Logo

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

ইরানের রাজধানী তেহরানে শনিবার হামলার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এই হামলাগুলো শনিবার সকালে চালানো হয়েছে। হামলার সময় তেহরানের কয়েক লাখ মানুষ কর্মস্থলে এবং শিশুরা স্কুলে ছিল। তেহরানের বাসিন্দারা আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার কথা বর্ণনা করেছেন।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাও প্রক্রিয়াধীন। আর আলজাজিরাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের ওপর এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান হিসেবে পরিচালনা করা হয়েছে।

আরব সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজের ইরান স্টাডিজ ইউনিটের পরিচালক মেহরান কামরাভা আলজাজিরাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানে আক্রমণ করবে, বিষয়টি কয়েকদিন আগেও জোরাল ছিল না। তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান’ আলোচনা নস্যাৎ করার চেষ্টা করছিল।

কামরাভা আরও বলেন, গত বছরের জুনের মতো এবারও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা লাইনচ্যুত করার লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলছেন, ‘আমার মনে হয় ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে এমন এক কোণঠাসা অবস্থায় নিয়ে গেছেন যেখান থেকে তাঁর ফিরে আসার পথ ছিল না। তথাকথিত নৌবহর (আরমান্ডা), বিশাল সামরিক সমাবেশ এবং গত দেড় বছর ধরে ইসরায়েলকে ক্রমাগত সবুজ সংকেত দেওয়া- সব মিলিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই ইসরায়েলিরা ট্রাম্পকে বাধ্য করেছে। এই সন্ধিক্ষণে ট্রাম্প ইসরায়েলকে ‘না’ বলতে পারেননি।’

গত মাসে তীব্র আন্দোলনের সময় থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার হুমকি দিচ্ছিলেন। ব্যাপক প্রাণহানির পর বিক্ষোভ কিছুদিন বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সরকারবিরোধী সমাবেশ হয়। সম্ভাব্য হামলা এড়াতে গত বৃহস্পতিবারও সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বৈঠক করেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্প তেহরানকে ১০ দিন সময় দিয়েছিলেন। এ সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ইরানে হামলা হলো।

ইরানের পক্ষ থেকে হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়নি। তবে এর আগে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের দেশটির শাসকরা সতর্ক করে বলেছিলেন, হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা হবে। আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬