Logo

আর্থিক খাত সংস্কারে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়ায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অবসায়ন বা বন্ধের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের আওতায় থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো— এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্সকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিয়ে আরও তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধে সক্ষমতা প্রমাণ করতে না পারলে এসব প্রতিষ্ঠানকেও রেজল্যুশন বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। প্রথম ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হবে। এরপর প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সম্পদ ও দায়-দেনার হিসাব মূল্যায়ন করে আমানত ফেরতের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। একই সময়ে ফারইস্ট ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ, তীব্র তারল্য সংকট এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে তাদের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা মূল্যায়ন করে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের পর বর্তমানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের পর বছর অনিয়ম, দুর্বল সুশাসন এবং নানা ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বহুল আলোচিত পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের মতে, আর্থিক খাত সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬