Logo

আইপিও নেই, মুনাফা নেই: শ্মশানে পরিণত হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৯ মার্চ, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

শেয়ারবাজারের বর্তমান অস্থিরতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র তিন মাসে প্রায় ১৩ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট শেয়ারশূন্য হওয়া বাজারের জন্য একটি চরম অশনিসংকেত। ২০২৫ সালের শেষ দিকে শেয়ারহীন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার থাকলেও ২০২৬ সালের মার্চের শেষ নাগাদ তা ৩ লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, গত কয়েক মাসে ১২ হাজার ৮৭৪ জন বিনিয়োগকারী বাজার থেকে তাদের অবশিষ্ট পুঁজি সরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে দেশের ১৬ লাখ ৫০ হাজার সক্রিয় অ্যাকাউন্টের মধ্যে ২৩ শতাংশই এখন পুরোপুরি ফাঁকা, যা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের চরম হতাশা ও বাজারের প্রতি অনাস্থার প্রতিফলন।

সেকেন্ডারি বাজারে মুনাফার খরা এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন লোকসান সয়েই বাজার ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। বাজারে ভালো মানের শেয়ারের অভাব এবং দীর্ঘ সময় ধরে নতুন আইপিও না আসা অনেক অ্যাকাউন্টকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। বিশেষ করে যারা আইপিও নির্ভর ছিলেন, তারা এখন বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরোপুরি নিরাশ।

অন্যদিকে, সরকারি ট্রেজারি বন্ডে সুদের হার বেশি হওয়ায় এবং তুলনামূলক নিরাপদ হওয়ায় পুঁজিবাজার থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। মুদ্রার অবমূল্যায়ন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি সতর্ক অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখতে বিও রক্ষণাবেক্ষণ ফি ৪৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা করেছে এবং আইপিও আবেদনের শর্ত শিথিল করেছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, এই সামান্য নীতিগত ছাড়ে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে না। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানির দামের অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মনে এমন এক গভীর সংশয় তৈরি করেছে যে, তারা আর নতুন করে ঝুঁকি নিতে সাহস পাচ্ছেন না।

বাজারে আস্থার এই চরম সংকট কাটাতে এবং বিনিয়োগকারীদের পুনরায় সক্রিয় করতে কেবল নামমাত্র সুবিধা নয়, বরং শক্তিশালী ও টেকসই কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬