Logo

চীনা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছিল ইরান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১ জুন, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

গত মাসে ইরানের আকাশসীমায় বিধ্বস্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সম্ভবত চীন নির্মিত কাঁধ থেকে নিক্ষেপণযোগ্য (শোল্ডার-ফায়ার্ড) ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।

এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যমটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইরানকে স্টিলথ যুদ্ধবিমান প্রযুক্তি এবং দূরপাল্লার রাডার সিস্টেমসহ অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকতে পারে চীন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই সরঞ্জামগুলো মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগলের মতো উন্নত যুদ্ধবিমানগুলো ট্র্যাক করার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা বাড়িয়ে থাকতে পারে।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, জেটটি ম্যানপ্যাডস নামে পরিচিত একটি কাঁধ থেকে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এগুলো সাধারণত প্রায় ৭ ফুট লম্বা ও ৪০ পাউন্ড ওজনের ছোট ও বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমান লক্ষ্য করে ছুড়ে মারা যায়। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ক্রুদের উদ্ধারে ৩৬ ঘণ্টার একটি অনুসন্ধান অভিযান চালানো হয়েছিল।

গত এপ্রিলে মার্কিন জেটটি কীভাবে গুলি করে নামানো হয়েছিল, তা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা এখনও তদন্ত করছেন। কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম শত্রুপক্ষের হামলায় কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ায় এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিধ্বস্ত হওয়া যুদ্ধবিমানটিতে দুইজন ক্রু ছিলেন এবং বিমানটি আছড়ে পড়ার আগেই তারা নিরাপদে বের হয়ে যেতে সক্ষম হন। পেন্টাগন জানিয়েছে, পাইলটকে প্রায় সাত ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা গেলেও ওয়েপন সিস্টেম অফিসার হিসেবে দায়িত্বরত দ্বিতীয় ক্রুকে খুঁজে পেতে বেশি সময় লাগে। তিনি ইরানের জাগ্রোস পার্বত্য অঞ্চলে লুকিয়ে ছিলেন এবং প্রায় দুই দিন পর তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

চীন ঠিক কখন ইরানকে এই সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ইরান যদি সত্যিই চীনা তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো তিক্ত করে তুলতে পারে, কারণ ওয়াশিংটন এটিকে ইরানের প্রতি বেইজিংয়ের পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখতে পারে।

এমন এক সময়ে এই প্রতিবেদনটি সামনে এলো যখন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত অবসানে চীনের সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করতেও সহায়তা করেছিল।

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চীন ইরানকে আরো অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। কিছু সাবেক কর্মকর্তা মনে করেন, চীনের এই সম্ভাব্য পরিকল্পনা ফাঁস করার জন্যই সম্ভবত গোয়েন্দা তথ্যগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলোও কৌশল হিসেবে ব্যবহার করত।

এছাড়া, মার্কিন বাহিনীকে ট্র্যাক করার সুবিধার্থে ইরানকে চীনা স্যাটেলাইট পরিষেবা ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে সহায়তার করার জন্য সম্প্রতি বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তিনটি চীনা স্যাটেলাইট কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। চীন অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি ইরানে কোনো অস্ত্র পাঠাচ্ছেন না। এটি একটি চমৎকার প্রতিশ্রুতি। আমি তার কথা বিশ্বাস করি এবং এর প্রশংসা করি।’

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬