি ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলবে। বড় হতে থাকবে তাদের ব্যর্থতার ঝুলি। তাদেরকে ব্যর্থ করে দিয়ে সফল হবে বাংলাদেশ তার এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্ম নিয়ে। অমর হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব।

লিখেছেন : এম.আই.টি.এজে