শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের উদ্যোক্তা, পরিচালক এবং প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিএসইসির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূলত আইপিও তহবিলের সঠিক ব্যবহার না করে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে আবাসন ব্যবসায় সম্পৃক্ত হওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কারণেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিএসইসি জানিয়েছে, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ১৮৩ জন উদ্যোক্তা, পরিচালক এবং প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারের ধারণকৃত শেয়ারের বিদ্যমান ‘লক-ইন’ পিরিয়ড বা শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও ৩ বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে কোম্পানিটি যদি তাদের প্রস্তাবিত ৩২ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারে (রাজউক অকুপেন্সি সনদসহ), সেই সময় পর্যন্ত এই ‘লক-ইন’ বহাল থাকবে। এই দুটির মধ্যে যা পরে ঘটবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে কোম্পানিটি ৯৫ কোটি টাকা আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলন করেছিল ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কারখানা নির্মাণের জন্য। কিন্তু সেই তহবিলের পূর্ণ ব্যবহার সম্পন্ন না করেই ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তারা তেজগাঁওয়ে একটি ৩২ তলা ‘টাইম স্কয়ার’ ভবন নির্মাণের ঘোষণা দেয়, যা তাদের মূল ব্যবসা ও সংঘস্মারকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদনহীন এই প্রকল্পের নানা অসংগতি ধরা পড়ে।
বিএসইসি মনে করছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল। এই খবরের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থান ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলোকে আরও স্বচ্ছ হতে বাধ্য করবে।