অপ্রত্যাশিত দরপতনের মধ্য দিয়ে আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন শেষ করেছে দেশের পুঁজিবাজার। টানা চার কার্যদিবস ধরে সূচক নিম্নমুখী থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের বিস্ময় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজার আরও শক্তিশালী হবে এবং লেনদেনে গতি আসবে—এমন ব্যাপক প্রত্যাশা থাকলেও তার প্রতিফলন তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায়নি। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো সংগত কারণ নেই।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সূচক যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল, বর্তমান পতনের গতি সেই তুলনায় ততটা তীব্র নয়। সাধারণত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে কিছুটা সময় লেগে থাকে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিনিয়োগকারীদের হুজুগে পড়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং ধৈর্য ও সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৩ দশমিক ২০ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ৫ হাজার ৪৬৫ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ডিএসইএস সূচক ১০ দশমিক ১৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৫ দশমিক ০৯ পয়েন্টে এবং ব্লু-চিপ সূচক ডিএসই-৩০ ১২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৭ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে নেমেছে।
লেনদেনের চিত্রে দেখা যায়, ডিএসইতে আজ মোট ৩৯২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ৪৬টির দর বেড়েছে এবং ৩১৩টির দর কমেছে। বাকি ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর অপরিবর্তিত ছিল। টাকার অঙ্কে আজ লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩৮১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা কম। গত কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৩৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) মন্দাভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এদিন সিএসইতে ১৩ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ৮ কোটি টাকা কম। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৩টির, কমেছে ১২০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টির। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৩ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৫১৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নীতিগত স্থিতিশীলতা ফিরে এলে খুব দ্রুতই বাজারে পুনরায় ইতিবাচক ধারা ফিরে আসবে।