Logo

আর্থিক প্রতিবেদনে ভয়াবহ জালিয়াতি: ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের মুখোশ উন্মোচন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের আর্থিক প্রতিবেদনে ১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বিশাল গরমিল উন্মোচন করেছেন নিরীক্ষক যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পকেট কাটার এক নগ্ন দলিল হিসেবে সামনে এসেছে। কোম্পানিটির উদ্যোক্তা এবং পরিচালকরা নিজেদের ব্যক্তিগত পকেট ভারী করতে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থকে চরমভাবে পদদলিত করছেন। নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে যে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আবসার অ্যান্ড ইলিয়াস এন্টারপ্রাইজ’ এবং ‘ইন্ট্রাকো অটোমোবাইলস’ থেকে বছরের পর বছর ধরে ৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা লভ্যাংশ পাওনা থাকলেও তা আদায় করার কোনো গরজ দেখাচ্ছে না। এর অর্থ হলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ বঞ্চিত করে সেই অর্থ পরিচালকদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কোম্পানিতে অলস পড়ে থেকে তাদেরই সুবিধা দিচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের সাথে এই প্রতারণার এখানেই শেষ নয় বরং কোম্পানিটি এখন ‘জেড’ ক্যাটাগরির কলঙ্ক গায়ে মেখেছে। মাত্র ১.২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সময়মতো বিতরণ না করার ধৃষ্টতা দেখানোর কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটিকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দিয়েছে। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন মার্জিন ঋণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একদিকে পাওনা লভ্যাংশ আদায় নেই অন্যদিকে ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণে গড়িমসি—এই দ্বিস্তরীয় অব্যবস্থাপনা প্রমাণ করে যে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানাকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করে না।

আর্থিক বিশৃঙ্খলার পাহাড় জমেছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ে যেখানে ৫ কোটি ১৯ লাখ টাকার অগ্রিম আয়কর কয়েক বছর ধরে ঝুলে থাকলেও তা সমন্বয় করার কোনো উদ্যোগ নেই। এছাড়া শ্রমিকদের হকের ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ডব্লিউপিপিএফ ফান্ড কয়েক বছর ধরে পড়ে থাকলেও তা শ্রম আইন অনুযায়ী বিতরণ না করে আইনি লঙঘন চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এমনকি আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস)-১৬ মেনে লিজ হিসাব না করার মতো পেশাদারিত্বহীনতাও ধরা পড়েছে নিরীক্ষায়। এই বিশৃঙ্খল হিসাববিদ্যার আড়ালে বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত অবস্থা থেকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে।

ব্যবসায়িক পতনের দিক থেকেও কোম্পানিটি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর এই ছয় মাসে কোম্পানিটির মুনাফা ধসে পড়েছে ৫৩ শতাংশ। গত বছরের ০.৭৩ টাকা শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) এই বছর কমে মাত্র ০.৩৪ টাকায় ঠেকেছে। ২০১৮ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া এই কোম্পানির প্রায় ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিক সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হলেও মাত্র ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিক পরিচালকরা পুরো কোম্পানিকে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো ব্যবহার করছেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬