ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে দেশের পুঁজিবাজারে আবারও স্পষ্টভাবে দুর্বলতার চিত্র ফুটে উঠেছে। গত সপ্তাহে (১৪–১৮ ডিসেম্বর) ঢাকা ও চট্টগ্রাম—উভয় শেয়ারবাজারেই সূচক ও লেনদেন কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার থেকে কমে গেছে ১০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। সপ্তাহ শেষে তা নেমে আসে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সূচকের পতনের পাশাপাশি বাজারের সামগ্রিক মূল্য কমেছে প্রায় ২ শতাংশ, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতিরই প্রতিফলন।
লেনদেনের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৫৪৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই লেনদেন সংকোচন মূলত বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান ও নতুন করে ঝুঁকি নিতে অনীহার ইঙ্গিত দেয়।
সূচক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩২ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৮৩১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে শরিয়াহ সূচকও ৩ শতাংশ কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১ পয়েন্টে। অর্থাৎ, বাজারে পতনের চাপ ছিল সার্বিক ও ব্যাপক।
দর পরিবর্তনের পরিসংখ্যান বাজারের দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে। বিপরীতে দর বেড়েছে মাত্র ৩২টি প্রতিষ্ঠানের, যা বাজারে ইতিবাচক শেয়ারের সংখ্যা কতটা সীমিত ছিল, তা বোঝায়।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। একই সঙ্গে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৪৭ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৬২৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৯টির দর কমেছে, যা বাজারের সার্বিক দুর্বলতা নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, বছরের শেষ প্রান্তিকে এসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের স্থবিরতা, আর্থিক খাত নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ধারাবাহিক সূচক পতন—সব মিলিয়ে বাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। নতুন করে বড় অংকের বিনিয়োগ আসার আগে বিনিয়োগকারীরা ‘দেখি-দেখি’ অবস্থানে রয়েছেন, যার ফলশ্রুতিতেই লেনদেন ও বাজার মূলধনে এই ধস দেখা যাচ্ছে।