Logo

দুটি প্লান্ট চুক্তিহীন, টিকে থাকা নিয়েই প্রশ্ন খুলনা পাওয়ারের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের দুটি পাওয়ার প্লান্টের চুক্তির মেয়াদ গত বছরের মার্চে শেষ হলেও এখনো সরকার নবায়ন করেনি। চুক্তিহীন অবস্থায় কার্যক্রম চালানোর এই বাস্তবতা কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা তৈরি করেছে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে নিরীক্ষক।

কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাবেই উঠে এসেছে এই ভয়াবহ চিত্র। নিরীক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, আর্থিক হিসাবের ২.৭ নং নোটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভোলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে খুলনা পাওয়ারের ইউনিট-২ ও ইউনিট-৩ এর বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) ২৩ মার্চেই শেষ হয়ে গেছে।

চুক্তি শেষ হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পর, ২৯ এপ্রিল বিপিডিবি কোম্পানিটিকে ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে উৎপাদন চালু রাখতে নির্দেশ দেয়। উৎপাদন শুরু হলেও দুই বছরের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক পিপিএ এখনো হয়নি। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ হবে কি না—এই প্রশ্নে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে নিরীক্ষক।

এই অনিশ্চয়তাই খুলনা পাওয়ারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ইতোমধ্যে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফায় ভয়াবহ ধস নেমেছে। পাশাপাশি ওভারহেড খরচ বহন ও দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়েও গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়। নিরীক্ষক আরও জানিয়েছেন, জমি বাদে কোম্পানিটির অন্যান্য স্থায়ী সম্পদের প্রকৃত মূল্য আর্থিক হিসাবে দেখানো মূল্যের তুলনায় কমে গেছে—অর্থাৎ সম্পদ ইমপেয়ারড হয়েছে। কিন্তু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সেই ইমপেয়ারমেন্ট স্বীকার করেনি। এর মাধ্যমে আর্থিক হিসাবে অতিরঞ্জিত সম্পদ দেখানো হয়েছে বলে মন্তব্য নিরীক্ষকের।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খুলনা পাওয়ারের পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালক ছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৩০.০১ শতাংশ। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ টাকা ২০ পয়সায়—যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

চুক্তিহীন বিদ্যুৎ উৎপাদন, মুনাফার ধস, অতিরঞ্জিত সম্পদ—সব মিলিয়ে খুলনা পাওয়ার এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে। প্রশ্ন একটাই, এই সংকট থেকে বেরোবার পথ আদৌ আছে কি?

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬