রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের যে ঘোষণা এসেছে, তা কেবল একটি কাগুজে সিদ্ধান্ত নয় বরং প্রান্তিক কৃষকের মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর এক শক্তিশালী হাতিয়ার।
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে শস্য, মৎস্য ও পশুপালনসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট সকল খাতের ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতারা এই সুবিধার আওতায় আসছেন। ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার এই বিশাল অংকের বোঝা নামিয়ে দিয়ে সরকার প্রায় ১২ লাখ কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোর যে ঝুঁকি নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সাহসী এবং সময়োপযোগী।
এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামবাংলার অর্থনৈতিক চিত্রে এক বিশাল ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঋণের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া কৃষকরা এখন কিস্তির টাকা বাঁচিয়ে উন্নত মানের বীজ এবং আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন, যা জাতীয় উৎপাদনে অভাবনীয় গতি আনবে। মূলত মহাজনী ঋণের মরণফাঁদ থেকে কৃষকদের রক্ষা করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাথার ওপর থেকে ঋণের পাহাড় সরে যাওয়ায় কৃষকরা যেমন নতুন করে ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও এটি বড় ভূমিকা রাখবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আনলে দেখা যায়, ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করে কৃষি বিপ্লবের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই ধারাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ নিশ্চিত করল।
সরকারের এই পদক্ষেপ কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা নয়, বরং এটি গ্রাম থেকে শহরমুখী অভিবাসন রোধ এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক মহাপরিকল্পনা। ঋণের বোঝা মুক্ত কৃষকের হাত ধরেই বাংলাদেশ এখন আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে আত্মনির্ভরশীলতার পথে হাঁটার স্বপ্ন দেখছে।