Logo

ফারাক্কা বাঁধে ৫০ বছর যাবৎ ছয় কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

আজ ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৬ মে ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ চালুর পর পেরিয়ে গেছে অর্ধশতক। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব এখনো বাংলাদেশের নদী, পরিবেশ, কৃষি, মৎস্য ও জনজীবনে গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ। এর আগেই নতুন করে আলোচনা শুরু এবং নতুন চুক্তিতে বাধ্যতামূলক ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিপ্রবাহ নিশ্চিত না হলে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানি সংকট, কৃষি বিপর্যয় ও পরিবেশগত ক্ষতি আরো বাড়বে।

রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা হয়ে খুলনা-সাতক্ষীরা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ জনপদে এক সময় নদীর শব্দ ছিল জীবনের প্রতীক। পদ্মা শুধু একটি নদী নয়, ছিল উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য, নৌ বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির প্রাণরেখা।

কিন্তু গত পাঁচ দশকে সেই নদীর বুকজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বিস্তীর্ণ বালুচর। কোথাও হাঁটুপানিতে আটকে যাচ্ছে নৌকা, কোথাও শুকিয়ে গেছে শত বছরের খাল ও শাখানদী। নদীকেন্দ্রিক হাজারো মানুষের পেশা হারিয়ে বদলে গেছে জনপদের জীবনযাত্রা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে ১৯৬২ সালে গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ফারাক্কা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় । ভারতের দাবি ছিল, কলকাতা বন্দরের নাব্য ধরে রাখতে হুগলি নদীতে পানিপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রায় সাত হাজার ৫৫৯ ফুট দীর্ঘ ব্যারাজটির নির্মাণ ১৯৭৫ সালের এপ্রিলে শেষ হয়।

বাংলাদেশকে তখন জানানো হয়েছিল, মাত্র ৪০ দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে গঙ্গার পানি সরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু সেই ‘অস্থায়ী’ ব্যবস্থা আজ ৫০ বছর পেরিয়েছে। আন্তর্জাতিক নদী আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিন্ন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে একতরফা হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, স্বাধীনতার পর সদ্য যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের দুর্বল অবস্থার সুযোগ নিয়েছিল ভারত। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর কথা বলে কার্যত স্থায়ী পানি প্রত্যাহার শুরু হয়। এরপর আর কখনো তারা পিছু হটেনি।

প্রমত্ত পদ্মা এখন ধু-ধু বালুচর

পদ্মার এক সময়ের উত্তাল গর্জন এখন অতীত। নদীর চরে দাঁড়ালে এখন চোখে পড়ে শুধু ধু-ধু বালুচর। এ নদী ঘিরে যাদের জীবন-জীবিকা চলত, তারা এখন হাহাকার করছেন। নদীপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, ফারাক্কা তাদের জীবনের সব সুখ কেড়ে নিয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাংখা পয়েন্ট থেকে ঈশ্বরদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত ২০০ মাইলজুড়ে পদ্মা এখন খালে রূপ নিতে শুরু করেছে। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, বছরের মাত্র তিন-চার মাস পানি থাকে, তাও অপর্যাপ্ত।

রাজশাহী নগরীর পদ্মার তীরবর্তী তালাইমারী এলাকার মোসলেম আলী (৭৫) নৌকা দিয়ে মাছ ধরে সংসার চালাতেন। তিনি বলেন, সত্তরের দশকে উত্তাল পদ্মার গর্জন ছিল ভয়ংকর। নদীর মাঝে ঢেউ এত উঁচু হতো যে, বড় বড় নৌকাও দোল খেত। প্রচুর রুই, কাতলা, ইলিশ, বোয়াল, আইড় মাছ পাওয়া যেত। এখন এখানে নৌকা চলে না। চলে গরু-মহিষ এবং যান্ত্রিক গাড়ি। আমি যেখানে মাছ ধরতাম, বাচ্চারা এখন সেখানে ফুটবল খেলে।

রাজশাহীর চারঘাটের ইদ্রিস আলী (৭২) বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে বাবার সঙ্গে মাছ ধরা শুরু করি। একাত্তরের পরও নদীতে সারা বছর পানি থাকত। এখন পদ্মায় পানি নেই, মাছও নেই। ভারতের বাঁধের পর আমরা জেলেরা নিঃস্ব।

ছয় কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী জানান, দেশের অন্তত ছয় কোটি মানুষ সেচ, বিশুদ্ধ পানি, কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও জীবিকার ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষ পানির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল, কুষ্টিয়া, পাবনা ও ফরিদপুর অঞ্চলেও কৃষি ও পরিবেশে গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি আরো জানান, গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্পে পানির ঘাটতির কারণে প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের বহু গভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের বিশুদ্ধ পানির সংকটও বেড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও নদী গবেষকদের তথ্যমতে, ১৯৭৫ সালের পর থেকে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার নৌপথ অকার্যকর হয়ে গেছে। এক সময়ের প্রবহমান শাখা নদীগুলো ধীরে ধীরে মৃত খালে পরিণত হয়েছে।

বড়াল, মরা বড়াল, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, কপোতাক্ষ, চিত্রা, নাগর, ধলাই, চিকনাইসহ অসংখ্য নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে। বর্ষায় অল্প কিছুদিন পানি থাকলেও বছরের অধিকাংশ সময় শুকনা পড়ে থাকে। অনেক নদীর দুই পাড় দখল হয়ে গেছে।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮৪ সালের তুলনায় শুষ্ক মৌসুমে রাজশাহী অংশে গঙ্গার আয়তন প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। পানির গভীরতা কমেছে ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রবাহ কমেছে ২৬ দশমিক ২ শতাংশ।

বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সূত্রগুলো বলছে, কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া, মৎস্যসম্পদের ক্ষতি, নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, পরিবেশগত বিপর্যয়, পানি সংকট এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতির ধস মিলিয়ে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পৌনে তিন লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

সূত্র আরো জানায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি ও মৎস্য খাত। উত্তরাঞ্চলে সেচনির্ভর কৃষিতে ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। অনেক এলাকায় কৃষককে গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার নতুন সংকট তৈরি করছে।

মৎস্যজীবীরা বলছেন, নদীর পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। বহু প্রজাতির দেশীয় মাছ হারিয়ে গেছে। ফলে হাজার হাজার পরিবার বিকল্প পেশায় যেতে বাধ্য হয়েছে।

পদ্মার পানি ৮০ শতাংশ কমেছে

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, ১৯৭৫ সালের আগে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা দিয়ে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হতো। বর্তমানে তা কমে প্রায় ২৪ হাজার কিউসেকে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কিছুদিন পানির স্রোত থাকলেও শুষ্ক মৌসুম শুরু হলেই পদ্মার অবস্থা শোচনীয় হয়ে ওঠে।

ফারাক্কার প্রভাবে দেশের প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে। সুন্দরবনের ১৭ শতাংশ এলাকাজুড়ে লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়েছে। এক সময়ের প্রমত্ত পদ্মা এখন মৃতপ্রায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, শুধু ফারাক্কা নয়; গঙ্গা ও পদ্মাকেন্দ্রিক বাঁধ, জলাধার, ক্রসড্যাম ও রেগুলেটরসহ কমপক্ষে ৩৩টি মূল অবকাঠামো নির্মাণ করছে ভারত। পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় কাঠামো। এছাড়া উত্তরাখণ্ড রাজ্য সরকার ৫৩টি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

জেলেদের আয় কমেছে ৭০ শতাংশ

নদী গবেষকরা জানান, পদ্মার ইলিশ এখন প্রায় বিলুপ্ত। বোয়াল, আইড়, গজালÑএসব বড় মাছ এখন দুর্লভ। নদীর ডলফিন ও ঘড়িয়াল প্রায় বিলুপ্তির পথে। পদ্মার ৬০ শতাংশের বেশি জেলে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হয়েছেন।

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও কুষ্টিয়ার জেলেপল্লিতে চালানো জরিপে দেখা গেছে, ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর ৫০ বছরে জেলেদের আয় কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। একজন জেলে যেখানে আগে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকার মাছ ধরতে পারতেন, এখন তা কমে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় নেমেছে।

ঈশ্বরদীর মৎস্যচাষি সাইফুল ইসলাম জানান, আগে পদ্মার পানি পুকুরে রিচার্জ হতো, এখন শুষ্ক মৌসুমে পুকুরের পানি কমে মাছ মারা যায়। নলকূপ দিয়ে পানি দিতে হয়। বিদ্যুৎ খরচে উৎপাদন ব্যয় দ্বিগুণ বেড়েছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আব্দুল মতিন বলেন, ভারত আমাদের পানি না দিলে আমরা কী করব?

দীর্ঘ হচ্ছে মৃত নদীর তালিকা

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) তথ্যমতে, পদ্মার পানি কমে যাওয়ায় এর অনেকগুলো শাখা নদী মরে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক নদী মৃতপ্রায়। বিশেষ করে বড়াল, মরা বড়াল, নারোদ, ইছামতী, চিকনাই, নাগর, ধলাই, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, কপোতাক্ষ মরে যাচ্ছে। কালীগঙ্গা, বেলাবতের অস্তিত্ব বিলীন।

বিএমডিএর গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৮৪ সালের তুলনায় শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার আয়তন কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ, গভীরতা কমেছে ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ, প্রবাহ কমেছে ২৬ দশমিক ২ শতাংশ। মিঠাপানির সরবরাহ সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। পদ্মা অববাহিকায় বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৯ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।

এখনই নতুন চুক্তির উদ্যোগের তাগিদ

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের রাজশাহী শাখার সভাপতি অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, ২০২৬ সালের আগেই শক্তিশালী কমিটি গঠন করে চুক্তিটি মূল্যায়ন করতে হবে।

গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরই শেষ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন চুক্তিতে অবশ্যই নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। তাদের প্রস্তাব, শুষ্ক মৌসুমে কমপক্ষে ৩৫ হাজার কিউসেক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। অভিন্ন নদীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ দল গঠন করতে হবে। ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্যের যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণ করে ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, চীন, ভুটান ও মিয়ানমারকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক পানি ফোরাম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ভারত যদি ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছাড়া চুক্তি করতে চায়, তাহলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোয় জোরালো আপত্তি তুলতে হবে। এটি আমাদের অধিকার, ভারতের অনুগ্রহ নয়।

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের রাজশাহী শাখার সভাপতি প্রফেসর ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, ২০২৬ সালের আগেই শক্তিশালী কমিটি গঠন করে চুক্তিটি মূল্যায়ন করতে হবে।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের রাজশাহীর সমন্বয়কারী বলেন, আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী একটি রাষ্ট্র অন্য দেশের মারাত্মক ক্ষতি করে এমনভাবে পানি প্রত্যাহারের এখতিয়ার রাখে না। তার মতে, ফারাক্কার প্রভাব কেবল পদ্মার তীরবর্তী এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী সরাসরি বা পরোক্ষ ক্ষতির শিকার।

পদ্মার তীরে দাঁড়িয়ে থাকা জেলে আবদুল করিম (৭০) বলেন, ‘আমাদের নদীটা ফিরিয়ে দাও। আমরা পানি পাইলেই মাছ পাইমু, মাছ পাইলেই খাইমু, বাঁচিমু। বর্তমান সরকার সেদিকে নজর দিক।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নুরুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি থাকতে হবে। নইলে আবার ঠকমু।’

মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতারা মনে করেন, ফারাক্কা সমস্যাকে আবার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ, ভারত এতদিন দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। চলতি বছরের চুক্তি নবায়নে পানিপ্রবাহের গ্যারান্টি না থাকলে চুক্তি নবায়নের কোনো যৌক্তিকতা নেই। ফারাক্কা দিবসে বিশেষজ্ঞদের আহ্বান, ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে।

ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি

ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ সকালে নগরীর সাহেব বাজারে বাংলাদেশ নদী আন্দোলন রাজশাহী শাখার আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এরপর সন্ধ্যায় পদ্মা নদীর ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

আজ বিকালে মওলানা ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যাসহ বিভিন্ন দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করেছে। সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জাতীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া নগরীর বড়কুঠি পদ্মাপাড়ে বিশাল গণজমায়েতের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান আলোচক হিসেবে থাকবেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এম রফিকুল ইসলাম।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬