Logo

আমি মুদ্রাস্ফীতি পছন্দ করি: ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির মধ্যেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি মুদ্রাস্ফীতি পছন্দ করেন।

ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস)-এর তথ্যানুযায়ী, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) বা ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.২ শতাংশ বেড়েছে। এপ্রিলে এই হার ছিল ৩.৮ শতাংশ। ইরানে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের জেরে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় মূলত এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।

হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটি পছন্দ করি। সংখ্যাগুলো দারুণ ছিল। আপনারা কি জানেন আমি সত্যিই কী পছন্দ করি? আমি মুদ্রাস্ফীতি পছন্দ করি।’

তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে বর্ধিত এই দাম পাথরের মতো নিচে নেমে আসবে।

মুদ্রাস্ফীতির এই পরিসংখ্যান প্রকাশের দিনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, মার্কিন বাহিনী ইরান থেকে ‘লাখ লাখ ব্যারেল’ তেল জব্দ করতে রাতভর অভিযান চালিয়েছে, যা তেলের দাম সামান্য কমাতে ভূমিকা রেখেছে। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক পোস্টের কাছে ট্রাম্প দাবি করেন, তার বক্তব্যকে প্রেক্ষাপটের বাইরে নিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তিনি মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে ইরানের যুদ্ধ সত্ত্বেও মুদ্রাস্ফীতি ‘প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়ে অনেক কম’।

যুক্তরাষ্ট্রে এই নিয়ে টানা তিন মাস মুদ্রাস্ফীতি বাড়ল। মে মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সামগ্রিক জ্বালানি বিল আগের বছরের চেয়ে প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেশি ছিল। মোটরচালকদের সংগঠন (এএএ)-এর তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ট্রাম্পের হামলা শুরুর সময় প্রতি গ্যালন রেগুলার পেট্রোলের দাম যেখানে ২.৯৮ ডলার ছিল, তা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৪.১৫ ডলারে। হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষই পুনরায় একে অপরকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

২০২২ সালের মাঝামাঝিতে পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলের সর্বোচ্চ ৯.১ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বর্তমান হার অনেক কম হলেও, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক সংকট তৈরি করছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীরা।

সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক লিডার চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘আপনাদের প্রতি তার (ট্রাম্পের) অবজ্ঞার কোনো সীমা নেই।’

মুদ্রাস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নতুন গভর্নর কেভিন ওয়ারশের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আগামী সপ্তাহে সুদের হার নির্ধারণী বৈঠকের আগে অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, সুদের হার বর্তমান মাত্রা ৩.৫ শতাংশ থেকে ৩.৭৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে।

তবে ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের উত্তর আমেরিকা বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ স্টিফেন ব্রাউন মনে করেন, মে মাসের এই বৃদ্ধি ফেডের নীতি-নির্ধারকদের সুদের হার বাড়ানোর জন্য চাপ দেওয়ার মতো যথেষ্ট বড় কোনো কারণ নয়।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬