শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৯টি কোম্পানির সীমাহীন অনিয়ম আর বিনিয়োগকারীদের প্রতি চরম অবহেলার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটলো। নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিগুলোকে শাস্তিস্বরূপ বাজারের সর্বনিম্ন স্তর বা ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।
‘এ’ এবং ‘বি’ থেকে সরাসরি পতন
ডিএসই-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কোম্পানিগুলো বাজারের সাধারণ নিয়ম-কানুন তোয়াক্কা না করে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেছে। নিচে কোম্পানিগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:
‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে সরাসরি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পতন: ১. বেস্ট হোল্ডিংস ২. জেমিনি সী ফুড ৩. আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ৪. বীচ হ্যাচারি ৫. ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পতন: ৬. কাট্টলি টেক্সটাইল ৭. ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডস ৮. এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস ৯. ফু-ওয়াং ফুড
বিনিয়োগকারীদের মাথায় আকাশ: বন্ধ হচ্ছে মার্জিন ঋণ
এই কোম্পানিগুলোর ক্যাটাগরি অবনমনের ফলে বিনিয়োগকারীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার কেনার জন্য এখন থেকে কোনো মার্জিন ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, এখন থেকে এই শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগ করা হবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিনিয়োগকারীদের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে লেনদেন করতে হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের হুঁশিয়ারি: “একটি কোম্পানি যখন ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে সরাসরি ‘জেড’-এ নেমে আসে, তখন বুঝতে হবে ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের গলদ আছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের রক্ত পানি করা টাকা নিয়ে যারা এজিএম পর্যন্ত করতে পারে না, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, এই কোম্পানিগুলো গত এক বছরে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো এজিএম আয়োজন করতে পারেনি। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, নিয়মিত এজিএম না করা মানেই কোম্পানির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা। ফলে বাজারকে কলুষমুক্ত করতে এবং বিনিয়োগকারীদের সাবধান করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা।