ব্যবসায়িক পরিসর আরও বিস্তৃত করতে সেমিকন্ডাক্টর ও প্রপার্টি খাতে প্রবেশের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এসিআই (ACI) পিএলসি। কোম্পানিটি মূলত উচ্চপ্রযুক্তির বাজার এবং আবাসন খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এই উদ্যোগ নিয়েছে।
কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসিআই সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড এবং এসিআই প্রপার্টিজ লিমিটেড নামে দুটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এসিআইয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই ব্যবসা খাতগুলো কোম্পানির সামগ্রিক ব্যবসায়িক পোর্টফোলিওকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে।
আর্থিক কাঠামোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন গঠিত হতে যাওয়া এসিআই সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে এসিআই প্রপার্টিজ লিমিটেডের ক্ষেত্রেও একই পরিমাণ মূলধন রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে উভয় কোম্পানিতেই এসিআই পিএলসির ৮৫ শতাংশ শেয়ার বা মালিকানা থাকবে।
বর্তমানে এসিআইয়ের বহুমুখী ব্যবসায়িক কাঠামো ১৭টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং ৫টি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের বর্তমান ব্যবসায়িক ইউনিটের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা, ভোক্তা পণ্য, কৃষি ব্যবসা, মোটরস এবং রিটেইল চেইন। এর মধ্যে দেশের বৃহত্তম খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্ক ‘স্বপ্ন’ পরিচালনা করছে তাদের রিটেইল চেইন বিভাগ, যার ৬৮৩টিরও বেশি আউটলেটের মাধ্যমে প্রতিদিন এক লক্ষাধিক ক্রেতা সেবা পাচ্ছেন। এছাড়া ওষুধ, টয়লেট্রিজ, লবণ, আটা, কৃষিযন্ত্র ও মোটরসাইকেল খাতেও কোম্পানিটির শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।
কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে এসিআইয়ের সমন্বিত রাজস্ব আগের বছরের তুলনায় ১০.৯৩ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৭৯০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে কোম্পানির মোট মুনাফাও বেড়েছে ১৫.৪২ শতাংশ। যদিও সুদের হার ও ঋণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নিট লাভের একটি অংশ ব্যাহত হয়েছে, তবুও গত বছরের ১২৮ কোটি টাকার সমন্বিত লোকসান কমে এবার ৪১ কোটি ৯১ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের ফলাফলে এসিআইয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ সময়ে কোম্পানিটি ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা সমন্বিত মুনাফা অর্জন করেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে বড় অঙ্কের লোকসান ছিল। গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশও অনুমোদন করেছে কোম্পানিটি।