Logo

মানবাধিকার অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে ভুল তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

সদ্যবিদায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পাঁচজন কমিশনার এক যৌথ ‘খোলা চিঠি’র মাধ্যমে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত কিছু তথ্যের জবাব দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) খোলা চিঠিটি প্রকাশ করেন তারা।

চিঠিতে তারা দাবি করেছেন, গুম ও মানবাধিকার বিষয়ক অধ্যাদেশগুলো বাতিলের পক্ষে সংসদে বেশ কিছু ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

খোলা চিঠিতে কমিশনারগণ তিনটি বিষয়ে লিখেছেন— সংসদে উপস্থাপিত ভুল তথ্যের জবাব, অধ্যাদেশগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের প্রকৃত আপত্তি চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ আইনের গুণগত মান বিচারের প্রস্তাবনা।

তাদের মতে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ হলো একটি ‘প্রিন্সিপাল আইন’ যার ওপর ভিত্তি করে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশটি দাঁড়িয়ে আছে।

সংসদে উত্থাপিত তথ্যের বিপরীতে বিদায়ী কমিশনারগণ দুটি প্রধান পয়েন্টে সঠিক তথ্য তুলে ধরেছেন। একটি হলো গুমের শাস্তি অপরটি তদন্তের সময়সীমা-জরিমানা প্রসঙ্গে।

গুমের শাস্তি প্রসঙ্গে তারা বলেন, সংসদে বলা হয়েছে গুমের সাজা মাত্র ১০ বছর, যা ভুক্তভোগীদের জন্য অবিচার। কিন্তু বাস্তবে গুম অধ্যাদেশে অপরাধের মাত্রাভেদে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবনসহ যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড এবং জরিমানা (ধারা ৪(১)-(২)) রাখা হয়েছে।

সেইসঙ্গে তদন্তের সময়সীমা ও জরিমানা সম্পর্কে বলা হয়, সংসদে বলা হয়েছে অধ্যাদেশে তদন্তের সময়সীমা নেই; জরিমানা নির্ধারণের ও আদায়ের উপায় নেই। অথচ বাস্তবে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে তদন্তের সময়সীমা স্পষ্ট বেঁধে দেওয়া আছে (ধারা ১৬(১) (ঙ)-(চ)) এবং জরিমানা নির্ধারণ ও আদায়ের পদ্ধতি বিস্তারিত আছে (ধারা ২৩)। এমনকি সময়মতো তদন্ত রিপোর্ট দাখিল না করলে গুম অধ্যাদেশে শাস্তির বিধানও আছে (ধারা ৮(৫))।

চিঠিতে বিদায়ী কমিশনারগণ আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সংসদ কর্তৃক পুনর্বহালকৃত ২০০৯-এর মানবাধিকার কমিশন আইনে এগুলো কিছুই নেই। প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে ভুক্তভোগীদের বেদনা ও আইনি জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যেই তারা এই সত্যটি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬