শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ২০ দিন পর দুটি মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার মামলা দুটি করেন সংঘর্ষে আহত শালচূড়া ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন ও ভারুয়া গ্রামের হাসিবুল হাসান শান্ত। মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝিনাইগাতী থানার ওসি আমিরুল ইসলাম।
দুটি মামলায় জামায়াতে ইসলামীর ১২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ৩০০-৪০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন– শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের আমির আজহারুল ইসলাম মিস্টার, ঝিনাইগাতীর আমির নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি ফরহাদ হোসেন; একই উপজেলার শিবির সেক্রেটারি মোসলেহ উদ্দীন।
গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতীতে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় নিহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। আহত হন উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী। এ ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত জামায়াত নেতার স্ত্রী মারজিয়া। মামলায় বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ ২৩৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয় ৫০০-৬০০ জনকে। পরে ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বিএনপি প্রার্থীসহ ৪০ শীর্ষ নেতার জামিন মঞ্জুর করেন।
শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীকেও আসামি করা হয়েছে। এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক। মামলায় ২৬ ধারা সংযোজন করা হয়েছে। কিন্তু বিএনপির আহতদের মধ্যে গুরুতর জখম কেউ ছিলেন না। কাজেই ২৬-এর সার্টিফিকেট পাওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরা নিরস্ত্র ছিলাম। তারা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন। আমাদের নেতা রেজাউল করিমকে হত্যা করা হয়েছে। সে ঘটনায় মামলা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হেনস্তা করার জন্য জামায়াত নেতাকর্মীদের নামে পাল্টা মামলা হলো। আমাদের নেতাকর্মীরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেবেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমানের ভাষ্য, জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এতে তাদের ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বাদী আমজাদের বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি। একজনের চোখ নষ্ট হয়েছে। উপজেলা যুবদলের এক নেতার মাথায় অনেক সেলাই লেগেছে। বেশ কয়েকজন পঙ্গুত্ব বরণ করতে পারেন। কাজেই মামলায় কোনো মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়নি। বরং জামায়াত আমাদের সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।