Logo

খামেনির জানাজা দীর্ঘ ৪ মাস পর কেন, যেভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল মরদেহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ৪ জুলাই, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর আগামী ৯ জুলাই তার দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির রাজধানী তেহরান। দীর্ঘ এ সময় খামেনির মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হওয়ার দীর্ঘ চার মাস পর তার মরদেহ থাকা কফিন জনসমক্ষে আনা হয়েছে। সাত দিনব্যাপী খামেনির দাফন ও সাত দিনব্যাপী জানাজার আনুষ্ঠানিকতাকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এতদিন কোথায় এবং কীভাবে ছিল মরদেহ?

জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রামের চরমপন্থা বিষয়ক ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ নয়, বরং শীতলীকরণ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে বলেই প্রায় নিশ্চিত। ইসলামে রাসায়নিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ নিষিদ্ধ।

ভিন্ন পরিস্থিতিতে শিয়া আইনে দাফন বিলম্বিত করা ও শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে।

তিনি জানান, অক্ষত মরদেহ থাকলে বিদায় অনুষ্ঠান বাতিল, দাফনের স্থান বারবার পরিবর্তন বা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাফনের সময় নিশ্চিত না করার প্রয়োজন পড়তো না। এটি মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব হলেও তা প্রদর্শনের উপযোগী না থাকার বড় ইঙ্গিত দেয়।

জানাজা ও দাফনে চার মাসের বিলম্ব কেন?

ইসলামি রীতিতে সাধারণত মৃত্যুর পর দ্রুত দাফন করার নিয়ম থাকলেও খামেনির ক্ষেত্রে চার মাসের দীর্ঘ বিলম্ব অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। যুদ্ধের তীব্রতা ও নিরাপত্তার চরম অস্থিতিশীলতার কারণেই মূলত খামেনির প্রকাশ্য দাফন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছিল তেহরান।

দীর্ঘদিন মরদেহ দাফন না হওয়ায় এটি সাময়িকভাবে সমাহিত করার গুঞ্জন উঠলেও ইরানি কর্মকর্তারা তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সম্পূর্ণ সময়জুড়ে ধর্মীয় ও আইনি বিধান মেনেই মরদেহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।

এদিকে জানাজার অনুষ্ঠান ঘিরে সাম্প্রতিক যুদ্ধের রেশ কাটেনি। ইরানের ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডাররা সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির সময় ইসরাইলকে কোনো ধরনের ‘ভুল হিসাব’ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ঐতিহ্যগতভাবে জানাজার নামাজে ইমামতির দায়িত্ব কে পালন করবেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। বাবার মৃত্যুর পর আত্মগোপনে থাকা নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন, যদিও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে চার মাস হিমঘরে থাকা খামেনির মরদেহের চূড়ান্ত ঠিকানা হবে মাশহাদের ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণ।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬