Logo

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা, ৪ প্রতিষ্ঠানের কোটি টাকার জরিমানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ৪ মে, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

শেয়ারবাজারে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা এবং শেয়ার লেনদেনে নানা অনিয়মের অভিযোগে চার প্রতিষ্ঠান ও তাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোট ১ কোটি ৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

জরিমানার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, গিবসন সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানি খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড। শুনানি শেষে তাদের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় গত এপ্রিল মাসে এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিএসইসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এনবিএল সিকিউরিটিজ গ্রাহকদের ক্রয়-বিক্রয় আদেশ সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে এবং গ্রাহকের অনুমতি ছাড়াই লেনদেন সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি না করা ও পেশাগত অসদাচরণের প্রমাণও পাওয়া গেছে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়েদ আল-মামুন হাসানকে ৫ লাখ এবং সাবেক অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ফারজানা ফেরদৌসীকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের ওপর মোট ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে গ্রাহক মো. আইয়ুব আলীর সঙ্গে গুরুতর প্রতারণার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। তদন্তে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে গ্রাহকের ই-মেইলে ভুয়া পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট পাঠাত এবং প্রকৃত তথ্য গোপন রাখত। ২০২২ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সঠিক তথ্য পাঠানো হলেও, পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই পর্যন্ত একই ই-মেইলে জাল স্টেটমেন্ট পাঠানো হয়।

এছাড়া গ্রাহকের মোবাইল নম্বর ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করে ভুল নম্বর যুক্ত করা হয়, যাতে তিনি সিডিবিএল থেকে লেনদেন সংক্রান্ত কোনো নোটিফিকেশন না পান। তদন্তে আরও উঠে আসে, কোম্পানির এক কর্মীর ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করে এসব ভুয়া স্টেটমেন্ট পাঠানো হয়েছে, যা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এসব অনিয়মের কারণে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ রহমত পাশা এবং কর্মকর্তা মো. শহিদুজ্জামানকে ১৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া কমপ্লায়েন্স অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম ও কর্মকর্তা আবদুল আহাদ শেখকে ৩ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের ওপর মোট ৬৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডে একাধিক গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বিএসইসি। তদন্তে দেখা যায়, কোম্পানিটি টানা তিন বছর লোকসানে থেকেও কোনো নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি এবং এর সংরক্ষিত লোকসান পরিশোধিত মূলধনের চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বিএসইসির ‘এক্সিট প্ল্যান’-এর আওতায় পড়ে।

এছাড়া কোম্পানিটি তিন বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তি ফি পরিশোধ করেনি। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে শেয়ার ধারণ ও ফ্রি-ফ্লোট সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন দাখিল করেনি এবং ২০২২ সালের জুনের পর থেকে ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া বন্ধ রেখেছে।

তদন্তে আরও দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও তা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি কোম্পানির ওয়েবসাইট অকার্যকর ছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে কোম্পানি সচিব ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার পদ শূন্য ছিল, যা করপোরেট গভর্ন্যান্স নীতিমালার লঙ্ঘন।

এসব অনিয়মের কারণে কোম্পানির চেয়ারম্যান এসএম আমজাদ হোসেন, পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন ও খান হাবিবুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুফিয়া খাতুন, সিএফও মো. এজাজ উদ্দিন এবং কোম্পানি সচিব মিলন খানকে ৪ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ খাতে মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ টাকা।

অন্যদিকে পৃথক ঘটনায় গিবসন সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফাকে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বিএসইসি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬