মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভারতের কর্মসংস্থানে। দেশটির বিভিন্ন খাতে দিন দিন কমছে কাজের সুযোগ, আবার কোথাও কোথাও চলছে শ্রমিক ছাঁটাই।
ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্রমবাজারের চরম অস্থিতিশীলতার মধ্যে বাড়ছে দেশটির বেকারত্বের হার। একই সঙ্গে ভাটা পড়ছে দেশটির রেমিট্যান্স প্রবাহেও।
এক প্রতবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ইরান যুদ্ধের জেরে বড় ধাক্কা লেগেছে ভারতীয় শ্রমবাজারে। এতে থমকে গেছে কর্মসংস্থান ব্যবস্থার অগ্রগতিও।
যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এরইমধ্যে দেশে ফিরেছেন ১৩ লাখ প্রবাসী শ্রমিক। অন্যদিকে সরবরাহ ব্যবস্থায় ভাটা পড়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কমে যাচ্ছে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা।
মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার, কাঁচ, চামড়া, তৈরি পোশাকখাতে বৈশ্বিক চাহিদা ভারতের নতুন প্রজন্মকে ভালো আয়ের সুযোগ ও সম্ভাবনা দুটোই দিয়ে আসছে। কিন্তু সম্ভাবনাময় এই অর্থনীতিতে সজোরে আঘাত হেনেছে ইরান যুদ্ধ।
সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে যারা দেশে এসেছিলেন, এখন আর তারা ফেরত যেতে পারছেন না। যার প্রভাব পড়েছে দেশটির রেমিট্যান্স খাতে।
এছাড়াও দেশটির মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভরশীল। কাজ করছেন বা কাজের সন্ধানে আছেন এমন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৬২ কোটিরও বেশি।
ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশের শিল্প নগরী কানপুরের অধিকাংশ চামড়া শিল্প কারখানায় লোকবল কমানো হয়েছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
জ্বালানি, লজিস্টিকস এবং শিপিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় মিলছে না লাভ-লোকসানের হিসাব।
ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। উৎপাদনের সঙ্গে কমেছে লাভও। রপ্তানিভত্তিক আয় ছাড়াও ও অভ্যন্তরীণ আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে আর নতুন করে লোক নিয়োগ সম্ভব নয়।
কাউন্সিল ফর লেদার এক্সপোর্টসের ভাইস চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ভারতের ৬ বিলিয়ন ডলারের চামড়া রপ্তানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে কানপুর থেকে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রায় ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান যোগায় এই খাত।
গেল মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এপ্রিলের শেষ নাগাদ ১৩ লাখের বেশি ভারতীয় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে দেশে ফিরে গেছেন।
২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসী ভারতীয়দের পাঠানো রেমিট্যান্স ছিল ১০২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ৯২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি। কিন্তু চলতি বছর রেমিট্যান্স প্রবাহ বিঘ্নিত হওয়ার পূর্বাভাস বিশ্লেষকদের।
ভারতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের সংখ্যা ৪০ কোটি। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও ভারতে বেকারত্বের হার ফেব্রুয়ারিতে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে এপ্রিলে ৫ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। শহরের তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার আরও অনেক বেশি প্রায় ১৪ শতাংশ। ফলে, যুদ্ধের কারণে শ্রমবাজারে ধাক্কা এই বেকার জনগোষ্ঠীকে আরও বড় বিপদে ফেলবে। অন্যদিকে, বিদেশে কর্মরত প্রায় ২ কোটি ভারতীয়র মধ্যে প্রায় ৯০ লাখ উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকেন।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ইরান বাদে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে, গেল বছর যা ছিল ৪ শতাংশ।