Logo

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ১০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে
ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢলে দেশের বন্যা পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বন্যা ও পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২৭টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে চারটি নদীর তিনটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরমধ্যে সুরমা নদীর পানি ছাতক (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে; কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার এবং মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ওপরে এবং সোমেশ্বরী নদীর পানি কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া দেশের ৮২টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, যা বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে সুরমা, তিস্তা ও মুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট বর্তমানে সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে ওইসব অববাহিকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে জামালপুরে সর্বোচ্চ ২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লায় ১৭৪ মিলিমিটার, বগুড়ায় ১৬৫ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ১৫৭ মিলিমিটার অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশের উজানে ভারতের মেঘালয়ে মাওকিরওয়াতে ১১৫ মিলিমিটার এবং মাউসিনরামে ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত বন্যার তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বন্যায় দেশের সাতটি জেলার খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ প্রায় ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। বান্দরবান ও কক্সবাজারের পরিস্থিতি এখনো নাজুক। টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন রয়েছে। প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ ১,১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে আসায় পানি নিষ্কাশনের হার বাড়ায় পরিস্থিতির ধীরগতির উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান আমার দেশকে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে ধীর গতিতে উন্নতি হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬