বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বন্ড মার্কেট নিয়ে যে দীর্ঘমেয়াদী আশার বাণী শোনাচ্ছেন, তা আদতে বাজারের বর্তমান মৃতপ্রায় অবস্থাকে আড়াল করার এক নির্লজ্জ কৌশল। দায়িত্ব নেওয়ার পর দেড় বছরে একটি আইপিও অনুমোদন দিতে না পারা এই কমিশন যখন ব্যাংক নির্ভরতা কমানোর নসিহত দেয়, তখন তা হাস্যকর শোনায়। শিল্পায়নের জন্য বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের পথ রুদ্ধ করে রেখে অর্থনীতির চাকা সচল করার দাবি স্রেফ স্ববিরোধিতা।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঞ্চয়পত্রকে রাতারাতি বন্ডে রূপান্তরের পরিকল্পনা তাত্ত্বিকভাবে শুনতে ভালো লাগলেও প্র্যাকটিক্যাল মার্কেটে এটি একটি অবাস্তব কল্পনা। ১৬ শতাংশ সুদহারের এই চরম অস্থির বাজারে বিনিয়োগকারীরা যেখানে মূলধন রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে নতুন বন্ডের প্রতি আকর্ষণ তৈরির দাবি স্রেফ আইওয়াশ। ব্যাংক ঋণের একক সীমা ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজির সংকটে ফেলবে, অথচ পুঁজিবাজারে আসার পথ আগেই আইপিও ফাইল বাতিলের মাধ্যমে আটকে রাখা হয়েছে।
বন্ড মার্কেট উন্নয়নে সরকারের ঋণকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হলেও রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বাইরে কর্পোরেট বন্ডে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নেই। কোম্পানি খেলাপি হলে কঠোর ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বর্তমান বিএসইসি প্রশাসনের অধীনে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তাতে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কিত। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ছাড়া ৫-৭ বছরের যে সময়সীমা গভর্নর বেঁধে দিয়েছেন, তা মূলত বর্তমান ব্যর্থতা থেকে জনদৃষ্টি সরানোর একটি দীর্ঘমেয়াদী টালবাহানা।
পুরো সেমিনারের মূল সুর ছিল তাত্ত্বিক বুলি এবং একে অপরের পিঠ চাপড়ানো, যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লোকসান বা বাজারের তারল্য সংকট নিয়ে কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। নীতিনির্ধারকদের এই অদূরদর্শী এবং স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তগুলো পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে একে একটি গভীর আইনি ও আর্থিক গোলকধাঁধায় বন্দি করে ফেলছে। বন্ড মার্কেটের নাম করে মূলত ব্যাংক খাতের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা চলছে, যার চড়া মাশুল দিতে হবে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও দেশের ঝিমিয়ে পড়া শিল্পখাতকে।