Logo

৩ ইস্যুতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

বিদায়ী সপ্তাহে (১০-১৪ মে) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্ক অবস্থান এবং সুযোগ বুঝে শেয়ার কেনার প্রবণতা একসঙ্গে দেখা গেছে। সপ্তাহের শুরুতে বাজারে কিছুটা নেতিবাচক চাপ থাকলেও পরবর্তী সময়ে বড় মূলধনি ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারে আগ্রহ বাড়ায় বাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিভিন্ন কোম্পানির ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্ত—এই তিনটি বিষয় গত সপ্তাহের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহ শেষে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১১ দশমিক ২ পয়েন্ট বা ০.২ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও বড় মূলধনি কোম্পানির সূচক ডিএস৩০ কমেছে ১ শতাংশ। পাশাপাশি বাজার মূলধনেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।

লেনদেনের গতি বা তারল্যপ্রবাহও গত সপ্তাহে কিছুটা শক্তিশালী ছিল। আগের সপ্তাহের তুলনায় দৈনিক গড় লেনদেন ৫.৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭৯ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে ধীরে ধীরে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই প্রবণতা।

খাতভিত্তিক পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন দিয়েছে পাট, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত। এর মধ্যে পাট খাতে গড় রিটার্ন ছিল ৬ শতাংশ, আইটি খাতে ৪.৫ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৪ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে সেবা ও আবাসন, সিমেন্ট এবং টেলিকমিউনিকেশন খাত।

দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল আরডি ফুড, ভিএফএস থ্রেড ডাইং এবং অ্যাপেক্স ট্যানারি। বিপরীতে সবচেয়ে বেশি দর হারানো কোম্পানির মধ্যে ছিল আইএলএফএসএল, পিএলএফএসএল এবং ফাস ফাইন্যান্স।

লেনদেনের দিক থেকে সাধারণ বিমা, প্রকৌশল এবং টেক্সটাইল খাত বাজারে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল। ডিএসইর মোট লেনদেনের বড় অংশই এসেছে এই তিন খাত থেকে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহের শুরুতে সূচক নিম্নমুখী থাকায় বেশ কিছু ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার আকর্ষণীয় দামে নেমে আসে। এই সুযোগে অভিজ্ঞ ও কৌশলী বিনিয়োগকারীরা কম দামে শেয়ার কিনতে সক্রিয় হন।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি কোম্পানির ইতিবাচক ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রকৌশল খাতের বড় মূলধনি কোম্পানি ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বিবিএস কেবলস গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে প্রকৌশল খাতের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।

গত সপ্তাহের সবচেয়ে আলোচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত আসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খেলাপি বা বকেয়া ঋণের ওপর জরিমানামূলক সুদের হার ১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে উৎপাদনমুখী ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ঋণের চাপ কমবে, যা ব্যবসা সম্প্রসারণ ও মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে প্রকৌশলসহ ভারী শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যয় কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

তাদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নীতিগত সহায়তা বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬