০৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সাবেক সিইওকে দেওয়া অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে গড়িমশি

মার্জিন ঋণে অযোগ্য চার্টার্ড লাইফে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ (পর্ব-১)

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৪:০২:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 398

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে বিনিয়োগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ কোম্পানিটির শেয়ার অতি মূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন মার্জিন বিধিমালা অনুযায়ী জীবন বিমা কোম্পানিটির শেয়ার মার্জিন ঋণের আওতায় বাহিরে চলে গেছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা মার্জিন ঋণ নিয়ে কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে পারবে না।

বিএসইসির নতুন বিধিমালা অনুযায়ী জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন ঋণের যোগ্যতা নির্ধারণে প্রাইস টু বুক ভ্যালু (পিবি) সর্বোচ্চ ৩ করা হয়েছে। পিবি ৩-এর বেশি হলে ওই শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না।

জানা গেছে, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য এসে দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৪৪ পয়সা। আর গতকাল (২৩ আগস্ট) কোম্পানিটির সমাপনী শেয়ার দর ছিল ৪৫ টাকা ৩০ পয়সা। ফলে শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য দিয়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর ভাগ করলে পিবি গিয়ে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৯৫। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই মার্জিন ঋণ নিয়ে কোম্পানিটির শেয়ারে কোনো বিনিয়োগকারী অর্থায়ন করতে পারবে না।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হিসাব বছরে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত সাত কোটি ৪৮ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৭ টাকা ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। এই ব্যবস্থাপনা ব্যয় মোটেও ভালোভাবে নেয়নি বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ফলে ২০১০ –এর ধারা ৬২(১) অনুযায়ী আইডিআরএ-এর কাছে এই অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় মওকুফের জন্য কোম্পানিটি আবেদন করলেও তা মওকুফ করেনি সংস্থাটি।

জানা গেছে, এর আগের বছর অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটির লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দায়ের বিপরীতে প্রায় ৪ কোটি টাকা ঘাটতি ছিল। যে-কারণে ওই বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ দিতে পারেনি কোম্পানিটি। অর্থাৎ ওই বছর কোম্পানিটি ‘নো’ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল। আর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে মাত্র ৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড বা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য মোটেও সন্তোষজনক নয়। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালে কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় মোটে গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এতে করে কোম্পানিটি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে, আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২২ সালের ১ এপ্রিল এস.এম. জিয়াউল হককে মাসিক সাত লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে, কোম্পানিটি বিমা আইন, ২০১০-এর ৮০ ধারা এবং আইডিআরএ সার্কুলার নং জিএডি-১৩/২০১৫ অনুযায়ী আইডিআরএ-এর  কাছে অনুমোদন চায়। আইডিআরএ ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর মাসিক চার লাখ ৫০ হাজার টাকা বেতনে তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করে এবং কোম্পানিকে প্রদত্ত অতিরিক্ত পারিশ্রমিক সমন্বয় করার পরামর্শ দেয়। সিইও জিয়াউল হকের মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল শেষ হয় এবং তিনি কোম্পানি ত্যাগ করেন। কিন্তু কোম্পানির কাছ থেকে জিয়াউল হক অতিরিক্ত ২৪ লাখ তিন হাজার টাকা নিয়েছে।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, তিনি চলে যাওয়ার পর ১৬ মাস অতিবাহিত হলেও কোম্পানি এই অর্থ এখনো তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারেনি। মূলত কোম্পানির গড়িমশির কারণেই এই অর্থ আদায় হচ্ছে না, জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এ ব্যাপারে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আবু আহমেদ কবির দেশ সমাচারকে বলেন, কোম্পানি সাবেক সিইও জিয়াউল হককে অতিরিক্ত যে অর্থ দিয়েছে তা ফেরত দেওয়ার জন্য তাকে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আইডিআরএ’র জনসংযোগ কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সুমি দেশ সমাচারকে বলেন, আইডিআরএ যখন জিয়াউল হকের মাসিক বেতন নির্ধারণ করে তারপরে তিনি আরও দুই বছর তিন মাস চাকরিতে বহাল তবিয়তে ছিলেন। তখন কেন তাকে দেওয়া অতিরিক্ত টাকা কোম্পানি উদ্ধার করতে পারেনি। কোম্পানি ইচ্ছা করলেই মামলা করতে পারতো। এটা সম্পূর্ণ কোম্পানির ব্যর্থতা।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবসা মোটেও ভালো যাচ্ছে না, যে কারণে বিনিয়োগকারীদের নামমাত্র ডিভিডেন্ড দিয়েছে। অথচ পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির সাবেক সিইওকে দু হাত ভরে অর্থ দিয়েছে। এতে নিশ্চয়ই দুরভিসন্ধি থাকতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট সংস্থার।

এদিকে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিপরীতে কোম্পানির ২০২৫ সালে আনরিয়েলাইজড লোকসান হয়েছে ৮১ লাখ ৮১ হাজার টাকা। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও কোম্পানিটির দক্ষতা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এ ব্যাপারে আবু আহমেদ কবির বলেন, শেয়ারবাজারে আমরা বিনিয়োগ করেছি ২০২২ সালে। মার্কেট ডাউন ট্রেন্ডে থাকার কারণে আনরিয়েলাইজড লোকসান হয়েছে। তবে এই বিনিয়োগ আগামীতে গেইন পর্যায়েও চলে যেতে পারে।

তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ব্যাপারে অধিকতর দক্ষতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করা চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যেখানে উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার রয়েছে ৬০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৩৫ দশমিক ১০ শতাংশ। আজ কোম্পানিটির সমাপনী শেয়ার দর ছিল ৪৪ টাকা ১০ পয়সা।

শিগগিরই প্রকাশ করা হবে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় পর্ব। 

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক সিইওকে দেওয়া অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে গড়িমশি

মার্জিন ঋণে অযোগ্য চার্টার্ড লাইফে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ (পর্ব-১)

প্রকাশিত : ০৪:০২:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে বিনিয়োগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ কোম্পানিটির শেয়ার অতি মূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন মার্জিন বিধিমালা অনুযায়ী জীবন বিমা কোম্পানিটির শেয়ার মার্জিন ঋণের আওতায় বাহিরে চলে গেছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা মার্জিন ঋণ নিয়ে কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে পারবে না।

বিএসইসির নতুন বিধিমালা অনুযায়ী জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন ঋণের যোগ্যতা নির্ধারণে প্রাইস টু বুক ভ্যালু (পিবি) সর্বোচ্চ ৩ করা হয়েছে। পিবি ৩-এর বেশি হলে ওই শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না।

জানা গেছে, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য এসে দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৪৪ পয়সা। আর গতকাল (২৩ আগস্ট) কোম্পানিটির সমাপনী শেয়ার দর ছিল ৪৫ টাকা ৩০ পয়সা। ফলে শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য দিয়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর ভাগ করলে পিবি গিয়ে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৯৫। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই মার্জিন ঋণ নিয়ে কোম্পানিটির শেয়ারে কোনো বিনিয়োগকারী অর্থায়ন করতে পারবে না।

দেশ সমাচার এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হিসাব বছরে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত সাত কোটি ৪৮ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৭ টাকা ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। এই ব্যবস্থাপনা ব্যয় মোটেও ভালোভাবে নেয়নি বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ফলে ২০১০ –এর ধারা ৬২(১) অনুযায়ী আইডিআরএ-এর কাছে এই অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় মওকুফের জন্য কোম্পানিটি আবেদন করলেও তা মওকুফ করেনি সংস্থাটি।

জানা গেছে, এর আগের বছর অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটির লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দায়ের বিপরীতে প্রায় ৪ কোটি টাকা ঘাটতি ছিল। যে-কারণে ওই বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ দিতে পারেনি কোম্পানিটি। অর্থাৎ ওই বছর কোম্পানিটি ‘নো’ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল। আর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে মাত্র ৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড বা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য মোটেও সন্তোষজনক নয়। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালে কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় মোটে গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এতে করে কোম্পানিটি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে, আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২২ সালের ১ এপ্রিল এস.এম. জিয়াউল হককে মাসিক সাত লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে, কোম্পানিটি বিমা আইন, ২০১০-এর ৮০ ধারা এবং আইডিআরএ সার্কুলার নং জিএডি-১৩/২০১৫ অনুযায়ী আইডিআরএ-এর  কাছে অনুমোদন চায়। আইডিআরএ ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর মাসিক চার লাখ ৫০ হাজার টাকা বেতনে তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করে এবং কোম্পানিকে প্রদত্ত অতিরিক্ত পারিশ্রমিক সমন্বয় করার পরামর্শ দেয়। সিইও জিয়াউল হকের মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল শেষ হয় এবং তিনি কোম্পানি ত্যাগ করেন। কিন্তু কোম্পানির কাছ থেকে জিয়াউল হক অতিরিক্ত ২৪ লাখ তিন হাজার টাকা নিয়েছে।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, তিনি চলে যাওয়ার পর ১৬ মাস অতিবাহিত হলেও কোম্পানি এই অর্থ এখনো তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারেনি। মূলত কোম্পানির গড়িমশির কারণেই এই অর্থ আদায় হচ্ছে না, জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এ ব্যাপারে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আবু আহমেদ কবির দেশ সমাচারকে বলেন, কোম্পানি সাবেক সিইও জিয়াউল হককে অতিরিক্ত যে অর্থ দিয়েছে তা ফেরত দেওয়ার জন্য তাকে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আইডিআরএ’র জনসংযোগ কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সুমি দেশ সমাচারকে বলেন, আইডিআরএ যখন জিয়াউল হকের মাসিক বেতন নির্ধারণ করে তারপরে তিনি আরও দুই বছর তিন মাস চাকরিতে বহাল তবিয়তে ছিলেন। তখন কেন তাকে দেওয়া অতিরিক্ত টাকা কোম্পানি উদ্ধার করতে পারেনি। কোম্পানি ইচ্ছা করলেই মামলা করতে পারতো। এটা সম্পূর্ণ কোম্পানির ব্যর্থতা।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবসা মোটেও ভালো যাচ্ছে না, যে কারণে বিনিয়োগকারীদের নামমাত্র ডিভিডেন্ড দিয়েছে। অথচ পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির সাবেক সিইওকে দু হাত ভরে অর্থ দিয়েছে। এতে নিশ্চয়ই দুরভিসন্ধি থাকতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট সংস্থার।

এদিকে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিপরীতে কোম্পানির ২০২৫ সালে আনরিয়েলাইজড লোকসান হয়েছে ৮১ লাখ ৮১ হাজার টাকা। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও কোম্পানিটির দক্ষতা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এ ব্যাপারে আবু আহমেদ কবির বলেন, শেয়ারবাজারে আমরা বিনিয়োগ করেছি ২০২২ সালে। মার্কেট ডাউন ট্রেন্ডে থাকার কারণে আনরিয়েলাইজড লোকসান হয়েছে। তবে এই বিনিয়োগ আগামীতে গেইন পর্যায়েও চলে যেতে পারে।

তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ব্যাপারে অধিকতর দক্ষতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করা চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যেখানে উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার রয়েছে ৬০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৩৫ দশমিক ১০ শতাংশ। আজ কোম্পানিটির সমাপনী শেয়ার দর ছিল ৪৪ টাকা ১০ পয়সা।

শিগগিরই প্রকাশ করা হবে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় পর্ব।