Logo

আর্থিক প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়ম: বীমা খাত নিয়ে কঠোর অবস্থানে বিএসইসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
প্রিন্ট তারিখ: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ২৭টি বীমা কোম্পানির সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে গুরুতর অডিট পর্যবেক্ষণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কমিশনের মতে, এসব অনিয়ম ও দুর্বলতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা, আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা এবং সামগ্রিকভাবে পুঁজিবাজারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

২০২৪ অর্থবছরের বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার পর বিএসইসি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালার আওতায় সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিএসইসি জানায়, তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানিগুলোর সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষকরা তাদের অডিট রিপোর্টে প্রতিকূল মতামত, কোয়ালিফাইড মতামত, বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ, ‘গোয়িং কনসার্ন’ হুমকি এবং বস্তুগত অনিশ্চয়তার মতো গুরুতর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। কমিশনের মতে, এসব মন্তব্য আর্থিক প্রতিবেদন, কর্পোরেট সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত দুর্বলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

বিশেষ করে ‘গোয়িং কনসার্ন’ ঝুঁকি এবং বস্তুগত অনিশ্চয়তা সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণগুলোকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে বিএসইসি। কারণ, এসব বিষয় সরাসরি কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এবং পলিসি হোল্ডারদের দায় পরিশোধের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কমিশন মনে করে, দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতা ও জনসাধারণের বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল বীমা খাতে এ ধরনের দুর্বলতা বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিএসইসি কর্তৃক চিহ্নিত বীমা কোম্পানির তালিকায় রয়েছে— এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ, জনতা ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, রূপালী ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, সিকদার ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স।

বিএসইসির কর্পোরেট রিপোর্টিং বিভাগ থেকে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানকে পাঠানো চিঠিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং বীমা খাতের অখণ্ডতা রক্ষায় প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আইডিআরএ’র দ্রুত ও দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে উন্নত তদারকি, বিশেষ বা ফরেনসিক অডিট এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কমিশন আরও জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিএসইসি ও আইডিআরএ’র সমন্বিত এই উদ্যোগ বীমা খাতের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

বর্তমানে দেশে মোট ৮২টি বীমা কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৫৮টি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত, যা খাতটির একটি বড় অংশ। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৩টি নন-লাইফ (সাধারণ) এবং ১৫টি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। সংশ্লিষ্টদের আশা, সময়োপযোগী ও কঠোর নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বীমা খাত ধীরে ধীরে বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আরও টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব হয়ে উঠবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬