Logo

বন্ড, এসএমই ও বিদেশি বিনিয়োগে ডিএসইর বড় প্রস্তাব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২ এপ্রিল, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) দেশের শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬–২৭ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে কর কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের সুপারিশ করেছে। এই প্রস্তাবগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাকবাজেট আলোচনায় বুধবার (১ এপ্রিল) উপস্থাপন করা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের শেয়ারবাজারকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল করতে কর নীতির সংস্কার অপরিহার্য।

ডিএসইর প্রস্তাব অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত বন্ড থেকে প্রাপ্ত সুদের আয়ের ওপর করনীতিতে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু বন্ডে পাঁচ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য করপোরেট বন্ডে ১০ শতাংশ উৎস করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিএসইর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর ফলে কার্যকর বন্ড বাজার গড়ে উঠবে এবং সরকারের সুদ ব্যয় হ্রাস পাবে।

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ডিএসই সুপারিশ করেছে যে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে অ-নিবাসীদের মূলধনী মুনাফার ওপর কর পাঁচ বছরের জন্য সম্পূর্ণ মওকুফ করা হোক। বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ খুবই কম, মোট লেনদেনের মাত্র ১.৫৭ শতাংশ। কর সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, বাজারে তারল্য বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ জোরদার হবে।

এসএমই খাতকে উৎসাহিত করতে ডিএসই প্রস্তাব করেছে, এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য পাঁচ বছরের কর অবকাশ প্রদান করা হোক। বর্তমানে এসব কোম্পানিকে ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তি বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে করভিত্তি সম্প্রসারিত হবে। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড, ইউনিট সার্টিফিকেট ও এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর রেয়াতের সীমা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমিয়ে বাজারে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত হয়।

ডিএসই আরও প্রস্তাব করেছে যে ব্যবসায়িক ক্ষতি অন্যান্য আয়ের বিপরীতে সমন্বয়ের সুযোগ পুনর্বহাল করা হোক, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলো পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে করদাতা হিসেবে টিকে থাকতে পারে। এছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য তালিকাভুক্ত শেয়ারে মূলধনী মুনাফার ওপর করহার কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূলধনী মুনাফা করমুক্ত রাখার পাশাপাশি এর বেশি অংশে ৫ শতাংশ হারে কর আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে এই কর হার ১৫ শতাংশ। এছাড়া ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর উৎসে করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের কর জটিলতা কমাবে এবং ডিভিডেন্ডভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়াবে।

ডিএসইর পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শেয়ারবাজারের সঙ্গে যুক্ত। তাই একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল শেয়ারবাজার গড়ে তোলার জন্য কর নীতির সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিএসইর এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন, এসএমই খাত উন্নত হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজারে আরও সহজ ও সুবিধাজনকভাবে অংশ নিতে পারবেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬