Logo

চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় চলছে দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে রোববার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো শ্রমিক–কর্মচারীদের কর্মবিরতি চলছে। সকাল ৮টা থেকে শ্রমিকেরা বন্দরের বাইরে বিক্ষোভের চেষ্টা করছেন। তবে কর্মবিরতি ও আন্দোলন ঘিরে সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বন্ধ রাখতে নির্দেশনা জারি করেছে সিএমপি পুলিশ। রোববার ভোর থেকে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো বন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। সিএমপি বন্দরের আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যে আগামী এক মাস বন্দর এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দরের ৪ নম্বর গেটে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাইরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, স্কপসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। তবে তারা কাজে যোগ না দেওয়ায় সব ধরনের ট্রাক ও লরি প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। এতে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি স্থবির হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার বন্দরে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে চলছে বন্দরের অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম। বন্দরের ভেতরে কোনো বিক্ষোভকারী যেন ঢুকতে না পারে, সেজন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতাদের রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় কালো পতাকা মিছিল বের করার কথা রয়েছে। আগের দিন শনিবার থেকে সংগঠনটি এই কর্মসূচি পালন করছে। তাদের সঙ্গে স্কপসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা যোগ দিয়েছেন।

ওই দিনই সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নম্বর জেটি গেট, কাস্টমস মোড় ও সল্টগোলা ক্রসিংসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘কেপিআই’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, প্রতিদিন বিপুল পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে এসব এলাকায় যানজটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বন্দর এলাকায় সভা–সমাবেশের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যা জাতীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮–এর ২৯ ও ৩০ ধারার ক্ষমতাবলে অস্ত্র, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য বহন এবং সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬-এ অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ ও আদালতের রায়ের প্রতিবাদে বন্দর শ্রমিক–কর্মচারীরা এই কর্মবিরতি ও ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। কর্মবিরতির কারণে রাজস্ব ক্ষতি নিরূপণ এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে চার কর্মচারীকে ঢাকার পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি, অফিস চলাকালে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সিএমপির বন্দর জোনের ডিসি আমিরুল ইসলাম বলেন, “বন্দর এলাকার ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। যেকোো ধরনের কর্মসূচি, জমায়েত নিষিদ্ধ রয়েছে। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এই উদ্যোগ।”

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬