সূচকের সামান্য পতনের মধ্য দিয়ে আজ দেশের শেয়ারবাজারে সপ্তাহের লেনদেন শুরু হয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন সূচক কিছুটা কমলেও বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। দিনের শুরু থেকে দুপুর ২টার কিছু আগে পর্যন্ত সূচক আগের দিনের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে ছিল, তবে শেষ পর্যায়ে বিক্রির চাপ বাড়ায় সূচক কিছুটা নেতিবাচক হয়ে পড়ে। তবে দিনশেষে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও আতঙ্কমুক্ত ছিল বলে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৬৯ পয়েন্টে। একই দিনে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস ৫ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ দশমিক ৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৬৭ দশমিক ১৩ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে ১৩১টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১৯৯টির দর কমেছে এবং ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আজ ডিএসইতে প্রায় ৩৮৫ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। গত কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৩৮ কোটি ১০ লাখ টাকা, অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৪৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
অন্যদিকে অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৫ কোটি ৫১ লাখ টাকার তুলনায় অনেক বেশি। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৫২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৩টির দর বেড়েছে, ৬১টির কমেছে এবং ১৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই আজ ৬ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬৬৫ দশমিক ২২ পয়েন্টে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সূচকের পতন হলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো আতঙ্ক লক্ষ্য করা যায়নি। বরং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সতর্কতার সঙ্গে লেনদেনে অংশ নিচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।