Logo

শেয়ারবাজারের পর নতুন দিগন্ত কমোডিটি এক্সচেঞ্জ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর লক্ষ্যে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। প্রয়োজনীয় বাকি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই এ প্ল্যাটফর্ম চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শফিকুর রহমান মজুমদার।

রোববার (১৪ জুন) সিএসইর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতা ও ধারণা তৈরির কার্যক্রমও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

শফিকুর রহমান মজুমদার বলেন, সরকারের নীতিগত অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি যদি আগেই তাদের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো, তাহলে অন্তত এক বছর আগেই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা সম্ভব হতো।

তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ জাতীয় বাজেটে অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন উদ্যোগের পাশাপাশি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এ খাতে দীর্ঘদিনের একটি বড় নীতিগত বাধা দূর হয়েছে।

সিএসইর এমডি জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্রোকার এবং পণ্যের অনুমোদন মিললেই তিন থেকে চার মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করা যাবে। সরকারের নীতিগত সমর্থন থাকায় চলতি বছরের মধ্যেই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

শুরুতে থাকবে ডেরিভেটিভস ট্রেডিং

সিএসই জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে কমোডিটি এক্সচেঞ্জটি সরাসরি পণ্য কেনাবেচার বাজার হিসেবে নয়, বরং কমোডিটি ডেরিভেটিভস বা ফিউচারস চুক্তিভিত্তিক বাজার হিসেবে পরিচালিত হবে।

শফিকুর রহমান বলেন, অনেকের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ মানেই পণ্যের সরাসরি সরবরাহ। বাস্তবে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ দুই ধরনের হতে পারে— স্পট মার্কেট এবং ডেরিভেটিভস মার্কেট। স্পট মার্কেটে সরাসরি পণ্যের ডেলিভারি হয়, আর ডেরিভেটিভস মার্কেটে ফিউচারস ও অপশন চুক্তি লেনদেন করা হয়।

তার ভাষ্য, শুরুতে সোনা, রুপা এবং ক্রুড পাম অয়েলের ফিউচারস চুক্তি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যমান সহজলভ্য এবং বাজারে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হওয়ায় এগুলো দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা সহজ হবে।

মূল্য নির্ধারণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ

সিএসইর মতে, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও উৎপাদকদের জন্য স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং হেজিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

ফিউচারস মার্কেটে অংশগ্রহণকারীরা নির্দিষ্ট মার্জিন জমা দিয়ে চুক্তিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিদিনের মূল্য পরিবর্তন অনুযায়ী ঝুঁকি সমন্বয় করা হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, এ প্ল্যাটফর্মের মূল উদ্দেশ্য হবে বাজারে স্বচ্ছ মূল্য আবিষ্কার (প্রাইস ডিসকভারি), ঝুঁকি হ্রাস এবং কার্যকর মূল্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

ভবিষ্যতে যুক্ত হতে পারে কৃষিপণ্য

সিএসই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক ধাপ সফল হলে ধীরে ধীরে চাল, গমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যও এ প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

শফিকুর রহমান বলেন, কৃষিপণ্য যুক্ত হলে কৃষকরা আগাম তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে রাখতে পারবেন। এতে ফসল কাটার পর কম দামে বিক্রির চাপ কমবে এবং মূল্যঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হবে।

তিনি জানান, যেকোনো নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন বাধ্যতামূলক থাকবে, যাতে বাজারে ভারসাম্য ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

কৃষকদের জন্য হতে পারে বড় সুযোগ

সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, একটি কার্যকর কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কৃষকদের দরকষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে পারে। আগাম মূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের ওপর বিক্রির চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

তিনি ভারতের কমোডিটি এক্সচেঞ্জের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে তুলা খাতের উৎপাদকরা সংগঠিত বাজার, উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং মাননিয়ন্ত্রণ সুবিধার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। ফলে কৃষক যেমন ন্যায্য মূল্য পেয়েছেন, তেমনি ক্রেতারাও মানসম্পন্ন পণ্য নিশ্চিতভাবে সংগ্রহ করতে পেরেছেন।

এমদাদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে প্রায়ই বড় ধরনের মূল্য অস্থিরতা দেখা যায়। অনেক সময় সংরক্ষণ সুবিধার অভাব এবং বাজারের অদক্ষতার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। একটি কার্যকর কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এ সমস্যা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ১৮ কোটি মানুষের দেশে একটি কার্যকর ও স্বচ্ছ বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে সঠিক মূল্য নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা থাকা জরুরি। সরকারের নীতিগত সহায়তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা পেলে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬